Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোই যানজটের মূল কারণ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৩:৫৮ পিএম

অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোই যানজটের মূল কারণ
Swapno

 

সড়ক দখল করে নগরীর প্রতিটি মোড়ে মোড়ে অবৈধ অটোরিক্সা-ইজিবাইক-মিশুক ও সিএনজি স্ট্যান্ড গড়ে তুলেছে এক শ্রেণীর চাঁদাবাজরা। এসকল চাঁদাবাজদের কারণেই ব্যস্ততম এ নগরীতে প্রতিনিয়ত লেগে থাকে যানজট, আর সীমাহীন ভোগান্তি পোহাতে হয় নাগরিকদের। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলোর নিরবতায় হতাশ জনসাধারণ।

 

 

গতমঙ্গল ও বুধবার দিনভর নগরীর বিভিন্ন পয়েন্ট ঘুরে দেখা গেছে, নগরীর জিমখানা, ২নং রেল গেইট, গলাচিপা, চাষাড়া, কালিরবাজার, খানপুরসহ অন্তত ১০টি স্থানে অবৈধ এসব যানবাহনের অনুমোদনবিহীন স্ট্যান্ড রয়েছে। এসকল স্ট্যান্ড থেকে বিভিন্ন রুটে প্রায় ৫ শতাধিক সিএনজি ও ৩ হাজারের অধিক অটোরিকশা-ইজিবাইক-মিশুক ভোর হতে রাত পর্যন্ত চলাফেলা ও অবস্থান করে।

 

 

তাছাড় এসব অবৈধ যানবাহনের চালকদের অধিকাংশই আনাড়ি, কেউ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত নয়। ফলে যত্রতত্র পার্কিং, যাত্রী উঠানামা করা, অযথা ওভারটেকিং, অতিরিক্ত গতিসহ নানা কারণে শহরের প্রধান সড়ক তথা বঙ্গবন্ধু সড়কের চাষাড়া থেকে ডিআইটি এবং সিরাজউদ্দৌলা সড়কের ১নং রেল গেইট থেকে কালিরবাজার পর্যন্ত তীব্র যানজট লেগে থাকে। শুধু প্রধান প্রধান সড়কই নয় প্রতিটি অলি-গলি, পাড়া-মহল্লায়ও একই চিত্র দেখা গেছে।

 

 

জিমখানা মোড় থেকে ১নং বাবুরাইলের মাথা পর্যন্ত রাস্তার দুই পাশে অন্তত ৫০-৬০টি অবৈধ অটোরিক্সা, ইজিবাইক সবসময় দাড়িয়ে থাকে।কাশিপুরের হাটখোলা,বাংলাবাজার, ডিগ্রিরচর, চর কাশিপুর এবং সৈয়দপুর এলাকায় চলাচল করে এ গাড়িগুলো। ব্যস্ততম রাস্তার পাশেই তাদের অবৈধ এ স্ট্যান্ড। অথচ এখানে ইজিবাইক স্ট্যান্ডের কোনো অনুমোদনই নেই বলে জানা গেছে।

 

 

একইচিত্র, নগরীর গলাচিপার মোড়ে ভোলাইল-বিসিকগামী অবৈধ ইজিবাইকের অনুমতিহীন স্ট্যান্ড, চাষাড়া রাইফেল ক্লাবের সামনে শিবু মার্কেট-সাইনবোর্ডগামী লেগুনা-সিএনজির অনুমতিহীন স্ট্যান্ড, চাষাড়া পৌর মার্কেটের সামনে সিদ্ধিরগঞ্জগামী সিএনজি, টেম্পো ও লেগুনার অবৈধ স্ট্যান্ডে দিশেহারা সাধারণ জনগন।

 

 

সবচেয়ে ভয়াবহ অবস্থা নগরীর বঙ্গবন্ধু রোডের ২নং রেল গেইট এলাকায়। এখানে  রয়েছে ৪টি অবৈধ স্ট্যান্ড। ফলে ২নং রেল গেইটেই সবচেয়ে যানজটে পড়তে হয় নগরবাসীকে। ফজর আলী ট্রেড সেন্টারের সামনে আছে মুন্সীগঞ্জ-মুক্তারপুরগামী সিএনজি-অটোরিক্সা-ইজিবাইকের স্ট্যান্ড, পুরাতন ডায়মন্ড হলের সামনে দেওভোগ মাদ্রাসা, বাংলাবাজার, ভোলাইলগামী যানবাহনের স্ট্যান্ড,

 

 

পুরাতন রহমত উল্লাহ ইন্সটিটিউটের (বর্তমান পার্কের) সামনের ঢাকাগামী সিএনজি স্ট্যান্ড, মিড টাউন মার্কেটের সামনে আরও একটি সিএনজি ও ট্যাক্সির অনুমতিহীন স্ট্যান্ড রয়েছে। অবৈধ এসব স্ট্যান্ডের চালক ও পাতিনেতাদের চ্যালা-চামচারা বলছে, নিয়মিত মাসোহারা দিয়েই এসব স্ট্যান্ড বসানো হয়েছে।

 

 

একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এই স্ট্যান্ডগুলোর পেছনে রয়েছে বড় অঙ্কের অর্থের লেনদেন। কতিপয় অসাধু পুলিশ সদস্য, কিছু রাজনৈতিক নেতা, প্রভাবশালী ও মাস্তানরা এই স্ট্যান্ডগুলো থেকে নিয়মিত বখরা নিচ্ছে। নগরবাসীর মতে, অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোর কারণে এখন পায়ে হেটে চলাচল করাও দুষ্কর হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সড়ক পার হওয়ার সময় বিপদে পড়ে স্কুল ও কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা।

 

 

শুধু স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরাই নয়, অফিস-আদালতগামী কর্মজীবী মানুষ, সাধারণ জনগন এমনকি মুমুর্ষ রোগীদেরও চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হয়। অনুমোদনহীন এসব স্ট্যান্ডে দন্ডায়মান যানবাহনের দাপট এতোটাই যে তারা সাধারণ মানুষ বা যানবাহন তো দুরে থাক, রোগী বহনকারীঅ্যাম্বুলেন্সকেও সাইড দিতে চায়না। ফলে প্রতিনিয়তই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে এসব স্থানে।

 

 

নগরীর বিভিন্ন স্কুল-কলেজে পড়–য়া শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের অভিযোগ, অদক্ষ ইজিবাইক-সিএনজি চালকরা যেভাবে বেপরোয়াভাবে গাড়ি চালায় যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এজন্য সংসারের কাজ ফেলে সন্তানদের পেছনে পড়ে থাকতে হয় স্কুল সময়ে। এরা সরকারি সড়ক দখল করে মোড়ে মোড়ে অবৈধ স্ট্যান্ড করায় সব সময় যানজট লেগে থাকে।

 

 

নগরীর ২নং রেল গেইট এলাকার এক ব্যবসায়ী জানান, প্রায় ১২ বছর ধরে ২নং রেল গেইট এলাকার আশে পাশে কয়েকটি অবৈধ ও অনুমতিহীন সিএনজি-ইজিবাইক-ট্যাক্সির স্ট্যান্ড। কিন্তু যারা আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তারাই তো অবৈধ কাজের সুযোগ করে দেয় বলে জানান এ ব্যবসায়ী।বেসরকারী ব্যাংকের এক কর্মকর্তা জানান, ভোর হতে রাত পর্যন্ত যেভাবে মোড়ে মোড়ে ইজিবাইক-সিএনজি-ট্যাক্সিগুলো পার্কিং করে রাখা হয়।

 

 

এমনকি নগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিতাইগঞ্জ থেকে চাষাড়াগামী, ১নং রেল গেইট থেকে ঢাকাগামী গাড়ীগুলোর ২নং রেল গেইট এলাকা পার হতেই সময় লাগে ২০ মিনিট। সচেতন মহলের মতে, এসপি হারুন থাকাকালীণ সময়ে নিয়মিত এসব স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করে স্ট্যান্ডগুলো বন্ধ করার কাজ চলমান ছিলো যা নগরবাসীর ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব করেছিলো।

 

 

তবে তিনি চলে যাওয়ার পর প্রশাসন আর এদিকে নজর দেয় না। এ বিষয়ে পুলিশ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষ একে অপরের উপর দায় চাপিয়ে নিজেরা মুক্ত হতে চায়। সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের সাথে আলাপ করলে তারা জানায়, আমরা অবৈধ যানবাহন ও স্ট্যান্ডের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে থাকি, তবে পুলিশ চাইলে এগুলো একেবারে নির্মূল সম্ভব।

 

 

অপরদিকে, পুলিশের দাবি, সিটি কর্পোরেশন চাইলে আমরা সর্বাত্মক সহযোগীতা করবো। নগরবাসীর দাবি, যেহেতু প্রায় সবগুলো অবৈধ স্ট্যান্ডই সিটি কর্পোরেশন এরিয়ার মধ্যে, সেহেতু এসব অবৈধ ও অনুমতিহীন স্ট্যান্ডগুলো বন্ধে এবং নগরবাসীকে শান্তির ব্যবস্থা করতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র, নারায়ণগঞ্জবাসীর আস্থার প্রতীক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াত আইভীকেই এগিয়ে আসতে হবে।   এন. হুসেইন রনী   /জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন