Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

নাটের গুরু ধরা ছোঁয়ার বাহিরে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৮ আগস্ট ২০২৩, ০৯:০৫ পিএম

নাটের গুরু ধরা ছোঁয়ার বাহিরে
Swapno

 

# মাসদাইরে হামলায় মোট ৩৮ জন গ্রেফতার কিন্তু সম্বন্ধী বাহিনীর সদস্য নেছার প্রকাশ্যে।

 

 

সন্ত্রাস মাদক ও ভূমিদস্যু থাকবে না, সাধারণ মানুষ নিরাপদে রাস্তায় চলাফেরা করবে সকলের জালমানের নিরাপত্তা আমরা দেবো। এসব এখন কথার কথা। বর্তমানে দেখা মিলছে তার উল্টো টা নিজের ছায়াতলে সন্ত্রাস লালন করে বাহিরে সভা-সমাবেশে গিয়ে এসব নিয়ে নানা ধরনের বক্তব্য রাখেন নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান।

 

১৯ আগস্ট শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জ শহরের ১৩ নং ওয়ার্ড এর মাসদাইর এলাকায় আওয়ামীলীগ অফিস হোটেল ও দোকানসহ পথচারীদের মারধর করে সন্ত্রাসী কার্যকলাপ পরিচালনা করে সংসদ পূত্র অয়ন ওসমানের সম্বন্ধী ভিকি বাহিনী। এই হামলার বিষয়ে আওয়ামীলীগের এমপি শামীম ওসমান ও বিএনপির নেতাদের পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেওয়াতে সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ মানুষের মনে ধুম্রজাল।

 


এদিকে হামলার ৮ দিন পার হলেও এখনো ধরা ছোঁয়ার বাহিরে রয়েগেছে মূল আসামীরা। যা নিয়ে শহরময় চলছে সমালোচনার ঝড়। তবে এমপি শামীম ওসমানের ঘটনার সাথে জরিতদের বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়ার পর থেকে অভিযানে নামে জেলা ডিবি পুলিশ। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে যাকে যেভাবে পেরেছে তাকে সেভাবে ধরে এনেছে। যাদের মধ্যে ঘটনার সাথে জড়িত না এমন ব্যক্তিকেও আটক করে ডিবি পুলিশ।

 

সেটা নিয়ে চলছে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভ। তবে হামলার ঘটনায় রূপগঞ্জ থানা পুলিশের একজন কর্মকর্তা আহতের ঘটনায় মূল আসামীদের না ধরায় পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই হামলার স্কুল ছাত্র, ঠেলাগাড়ি চালক, হোসিয়ারী কর্মী, রংমিস্ত্রী, সহ নানা পেশার মানুষ সহ মোট র‌্যাব ও ডিবি পুলিশ মিলিয়ে ৩৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়। কিন্তু ৮ দিনে হলেও গ্রেফতার হয়নি ভিকি- নেছারগংরা।

 

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট শনিবার রাত ৯ টায় ১৩ নং ওয়াডের তালা ফ্যাক্টরির মোড় এবং ঈদগাহ মাঠের সামনে তান্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। এসময় পথচারী, দোকানদার, পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়। এছাড়াও অন্তত ১৮টি দোকান ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়। এছাড়াও অন্তত ১৮টি দোকান ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা।

 

১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানের অনুসারী জুবায়ের আহম্মেদ অমিও গ্রুপের সদস্যদের খোঁজ করতে এসেছিল মাসদাইর কবরস্থান সংলগ্ন এলাকার নেছার ও সাব্বির গ্রুপের লোকজন। তবে অমিও গ্রুপের কাউকে না পেয়ে তালা ফ্যাক্টরির সামনে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে তারা। মহড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে গেলে সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে দাওয়াতে আসা রূপগঞ্জের এক পুলিশ সদস্য তাদের ভিডিও করেন।

 

এই সময় সেই পুলিশ সদস্য ও পাশের এক মুদি দোকানীকে কুপিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। মহড়া দেয়ার সময় রাস্তায় পথচারী যাকেই সামনে পেয়েছে তাকেই কুপিয়ে আহত করেছে নেছার ও সাব্বিরের সন্ত্রাসী গ্রুপ। সিসিটিভি ফুটেজ, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্যমতে অনুসন্ধানে জানা গেছে, অয়ন ওসমানের সম্বন্ধী ভিকি বাহিনীর সদস্য নেছার ও সাব্বিরের নেতৃত্বে এই হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে ভিকি নির্দেশে নেছার-সাব্বির ঝুট সেক্টর নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজীসহ নানা অপকর্ম করে আসছিল।

 

সর্বশেষ ১৯ আগস্ট ভিকির নির্দেশে আধিপত্য বিস্তার ও শক্তির জানান দিতে এই মামলা চালিয়েছে নেছার-সাব্বির গ্রুপ। নাম না প্রকাশের শর্তে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে একাধিক গোয়েন্দা পুলিশ। তবে নেছার ও সাব্বিরকে গ্রেফতারের চেষ্টা করা হলেও ভিকিকে গ্রেফতারের বিষয় এখনো কোন সিদ্ধান্ত আসেনি বলে জানা যায় একাধিক সূত্রে।

 

এ ঘটনায় রবিবার রাতে ফতুল্লা মডেল থানার এএসআই কামাল হোসেন বাদী হয়ে সাব্বিরসহ আটজনের নাম ও অজ্ঞাত আরো ৫০জনকে আসামী করে মামলা করেন। শহর ও শহরতলী বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডিবি পুলিশ মামলার এজাহার নামীয় ৪জন সহ মোট ৩৮জনকে গ্রেফতার করে।

 

তবে এখনো নেছার-সাব্বির গ্রেফতার না হলেও গ্রেফতারকৃত ৩৮জনের মধ্যে ঘটনা সম্পর্কে অবগত নয় এমন ব্যক্তিদের গ্রেফতারের অভিযোগ উঠেছে। এদের মধ্যে সপ্তম ও দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থীও রয়েছে। এ ঘটনায় যে সাব্বিরকে গ্রেফতার করা হয়েছে সে এ ঘটনায় জড়িত নয়। জড়িত হচ্ছে মাসদাইর গুদারাঘাট এলাকার স্বপনের ছেলে সাব্বির।

 

আবার হাসান ও হোসেন নামে যে দুইজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে তারা হচ্ছেন ইসদাইরের গনী মোল্লার ছেলে। মূল আসামী হাসান ও হোসেন অয়ন ওসমানের একনিষ্ট হাসান ও হোসেন। মূল ঘটনায় যাদেরকেই গ্রেফতার কিংবা মামলার আসামী করা হয়েছে তার বেশির ভাগ নিরীহ মানুষগুলো। তবে হামলার বিষয়ে মূল আসামীদেরকে অন্তরালে রেখে নিরীহ মানুষগুলোকে হয়রানি করছে। সিসিটিভি ভিডিও ফুটেজে নেছারকে দেখা যাচ্ছে মামলায় তার নাম নেই। 

 

মাসদাইরে এলাকার একাধিক ব্যক্তি জানান, ভিকি ও নেছারগংদের বিরুদ্ধে মাসদাইর, বেশ কয়েকটি এলাকার মানুষের রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে বলেন, এমপির এমন আচরণে আমরা অনেকটাই ক্ষুদ্ধ। এখানে তাদের সম্মানের জন্য নিরীহ পরিবারগুলো ভোগান্তির শিকারে পরিণত করেছে। যার ফলে আত্মীয়রা বেঁচে গেলো আর নিরীহরা ফেঁসে গেলো। তারা কিছুদিন পর পরই বিভিন্ন গ্রুপের সাথে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসব সন্ত্রাসী বাহিনীর অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ কিন্তু ভয়ে কেউ মুখ খুলতে পারি না। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন