Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

প্রভাশালীদের শেল্টারে আবারও বেপরোয়া মাদক সম্রাট বিটু

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৩, ০৯:০৫ পিএম

প্রভাশালীদের শেল্টারে আবারও বেপরোয়া মাদক সম্রাট বিটু
Swapno

 

# এখন এই শীর্ষ মাদক কারবারী মাদকের পাশাপাশি বেপরোয়ার ভূমিদস্যুতায় মেতে উঠেছে 

 

 

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ প্রভাবশালীদের সাথে ছবি তুলে ও তাদের নাম বিক্রি করে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে জেলার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যু, বহু অপকর্মের হোতা সালাউদ্দিন বিটু। জেলার মধ্যে মাদকের সবচেয়ে বড় সাম্রাজ্য তৈরির পাশাপাশি জমি দখল, অর্থ আত্মসাৎ ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপকর্মের কারণে শহরের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কাছে মুর্তিমান আতংকে পরিণত হয়েছে নিতাইগঞ্জ শীতলক্ষ্যার নলুয়া এলাকার আবিদ আলী চৌধুরী ওরফে হাবলু চৌধুরীর ছেলে এই বিটু।

 

তার অত্যাচার ও অপতৎপরতায় শীতলক্ষ্যা, নলুয়া, সৈয়দপুর, পাইকপাড়া, কাশিপুরসহ আশেপাশের এলাকার মানুষ রীতিমত সন্ত্রস্থ হয়ে উঠেছে। এক সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে হকারি করে ১/২ বোতল ফেন্সিডিল বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত বিটু বর্তমানে প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধের স্বর্গরাজ্য গড়ে তুলেছে। গোটা জেলায় তার চেয়ে বড় মাদকের সাম্রাজ্য আর কারো নেই বললেই চলে। তার অপরাধের মাত্রা যে কতো বড় সে বিষয়ে জানে থানা পুলিশও।

 

শহরের বিভিন্ন স্থানে প্রতিনিয়তই মাদক বিরোধী অভিযান চললেও ধরা ছোয়ার বাইরে রয়ে গেছে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও এক ডজন মামলার আসামী সালাউদ্দিন বিটু। সকল অভিযানে ছিচকে মাদক বিক্রেতা ও মাদক সেবনকারীসহ চিহ্নিতরা গ্রেফতার হলেও অজানা কারণে বিটুর বিরুদ্ধে কোনো অ্যাকশন নিতে দেখা যায় না আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে। এর পিছনে বড় মাসোহারা, কতিপয় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও প্রভাবশালীদের হাত রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। 

 

এদিকে নিরীহ বা দুর্বল শ্রেণীর লোক পেলেই তার জমিতে সাইনবোর্ড লাগিয়ে মোটা অংকের চাঁদা দাবির অভিযোগ জানায় ভুক্তভোগী অনেকে। বিটুর বাহিনী অত্যন্ত শক্তিশালী উল্লেখ করে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ভুক্তভোগীদের কয়েকজন জানান, মাদকের নেটওয়ার্ক চালানোর পাশাপাশি প্রভাবশালীদের নাম বিক্রি করে মানুষের জমি দখল করাই বর্তমানে বিটুর অন্যতম কাজ। একজনের জমি আরেকজনের কাছে দখল করে বিক্রি সহ নানা অপকর্মের ফিরিস্তি জানায় এলাকাবাসী। 

 

সূত্র জানায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের দক্ষিণাঞ্চলের মাদকের গডফাদার হিসেবে পরিচিত সালাউদ্দিন বিটু। শহরের শীতলক্ষ্যা, নলুয়া ও বাপ্পী চত্বর এলাকার শীর্ষ মাদক কারবারি সালাউদ্দিন বিটুর নেতৃত্বে একটি শক্তিশালী মাদক সিন্ডিকেট রয়েছে। অথচ তাকে রাখা হয়েছে মহানগর জাতীয় পার্টির সহ সাংগঠনিক সম্পাদকের মত গুরুত্বপূর্ণ পদে। এসব দেখে বিস্মিত এলাকার লোকজন। 

 

জানা গেছে, মাদকের বড় বড় চালান সহ একাধিকবার গ্রেফতার হয়েও আইনের ফাঁক দিয়ে বার বার বেরিয়ে এসেছে বিটু। গড়ে তুলেছে মাদকের বিশাল সাম্রাজ্য। নেপথ্যে রয়েছে ক্ষমতাসীন দলের বড় মিয়া সহ দুই/তিনজন কাউন্সিলর। তাই পুলিশ প্রশাসনকে ড্যামকেয়ার করে চলেন এই মাদক ব্যবসায়ী বিটু। সবশেষ গত বছরের ১৬ জানুয়ারী সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচনের ভোটের ৪দিন আগে ১২ জানুয়ারী বিটুকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। প্রায় ১০ দিন পর ২৪ জানুয়ারী সে জামিনে মুক্তি পায়।

 

এর আগে ২০২০ সালের ৪ মার্চে নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশের একটি টিম তাকে আটক করে। ২০১৭ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ শহরের নিতাইগঞ্জ তামাকপট্টি এলাকার শুক্কুর মিয়ার রিকশার গ্যারেজ থেকে ডিবির হাতে সে আটক হয়েছিল। একই বছরের ১৯ আগস্ট বিটুকে সাড়ে ৩০০ পিস ইয়াবাসহ তামাকপট্টি থেকে গ্রেফতার করে ডিবি। বিটু এর আগেও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কদমতলী থানায় সাড়ে ৫০০ পিস ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়। 

 

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা গেছে গোটা এলাকা জুড়ে বিটু একটি আতংকের নাম। মাদক সেবন ও ব্যবসা, চাঁদাবাজি, ছিনতাই, দখলবাজি, ভুমিদস্যু, লুটতরাজ চালানো তার নিত্যকার কাজ। গত দেড় দশকেরও বেশী সময় ধরে শত শত এমন ঘটনা ঘটানো এবং বেশ কয়েকবার গ্রেফতার হওয়ার পরও তার সাম্রাজ্য টিকে আছে এখনো। অপরাধের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে শহর ও শহরতলীর গোটা দক্ষিণাঞ্চল। 

 

অভিযোগ রয়েছে নলুয়া, শীতলক্ষ্যাসহ আশেপাশের সকল এলাকার চুরি, ছিনতাই, দখলবাঁজিসহ যাবতীয় ঘটনার নেতৃত্ব দেন বিটু। এসবের পাশাপাশি অন্যের জমি দখল করে স্থানীয়দের কাছে ভুমিদস্যু হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করেছে সে। তার নিজস্ব বাহিনী রয়েছে, যার উপর ভর করে বিটু আত্মপ্রকাশ করেছে এলাকার অন্যতম ভূমিদস্যু হিসেবে। 

 

সূত্র আরও জানায়, সালাউদ্দিন বিটুর নেতৃত্বে রয়েছে নারীসহ অন্তত ডজনখানেক মাদক কারবারি। এদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যরা হচ্ছে, আমিন, অমি হাসান, নজরুল ইসলাম বাবু ওরফে কমলেট বাবু, রুবেল ওরফে মামা রুবেল, সাফোয়ান ইসলাম জয়, সাঞ্জু আক্তার, জামাই মাসুদ এবং মিলন চৌধুরী ও রনি চৌধুরী প্রমূখ। তার এই মাদকের কারবারের সাথে পার্টনার ছিল ইব্রাহিম নামক এক যুবক। পরে তারা দুজন ভাগ হয়ে পৃথক ভাবে মাদকের কারবার শুরু করে।

 

সালাউদ্দিন চৌধুরী বিটু শহরের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের নলুয়া, নিতাইগঞ্জ এবং বাপ্পী চত্বর এলাকায় ঘাঁটি গেড়ে বসেন। তবে, বিটু ব্যবসার কৌশল পরিবর্তন করে খুচরা বিক্রি বন্ধ করে দিয়ে পাইকারি ব্যবসায় নাম লেখান। এই ব্যবসা চালিয়ে যেতে নিজে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। এই সিন্ডকেটের সদস্যদের মাধ্যমেই জেলার বিভিন্ন স্থানে মাদকের চালান পৌঁছে দিয়ে আসে।

 

সূত্র জানায়, সালাউদ্দিন বিটু সিন্ডিকেটের আরেকজন দুর্ধর্ষ মাদক কারাবারি হচ্ছেন জামাই মাসুদ। শহরের নলুয়া পাড়া এলাকার মৃত সুলতানের ছেলে জামাই মাসুদ মাদকসহ একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছিল। তার সহযোগি হিসেবে কাজ করে পাইকপাড়া জল্লারপাড়া এলাকার নিজামউদ্দিনের ছেলে মো. সজিব এবং দুই নং বাবুরাইল এলকার আলমাছের দুই ছেলে রাজু ও রাহাত।

 

এছাড়াও বিটু সিন্ডিকেটের আরও দুই সদস্য হচ্ছে মধ্য নলুয়াপাড়া এলাকার মিলন চৌধুরী ও রনি চৌধুরী। ২০১৯ সালে শীর্ষ এই দুই মাদক বিক্রেতাসহ বিটুর বাড়িতে অভিযান চালায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানা পুলিশ। ওই সময় তাদের না পেয়ে এই মাদক কারবারিদের বাড়ির আসবাব পুড়িয়ে দিয়েছিল পুলিশ। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন