দৌলতের দুই ছেলেকে নিয়ে সৈয়দপুরে আতঙ্ক
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ আগস্ট ২০২৩, ০৯:১০ পিএম
# অয়ন ওসমানকে হাতিয়ার বানিয়ে সৈয়দপুরে চালিয়ে যাচ্ছে নানা অপকর্ম
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের ত্রাস হিসাবে পরিচিত গোগনগর ইউনিয়নের ৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক ও জেলা কৃষকলীগের সাবেক কমিটি সহ-সভাপতি ছিলেন নিহত দৌলত মেম্বার। তার বিরুদ্ধে একাধিক হত্যা, চাঁদাবাজি ও মাদক মামলা রয়েছে। তার দুই ছেলে মো. কাশেম সম্রাট ও ফয়সালের বিরুদ্ধেও নানা অপরাধের অভিযোগ রয়েছে বলে জানা যায়। নাসিম ওসমান সেতুর সামনে প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীদের হামলায় খুন হয়েছেন তিনি।
প্রতিপক্ষ ‘বিচ্ছু বাহিনীর’ হামলায় গুরুতর আহত দৌলত হোসেনকে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে তিনি মারা যান। দৌলত মেম্বারের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে পুরো গোগনগর এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার ৭ দিন আগে দৌলত মেম্বার বাহিনীর হামলায় গুরুতর আহত হন হাবিবুর রহমান ও রবিন আহমেদ নামে দু’জন। এদের মধ্যে থাইল্যান্ডের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়ে মৃত্যুর সাথে লড়াই করে বেঁচে আছেন রবিন আহমেদ (৪২)।
গত ২০২২ সালে ২০ জুন রাতে দৌলত মেম্বারের বড় ছেলে মো. কাশেম সম্রাটের নেতৃত্বে চর সৈয়দপুরে লুৎফর রহমানের মালিকানাধীন হাজী আহাম্মদ আলী ডক ইয়ার্ডে হামলা চালিয়ে হাবিবুর রহমান ও রবিন আহমেদকে কুপিয়ে আহত করে। ওই ঘটনায় দৌলত মেম্বারের ছেলে মোঃ কাশেম সম্রাটকে প্রধান আসামি করে ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন লুৎফর রহমান।
এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, দৌলত মেম্বার পুলিশের তালিকাভুক্ত চিহ্নিত অপরাধী। তার বিরুদ্ধে একাধিক চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। এলাকায় সে ভয়ঙ্কর দৌলত নামে পরিচিত ছিল। তার দুই ছেলে সম্রাট ও ফয়সাল দুজনই সন্ত্রাসী। ২০১৯ সালে নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সভাপতি আনসার আলী সাহেবের নিকট আত্মীয় জসীম উদ্দিন চৌধুরীকে চর সৈয়দপুর এলাকায় কামেস সম্রাট এর নিজস্ব ট্রান্সপোর্ট অফিসে হত্যা করে লাশ গুম করে লুকিয়ে রাখে ওই মামলায় দৌলত হোসেন ১ম আসামী ও তার ছেলে কাসেম সম্রাট ছিলো এজাহারভুক্ত আসামী।
এর আগে করিম নামে এক ব্যক্তিকে হত্যা করে তার বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছিল দৌলত হোসেন মেম্বার। ওই ঘটনায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে তার বাড়িঘর আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দিয়েছিল। এলাকায় সে এতোটাই ভয়ংকর ছিল যে তার বিরুদ্ধে কেউ মামলা করারও সাহস পায় না। সর্বশেষ নানা অপকর্মের হোতা দৌলত মেম্বার ২০১৯ সালের ১ মে পুলিশের ব্লকরেইডে গ্রেপ্তার হয়েছিল।
বর্তমানে নিহত দৌলত হোসেন মেম্বারের দুই ছেলে এলাকা জুড়ে চালিয়ে যাচ্ছে তাদের নানা অপরাধ কাজকর্ম যা দেখেও নিজেদের জানমালের কথা চিন্তা করে সকলে চুপ করে আছে। কিন্তু সৈয়দপুর এলাকা চেয়ারম্যান ফজর আলীকে পাত্তা না দিয়ে নিজের এখন এলাকার ডন হিসাবে পরিচিতি লাভ করেছে। নিজিদের শক্তির যোগান দিতে পালন করছে বিশাল এর সন্ত্রাসী বাহিনী। যা পুরো নিয়ন্ত্রণ করা হয় নতুন ব্রিজ এর সামনে গোল চত্ত্বর থেকে রানার মার্কেটে বসে। বর্তমানের সেটাই তাদের মূল ঘাঁটি হিসাবে পরিচিত।
তারা নারায়ণগঞ্জ চার আসনের এমপি শামীম ওসমানের পুত্র অয়ন ওসমানে সাথে মিলে রেখে চালিয়ে যাচ্ছে নানা ধরনের অপরাধ। পান থেকে চুন খসলেই জানানো হচ্ছে অয়ন ওসমান কে আর তিনি তাদের পক্ষ হয়ে করে দিচ্ছে সেটা। বিভিন্ন স্থানে ব্যবহার করা হচ্ছে অয়ন ওসমানের নাম। সামাজিক যোগাযোগ মাধম ফেসবুকে দেখে মিলে তাদরে নানা ধরনের ছবি।
এবং নিহত দৌলত হোসেন হত্যা মামলার আইনজীবী ও নারায়ণগঞ্জ জজ কোটের সাবেক পিপি এডভোকেট ওয়াজেত আলী খোকন এর সাথে মিলে আওয়ামীলীগের বিভিন্ন মিটিং মিছিলে যোগদান করেছে তারা। খোকন এর সহযোগিতায় জেলার আওয়ামীলীগের নেতাদের সাথে পরিচিত হয়ে নিজেকে বর্তমানে আওয়ামীলীগ নেতা হিসাবে পরিচয় দিতে শুরু করেছে সন্ত্রাসী কাসেম সম্রাট ও তার ভাই ফয়সাল মাদবর। এস.এ/জেসি


