Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সিমেন্ট কারখানাগুলো এখন না.গঞ্জের বিষফোঁড়া  

Icon

লতিফ রানা

প্রকাশ: ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৮:০১ পিএম

সিমেন্ট কারখানাগুলো এখন না.গঞ্জের বিষফোঁড়া  
Swapno

 

# কারখানা সংলগ্ন এলাকার বায়ু দুষণের মাত্রা বেড়ে বসবাসের অযোগ্য হচ্ছে
# অতিরিক্ত লোডের গাড়িগুলোর বেপরোয় চলাচলে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা
# জাহাজগুলোর এলোপাতাড়ি নোঙ্গরে বাড়ছে নৌ দুর্ঘটনা
# আমরা বিষয়গুলো দেখবো : জেলা প্রশাসক

 

 

ইটের পর ইট গেঁথে সুউচ্চ অট্টালিকা তৈরির যে গল্প, তার পেছনে সিমেন্টের ভূমিকা অস্বীকার করার উপায় নেই। আমাদের জীবনে আধুনিকতার ছোঁয়া পেতে যেসব বাসভবন তৈরি করা হয় তার জন্য এখনও সিমেন্টের ভূমিকা অপরিসীম। তবে শিল্প ও বাণিজ্যের জেলা হিসেবে পরিচিত এই নারায়ণগঞ্জ জেলায় সিমেন্ট কারখানাগুলো এখন মৃত্যুর কারখানা হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।

 

সিমেন্টের কাঁচামাল থেকে সৃষ্ট ধোঁয়া ও ধুলি কণায় এর আশেপাশের এলাকার বায়ু দুষণের মাত্রা বেড়ে পরিবেশ বিপর্যস্ত হয়ে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এসব কারখানার বড় বড় যানবাহন গুলোর অনিয়ন্ত্রিত চলাচলে এই জেলার রাস্তাঘাটে বেড়ে চলেছে সড়ক দুর্ঘটনা, বাড়ছে প্রাণ ঘাতের মতো ঘটনা।

 

নদী পথে সিমেন্টের কাঁচামাল নিয়ে আসা জাহাজগুলোর এলোপাতাড়ি নোঙ্গর শীতলক্ষ্যা নদীর শহরের প্রাণকেন্দ্র এলাকায় নদীর প্রসস্ততা কমিয়ে ফেলায় একদিকে বাড়ছে ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল অন্যদিকে নৌ দুর্ঘটনায় বাড়ছে প্রাণহানি। তার উপর অধিক মুনাফা লাভের আশায় কারখানার শ্রমিকদের প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় দুর্ঘটনার শিকার হয়ে ঘটছে শ্রমিক মত্যু।

 

সব কিছু মিলিয়ে নারায়ণগঞ্জ ও এর আশেপাশের জেলায় অবস্থিত সিমেন্ট কারখানাগুলো এখন নারায়ণগঞ্জের জন্য বিষফোঁড়ায় পরিণত হয়েছে বলে মনে করছেন নারায়ণগঞ্জের সূধী সমাজ। একটি তথ্যে জানা গেছে শুধু মাত্র নারায়ণগঞ্জ জেলায়ই প্রায় এক ডজন সিমেন্ট কারখানা আছে। এর বাইরে নারায়ণগঞ্জ শহরের নিকটবর্তী জেলা মুন্সীগঞ্জে আছে প্রায় অর্ধ ডজন। যেগুলো নারায়ণগঞ্জের পরিবেশ দূষণসহ প্রভাব বিস্তার করছে সড়ক দুর্ঘটনায়ও।

 

বিভিন্ন তথ্যসূত্রে জানা যায়, এসব সিমেন্ট কারখানাগুলো সাধারণত নদীকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠে। এর ফলে এসব প্রভাবশালী কারখানা দখল করে নিচ্ছে নদীর বিশাল একটি এলাকা। অনেকেই আবার আফসোস করে বলেন, এসব প্রভাবশালী কোম্পানীই মূলত এই নদীগুলোর শাসক। প্রশাসনও তাদের কাছে নস্যি। বিভিন্ন সময় বিভিন্ন মিডিয়া এদের বিরুদ্ধে লেখালেখি করে, স্থানীয় জনগণসহ বিভিন্ন সংগঠন থেকে এদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য দাবি জানানো হয়।

 

দিন শেষে দেখা যায় তাদের বিরুদ্ধে নামমাত্র কিছু লোক দেখানো অভিযান ও জরিমানা করা ছাড়া কাজের কাজ কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না। অথচ নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্প ও বাণিজ্যে সমৃদ্ধ হওয়ায় প্রায় কোটি লোকের কাছাকাছি এখানকার জনসংখ্যা (ভাসমানসহ)। এমন জনবহুল একটি জেলার সবচেয়ে ঘনবসতি এলাকা গুলোতেই এসব সিমেন্ট কারখানার অবস্থান। আর এ কারণে একদিকে এসব কারখানার কাছাকাছি এলাকায় থাকা আবাসিক এলাকা গুলোতে হচ্ছে পরিবেশ বিপর্যয়।

 

যেখানে মানুষের বাস করার মতো পরিবেশই নেই বলে মনে করেন অনেকে। অন্যদিকে এসব কারখানার মালামাল পরিবহনের কাজে ব্যবহৃত বড় আকারের যানবাহগুলো অতিরিক্ত লোড নিয়ে খুবই দ্রুত এবং বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। যার ফলে প্রতিনিয়তই ঘটছে সড়ক দুর্ঘটনা, ঝরে যাচ্ছে অসংখ্য প্রাণ। নিহতের এসব তালিকায় আছে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের নাম।

 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের বেশিরভাগ সিমেন্টের কারখানার অবস্থানই মূল শহর সংলগ্ন এলাকাগুলোতে। এর মধ্যে শীতলক্ষ্যা নদীর তীর ঘেঁষে বন্দরের নবীগঞ্জে নাসিক ২৩ নং ওয়ার্ডে আকিজ সিমেন্ট, মদনগঞ্জে সিমেক্স সিমেন্ট (ইনসি) বাংলাদেশ লিমিটেড, একই এলাকায় বসুন্ধরা সিমেন্ট কারখানার অবস্থান। শহরের সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় আছে ইস্টার্ন (সেভেন হর্স) সিমেন্ট লিমিটেড।

 

সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার এলাকার মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত আমান সিমেন্ট লিমিটেড, সোনারগাঁয়ের কুতুবপুরে লাফার্জ মোংলা সিমেন্ট, চর রমজান এলাকার হোলসিম বাংলাদেশ লিমিটেড ও ইউনিক সিমেন্ট লিমিটেড, মেঘনাঘাটের এমটিসি (মদিনা) সিমেন্ট ও রাইপাড়া এলাকার আনোয়ার সিমেন্ট লিমিটেড। তাছাড়া মুন্সীগঞ্জের মুক্তারপুরে অবস্থিত শাহ সিমেন্ট, ক্রাউন্ট সিমেন্ট, প্রিমিয়ার সিমেন্ট, মেট্রোসেম সিমেন্ট ও ইমিরেটস সিমেন্ট কারখানাও নারায়ণগঞ্জ শহর সংলগ্ন এলাকায় অবস্থান।

 

এসব সিমেন্টের কারখানাগুলোর মালিকগণ এতটাই প্রভাবশালী যে, তারা কোন কিছুর জন্যই কারও কাছে জবাব দিহি করতে বাধ্য নন। তাদের এসব আগ্রাসী ভূমিকা সম্পর্কে জানতে বিভিন্ন সময় এসব কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে তারা মিডিয়া বা ভূক্তভোগীদের সাথে কথা বলতে রাজী হন না।

 

এমনকি স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বাহিনীর সাথে হাত মিলিয়ে এবং তাদের বিভিন্ন সুযোগ সুবিধা প্রদান করে স্থানীয় বসবাসকারী লোকদের দমিয়ে রাখার চেষ্টা করা হয় বলেও বিভিন্ন সময় অভিযোগ পাওয়া যায়। তাই এসব সিমেন্ট কারখানাগুলোকে নারায়ণগঞ্জ জেলার জন্য বিষফোঁড়া হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন সংগঠন আন্দোলন, সংগ্রাম, স্মারকলিপি প্রদানও প্রতিবাদসহ বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে তাদের নির্দিষ্ট একটি নিয়মতান্ত্রিক শৃঙ্খলায় আবদ্ধ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এসব কারখানাকে একটি শৃঙ্খলায় ও নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে প্রশাসনের ভূমিকার বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ এর জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক বলেন, আপনারা যেসব বিষয় নিয়ে বললেন আমরা সেগুলো দেখবো। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন