Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অপরাধ বাড়ছে না.গঞ্জে

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৩, ০৮:৩৬ পিএম

অপরাধ বাড়ছে না.গঞ্জে
Swapno

 

# শহরে দিন-দুপুরে প্রকাশ্যে ছিনতাই হচ্ছে
# আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে হবে : হাজী নূরউদ্দিন

 

 

জীবনযাত্রার ব্যয় কয়েক গুণ বেড়ে যাওয়ায় সংকটে রয়েছে মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষ। অন্যদিকে আয় না বাড়ায় জীবনযাপনের খরচ মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে মানুষ। চাল, ডাল, তেল, চিনি, মাছ, মাংস, ডিম, এমনকি কাচাঁমরিচসহ সবজি থেকে শুরু করে নিত্য ব্যবহার্য পণ্যের দাম দফায় দফায় বেড়েছে। বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামাল দিতে নিত্যদিনের খাদ্যতালিকা থেকে কাটছাঁট হচ্ছে অনেক কিছু। অনেকে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ছে। অনেক পরিবারের লোকজন ঋনের চাপে হতাশাগ্রস্থ হয়ে বিভিন্ন অপরাধে জরিয়ে পড়ছে মানুষ।

 

কিন্তু অপরাধের মাত্রা কোন ভাবেই কমানো কিংবা নিয়ন্ত্রণ নেয়া সম্ভব হচ্ছে না বলে মনে করেন সচেতন মহল। এদিকে নারায়ণগঞ্জে অপরাধ বেড়েই চলছে। কিশোর গ্যাং, কিশোর আড্ডা, গলির মুখে মোটর সাইকেল মহড়া, সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে নিয়মিত ঝগড়া এমনকি খুনাখুনি এসব এখন নিত্য নৈমিত্তিক বিষয়। উঠতি বয়সি কিশোরদের অপরাধ নিয়ে সমাজে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি হয়ে হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে খোদ অভিভাবক মহলও রয়েছে চরম দুঃশ্চিন্তায়।

 

আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী বলছে এ বিষয়ে আইন প্রয়োগের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হলো অভিভাবকদের ভূমিকা। বেশি বেড়েছে ছিনতাই, চুরি, ডাকাতি, দস্যুতা ও মাদকসংক্রান্ত অপরাধ। নারায়ণগঞ্জ শহরের চাষাড়া থেকে নিতাইগঞ্জ পর্যন্ত বিভিন্ন মাকের্ট, ব্যাংক রাস্তায় প্রতিনিয়ত ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকায় নানা অপরাধের ঘটনা বেড়েই চলছে। এই অপরাধের চক্রের মাঝে শহরে ছিনতাইয়ের ঘটনা বেশি ঘটছে।

 

চক্রটি বিভিন্ন ব্যাংকের সামনে অবস্থান করে যারা টাকা নিয়ে বের হয় তাদের টার্গেট করে সুযোগ বুঝে অস্ত্র ঠেকিয়ে তাদের থেকে টাকা পয়সা ছিনতাই করে সব কিছু লুটে নেয়। আর এতে করে অনেকে তাদের জীনের শেষ সম্বলটাও হারান।  

 

গতকাল সাড়ে এগারোটার সময় কালিবাজার ব্রাক ব্যাংক থেকে ৫ লক্ষ টাকা তুলে বাড়িতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু তাকে ব্যাংকের সামনে থেকে টার্গেট করে এক ছিনতাইকারি। এক পর্যায়ের ২ নম্বর রেলগেট ফকিরটোলা মসিজেদর কাছাকাছি এলে তাকে কুইচ গিয়ার চাকু ধরে এক চিপায় নিয়ে ভয় দেখিয়ে পুরো ৫ লক্ষ টাকা নিয়ে দৌঁড় দেয়। ঠিক তখনি তিনি ছিনতাইকারী বলে চিৎকার দিয়ে উঠেন। পরে মানুষ ছিনতাইকারীকে আটক করে টাকা আদায় করে ভুক্তভোগির কাছে ফেরত দেন।

 

এই ঘটনায় নাজমুল আলম জানান, আমি কালির বাজার ব্রাক ব্যাংক থেকে টাকা তুলে হেঁটে হেঁটে বাড়ি যেতে থাকি। পরে এই ছিনতাইকারী আমাকে টার্গেট করে চিপায় নিয়ে যায়। আমার পেটে চাকু ধরে পুরো টাকা নিয়ে যায়। পরে মানুষের সহযোগিতায় তা ফিরে পাই। আমার কষ্টের জমানো টাকা। তাই আল্লাহর রহমতে ফিরে পেয়েছি। এ সময় ছিনতাইকারী বলেন, আমি ঋণের কারণে এই কাজ করতে বাধ্য হয়েছি। এ সময় অন্যান্য মানুষ তার সাথে গণমাধ্যমকর্মীদের কথা বলতে দেন নাই।

 

এই ঘটনার কয়েকদিন আগে কৃষ্ণ এবং শুভ নামের দুই ছিনতাইকারী শনিবার সকাল ভোর সাড়ে পাঁচ ঘটিকায় কাশিপুর বাংলাবাজার ডাইং থেকে এক মহিলাকে ছুরি ধরে তার সব কিছু লুটে নেয়। পরে রাস্তা দিয়ে আসাদুল্লাহ নামের এক ব্যক্তি মহিলা দেখানো অনুযায়ী দেওভোগ নূর মসজিদ রোড থেকে আটক করা হয়। তার কাছ থেকে ৭ টি ফোন, নগদ টাকা ও স্বর্ন অলংকার জব্দ করে ফতুল্লা থানা কর্মরত অফিসার সাব-ইন্সেপেক্টর আজিজ সপর্দ করা হয়। এই ছিনতাইকারী শুভ এবং কৃষ্ণর নামে ৫টির অধিক মামলা রয়েছে।  

 

এছাড়া এই ঘটনার আগে নারায়ণগঞ্জ শহরের মাসদাইর এলাকায় কিশোরগ্যাং সন্ত্রাসী গ্রুপ ব্যবসায়ীদের দোকান পার্টে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা শেল্টার দিচ্ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।

 

জানা যায়, অনুসন্ধানে জানা গেছে, ১৯ আগস্ট শনিবার রাত ৯ টায় ১৩ নং ওয়াডের তালা ফ্যাক্টরির মোড় এবং ঈদগাহ মাঠের সামনে তান্ডব চালায় সন্ত্রাসীরা। এসময় পথচারী, দোকানদার, পুলিশ সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়। এছাড়াও অন্তত ১৮টি দোকান ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা। সদস্যসহ ১২ জন আহত হয়। এছাড়াও অন্তত ১৮টি দোকান ভাংচুর করে সন্ত্রাসীরা।

 

১৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হাসানের অনুসারী জুবায়ের আহম্মেদ অমিও গ্রুপের সদস্যদের খোঁজ করতে এসেছিল মাসদাইর কবরস্থান সংলগ্ন এলাকার নেছার ও সাব্বির গ্রুপের লোকজন। তবে অমিও গ্রুপের কাউকে না পেয়ে তালা ফ্যাক্টরির সামনে বেশ কয়েকটি দোকান ভাঙচুর করে তারা। মহড়া দিয়ে কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠের সামনে গেলে সেখানে একটি রেস্টুরেন্টে দাওয়াতে আসা রূপগঞ্জের এক পুলিশ সদস্য তাদের ভিডিও করেন।

 

এছাড়া ফতুল্লা ছিনতাইকারী চক্র সম্প্রতি মাথা চারা দিয়ে উঠেছে। এই অপরাধীদের নিয়ে এই ঘটনায় জনমনে মাঝে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একই সাথে মানুষ এখন ঘর থেকে বের হতে অনিরাপদ ভোদ করছে। এই ভাবে একের পর এক অপরাধের ঘটনা ঘটলেও অপরাধীরা তেমন কোন শাস্তি পাচ্ছে না। প্রশাসন কিছু ঘটনায় ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনলেও তারা আদালত থেকে জামিনে বের হয়ে আবার অপরাধে জরিয়ে পড়ছেন। এতে করে মানুষের মাঝে আতঙ্ক থেকে যায়।

 

এক অনুসন্ধানে জানা গেছে, দিনদিন নৈতিক অবক্ষয়ের দিকে ধাবিত হচ্ছে কিশোররা। বিশেষ করে স্কুল কলেজ পড়ুয়া ছাত্র-ছাত্রীরা সহজেই নানা অনৈতিক কার্যকলাপের সাথে জড়িয়ে পড়ছে। উচ্চ বিলাসী মানসিকতা, স্মার্ট ফোনের অবাধ ব্যবহারের কারণেই এমনটি হচ্ছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সেই সঙ্গে অভিভাবকদের উদাসীনতা, দায়ীত্বহীনতা এর জন্য অনেকটা দায়ী বলে মনে করছেন সচেতন মহল। বুঝে না বুঝে অনেক কোমল মতি কিশোর কিশোরী ইদানীং জড়িয়ে পড়ছে যৌন অপরাধে। ফলে পরিবার ও সমাজে ঘটছে নানা অনাকাঙ্খিত অপরাধের ঘটনা।

 

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, কয়েকটি কারণে অপরাধ বাড়ছে। তার মাঝে সঙ্গদোষ: একটি শিশু মূলত তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করে। তার পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি যদি অপরাধপ্রবণ হয় তাহলে শিশু সহজেই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। একটি শিশু মাদকাসক্ত হয় মূলত সঙ্গদোষের কারণে। এভাবে অপরাধ দিনে দিনে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

 

মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা: বর্তমানে বাংলাদেশে মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে শিশু-কিশোরেরা সহজেই মাদকাসক্ত হয়ে বিভিন্ন ধরনের অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এছাড়া মাদক কেনার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করার জন্য ও শিশু কিশোরেরা খুনসহ নানা ধরনের অপরাধ করছে।

 

আমরা নারায়ণগঞ্জবাসী সংগঠনের সভাপতি নুর উদ্দিন বলেন, নারায়ণগঞ্জ এখন অপরাধের ব্যাধির আকার ধারণ করেছে। কিশোর বয়েসের ছেলে সন্তানদের বোধশক্তি কম থাকায় তারা অপরাধে জরিয়ে পরছে। হঠাৎ করে তারা বড় ধরনের অপরাধে জরিয়ে পরছে। তাছাড়া রাজনৈতিক পাতি নেতারা তাদের ব্যবহার করে লাইম লাইটে আসে। এমনকি ভাই বোনের লোক পরিচয় দিয়ে তাদের শেল্টার দিয়ে থাকেন।

 

তাদের আশ্রয় প্রশ্রয়ে এলাকার প্রভাব বিস্তার করে ডিস ব্যবসা, ওয়াইফাই ব্যবসা সহ বিভিন্ন ব্যবসা নিয়ন্ত্রন করতে গিয়ে তারা অপরাধে জরিয়ে পরে। এর জন্য মুক্তি পেতে পারিবারিক, সামাজিক ভাবে মানুষে আরও তৎপর হতে হবে। এমনকি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তৎপর হতে হবে। কিশোর গ্যাংদের যারা শেল্টার দেয় তাদেরকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। এবিষয়ে পুলিশ সুপারে সাথে যোগাযোগ করা হলে তার নাম্বার ব্যস্ত পাওয়া যায়। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন