Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বনশ্রী থেকে অপহরণের দেড়মাসেও উদ্ধার হয়নি স্কুল ছাত্রী 

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:৫৬ পিএম

বনশ্রী থেকে অপহরণের দেড়মাসেও উদ্ধার হয়নি স্কুল ছাত্রী 
Swapno

 

অপহরণের দেড়মাসেও উদ্ধার হয়নি বনশ্রী ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের ছাত্রী ফাতেমা বিনতে ছালাম ছিফা (১৭)। তার অবস্থান সনাক্ত করতে পারেনি থানা পুলিশ। থানার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা বলছেন আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। আশা করছি শিগগিরই ভিক্টিম ও আসামীর অবস্থান সনাক্ত, ভিক্টিমকে উদ্ধার এবং মূল আসামীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হবে।

 

সোমবার ছিফার বাবা আবদুস ছালাম বলেন, ‘আমার মেয়ে বনশ্রী আইডিয়াল স্কুল থেকে এই বছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এসএসসি  পরীক্ষা দিয়েছে। কুমিল্লা জেলার ভাঙ্গরা বাজার থানাধীন গোড়াশাল গ্রামের মোবারক হোসেনের ছেলে মো. শাহীন (২৩) আমাদের পূর্ব পরিচিত। সে আমাদের গ্রামে মাঝে মাঝে আসতো এবং মেয়েকে উত্যাক্ত করতো। ছিফা বিষয়টি আমাকে ও আমার স্ত্রী শাহীনা বেগমকে জানালে শাহীনের মা মরিয়ম বেগমকে বিষয়টি জানাই। তিনি আশ্বাস দেন যে তার ছেলে শাহীন আর কখনো আমার মেয়ে উত্যাক্ত করবে না। যার ফলে আমি তাদের বিরুদ্ধে কোন আইনী ব্যবস্থা নেইনি।’ 

 

তিনি আরও বলেন, ‘গত ২৪ ‍জুলাই বিকাল ৪টার দিকে আমার মেয়ে আমার বনশ্রীর বাসা থেকে পাশের মুদি দোকানে কিছু সদাইপাতি আনতে যায়। প্রায় এক ঘন্টায়ও ফিরে না আসায় আমার স্ত্রী মেয়েকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকে। এ সময় আমি আশপাশের লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারি; ওই দিন বিকাল আনুমানিক ৪টা ২০ মিনিটের দিকে বনশ্রী এইচ ব্লকের ৪ নম্বর সড়ক থেকে আমার মেয়েকে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা দূর্বৃত্তরা মাইক্রোবাসযোগে অপহরণ করে নিয়ে যায়।’ 

 

আবদুস ছালাম আরও জানান, আমার মেয়েকে অপহরণের ঘনটায় আমি খিলগাঁও থানায় শাহীন, তার মা মরিয়ম, তাদের সহযোগী (বন্ধু) নূর নবী, আশরাফুল আলম ও কাজী মাসুমকে আসামী করে খিলগাঁও থানায় গত ২৭ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করি। মামলার পর পুলিশ কাজী মাসুমকে গ্রেপ্তার করে এক দিনের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে। কিন্তু তার কাছ থেকেও ভিক্টিম ও আসামীর প্রকৃত অবস্থান জানা যায়নি। কাজী মাসুম কারা যাওয়ার ৮ দিনের মাথায় জামিনে বের হয়ে গেছে।’ 

 

আবদুস ছালাম বলেন, ‘গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টা ৫৭ মিনিটে একটি ফোন নম্বর থেকে আমার মেয়ে আমাকে ফোন করে আব্বু বলে কান্নাকাটি শুরু করে। এরমধ্যেই ফোনলাইনটি কেটে দেওয়া হয়। আমি ফোন করলে সঙ্গে সঙ্গেই নম্বরটি বন্ধ পাই। থানা পুলিশকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।’ 

 

এবিষয়ে জানতে চাইলে মামলার তদন্ত তদারকী কর্মকর্তা খিলগাঁও থানার ওসি মনির হোসেন মোল্লা বলেন, আসামী ও ভিক্টিম পূর্ব পরিচিত। ঘটনার দিন তারা আফতাব নগরের ইস্টওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির সামনে থেকে এক সঙ্গে চলে গেছে। তাদের গ্রামের বাড়ি কুমিল্লার বাঙ্গরাসহ কয়েকস্থানে অভিযান চালিয়েও আসামী ও ভিক্টিমকে পাওয়া যায়নি। তারা কোন মোবাইল ব্যবহার করছে না।

 

তার বাবা যে নম্বরটি থেকে কল করার কথা বলেছে ওই নম্বরটির অবস্থান ছিল কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম থানার চিওড়া এলাকায়। কল করার পর থেকে নম্বরটি বন্ধ। ওসি আরও বলেন, আমরা আপ্রাণ চেষ্টা করছি। তাদের সর্বশেষ অবস্থান সনাক্ত করা গেছে। আমাদের টিম কাজ করছে। আশা করছি শিগগিরই আসামী গ্রেপ্তার ও ভিক্টিম উদ্ধার করা সম্ভব হবে। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন