তেল চুরিতে চ্যাম্পিয়ান পাবেল গ্রুপ পুলিশের চোখে কালো চশমা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৪২ পিএম
# আমি না নামালেও আরো ৫০জন তেল নামাবে : ক্যাশিয়ার মাসুদ
# সাইদুর রহমার রিপন অনেকদিন ধরে এসব করে : মীর সোহেল
ফতুল্লা থানার প্রায় ১০০ গজ এর মধ্যে যমুনা ও মেঘনা ডিপো থেকে দির্ঘদিন ধরে চোরাই তেলের ব্যবসা করে আসছে মীর্জা পাবেল ও সাইদুর রহমান রিপন এর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে পুরো চোরাই তেলের ব্যবসা। যমুনা ও মেঘনার ডিপোর অপর পাশে রাস্তার পাশে দোকানের পিছনের দিন রাত ২৪ ঘন্টা তেলের গাড়ি থেকে তেল নামিয়ে প্রকাশে চলে চোরাই তেল এর ব্যবসা।
ডিপোর আশেপাশে এলাকা জুড়ে রয়েছে প্রায় ১২/১৫ টি চোরাই তেল নামানোর গোপন স্থান। পঞ্চবটি থেকে ফতুল্লা ডিপো পর্যন্ত ১০/১২ টি চোরাই তেলের দোকান রয়েছে যা মীর্জা পাবেল নিয়ন্ত্রণ করে। তার পালিত বাহিনির সদস্যরা তেলচোর পাবেল এর অন্যতম সহযোগী ও ক্যাশিয়ার মাসুদ যিনি সব সময় অবস্থান করে মেঘনা গেট এর সামনে।
ডিপোর পাশে রয়েছে প্রাইম ফিজিওথেরাপি সেন্টার তার নিচ তলায় রয়েছে প্রায় ৪/৫ টি তেলের দোকান। তবে মেঘনা ও যমুনা ডিপো দুইজনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে যমুনা নিয়ন্ত্রণ করেন সাইদুর রহমান রিপন এবং মেঘনা নিয়ন্ত্রণ করে আজমীর ওসমানের নাম ব্যবহার করে মীর্জা পাবেল।
সূত্র মতে জানা যায়, ফতুল্লা থানা যুবলীগের সভাপতি ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওর্নাস এসোসিয়েশন ফতুল্লা ডিপু (যমুনা ও মেঘনা) শাখা কমিটির সভাপতি, মীর সোহেল আলীর পক্ষে এসব নিয়ন্ত্রণ করে সাইদুর রহমান রিপন। আর যমুনা ও মেঘনা ডিপোর চোরাই তেলের ব্যবসাকে কেন্দ্র করে কয়েক বছরে টোকাই থেকে কোটিপতি হয়েছে অনেকে।
ঠিক এমনি ভাবেই বর্তমানে ফতুল্লার যমুন ডিপোর চোরাই তেলের ব্যবসা নিয়ন্ত্রনে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পুত্র আজমেরী ওসমানের নাম দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহার করে আসছে চোর দলের প্রধান হোতা মীর্জা পাবেল ও তার ছোট ভাই মীর্জা বাবু (ওরফে) মেজর বাবু, তাইজুল, রানা, সুরুজাম্মান, পেয়ার আলী, সাগর, মামাতো ভাই খোকা, সেন্টু, রিপন, শিপলু এবং মাসুদ ওরফে ওলা মাসুদ। তাদের মধ্যে খোকা ও সেন্টু ছিলেন ভাগিনা ফরিদ ও ক্রসফায়ারে নিহত মমিনউল্লাহ ডেভিডের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।
সুত্র মতে আরো জানা যায়, প্রায় চার মাস আগের মীর্জা পাবেল নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ এর হাতে চোরাই তেলসহ আটক হন । কিন্তু পরে ছাড়া পান। তিনি এর আগেও বেশ কয়েকবার থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের হাতে আটক হয় তেলচোর পাবেল ও তার সহযোগীরা।
তেলচোর র্মীজা পাবেল এর ক্যাশিয়ার মাসুদ বলেন, আমি যদি এখান থেকে তেল না নামাই তাহলে আরো ৫০ জন আছে তেল নামানোর জন্য। আমি ডিপোতে কাজ করি অনেকদিন ধরে। সে কোন পদে আছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যারা ভিতরে কাজ করে তারা কর্মকর্তা আর আমি গাড়িতে তেল লোড করি। তবে তিনি পাবেল এর ক্যাশিয়ার কিনা সেটা বলাতে তিনি কথা এড়িয়ে যান।
বাংলাদেশ ট্যাংকলরী ওনার্স এসোসিয়েশন ফতুল্লা ডিপো (যমুনা ও মেঘনা) শাখা কমিটির সভাপতি মীর সোহেল আলী বলেন, ভাই সাইদুর রহমার রিপন কে সেটা আমি চিনি না। তবে যদি আমার নাম ব্যবহার করে তাহলে তাকে পুলিশে দিয়ে দেন। আমার জানা মতে এখানে কোন চোরাই তেল বিক্রি হয় না। আর রিপন কোন ছোট বাচ্চা না, সে মুহাম্মদ আলীর ভাতিজা। তারা অনেক বছর ধরে এটা করে আসছে সবাই তা জানে। সে একটি কমিটির সভাপতি আর আমি আরেকটি কমিটির সভাপতি। আপনি বলেছেন আমি বিষয়টি খবর নিয়ে দেখবো। এস.এ/জেসি


