রাষ্ট্রযন্ত্র দেশের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন বলে প্রচার করলেও কোন কোন ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটছে বলে মনে করা হয়। সরকার বিচার বিভাগে কোনরকম হস্তক্ষেপ করছেন না বলে প্রচার করা হলেও তা সর্বাঙ্গীণ সত্য বলে ধরে নেয়া কঠিন। দেখা গেছে, অনেক ঘটনায় বিচারের বাণী আজ নির্বাক। ছেলে হত্যার বিচার না পেয়ে বাকহীন আজ ত্বকীর পরিবার।
বিচারহীনতার সংস্কৃতি রুখতে সাড়ে ১০ বছর ধরে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছেন ত্বকীর বাবা সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রফিউর রাব্বি। তাকে সাহস যোগাচ্ছেন বংলাদেশের বুদ্ধিজীবী মহল। আর রাস্তায় তার সহযোগী হচ্ছেন নারায়ণগঞ্জের সুধী সমাজ এবং সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ।
প্রসঙ্গত, ২০১৩ সালের ৬ মার্চ নারায়ণগঞ্জের মেধাবী ছাত্র তানভীর মুহাম্মদ ত্বকীকে অপহরণ করা হয়। দু’দিন পর শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই বছরের ১২ নভেম্বর সুলতান শওকত ভ্রমর নামের এক আসামী আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে জানান, আজমেরী ওসমানের নেতৃত্বে ত্বকীকে অপহরণের পর হত্যা করা হয়।
এরপর ২০১৪ সালের ৫ মার্চ র্যাব জানায়, ওসমান পরিবারের নির্দেশে ত্বকীকে অপহরণ ও খুন করা হয়েছে। ওসমানদের টর্চার সেলে নিয়ে তাকে ১১জন মিলে হত্যা করেছে। এসব তথ্য জানিয়ে র্যাব ঘোষণা দেয়, খুব শীঘ্রই এই হত্যাকান্ডের চার্জশীট দেয়া হবে। কিন্তু র্যাবের সেই ঘোষণা আজও বস্তবায়ণ করা হয়নি। আর তখন থেকেই ত্বকী হত্যার বিচার শুরু করে খুনিদের গ্রেফতারের দাবিতে প্রতি মাসের ৮ তারিখ মোমশিখা প্রজ্বালন কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।
এসব কর্মসূচিতে নিহত ত্বকীর বাবা রফিউর রাব্বি বরাবরই এই সরকারের সমালোচনা করে সরাসরি বলে আসছেন যে, প্রধানমন্ত্রী চান না বলেই ত্বকী হত্যার বিচার হচ্ছে না। তিনি ক্ষমতায় থাকতে বিচার ব্যবস্থাকে হাতিয়ার বানিয়ে কলুষিত করেছেন এবং ঘাতকদের বাঁচাতে ওসমান পরিবারকে শেল্টার দিচ্ছেন।
রফিউর রাব্বির এসব বক্তব্য প্রতি মাসেই জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকায় ফলাও করে ছাপা হচ্ছে। কিন্তু সরকারের তরফ থেকে কোনরূপ প্রতিক্রিয়া জানানো হচ্ছে না। তবে ওসমান পরিবারের পক্ষে সাংসদ শামীম ওসমানকে মাঝে মাঝে হেঁড়ে গলায় বলতে শোনা যায়, ‘আমিও ত্বকী হত্যার বিচার চাই।’
নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষও ত্বকী হত্যার বিচার চান। চাষাঢ়ার একজন বাড়িওয়ালা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, এইডা কোন কথা হইলো! কোন দেশে আছি আমরা! বিনা দোষে একটা পোলারে ধইরা নিয়া এক্কেরে জানে মাইরা ফালাইলো। আর যারা মারলো তারা আদালতে স্বীকারও করলো যে হ্যারাই মারছে। তয় বিচার করতে দেরি ক্যান ? এস.এ/জেসি


