অটো চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কেন ব্যবস্থা নেয় না প্রশাসন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ১০:১১ পিএম
# অভিযানের নামে কিছু গাড়ি আটক করে পরে আবার ছেড়ে দেওয়া হয়
# মেয়র যদি নিজে উদ্যোগ নিলে সহযোগিতা করবো : এডি.এসপি (ট্রাফিক)
শহরে স্টিকার ব্যবহার করে অবৈধ অটোরিক্সা প্রবেশ করিয়ে কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করার ঘটনা নতুন নয়। দিন দিন বেড়েই চলছে অবৈধ এ যানের দৌড়াত্ম। শহরে ব্যাটারি চালিত ইজিবাইক প্রবেশ নিষিদ্ধ হলেও বিভিন্ন ষ্টিকার ও ভিজিটিং কার্ড ব্যাবহার করে শহরে দাপিয়ে বেড়াতে দেখা যায় এ অবৈধ যানকে। এ ব্যাপারে নারায়নগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আইভি বলেন, নারায়নগঞ্জ শহরে কে চাঁদাবাজী করে এটা সবাই জানে।
এমপির লোকজন শহরে অটো রিক্সা ঢুকায়। অটো রিকশায় এমপির লোকদের স্টিকার লাগানো। অবৈধ অটো রিকশার কারনে শহরে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। শুধু এমপির লোকই নয়। অনেক কথিত সাংবাদিক স্টিকার ব্যবহার করে পরিবহন চাঁদাবাজী করছে। শুধু তাই নয় প্রশাসনের অনেক সদস্যই এমন কাজের সাথে যুক্ত। কিন্তু প্রশাসন কিছু বলেনা। ডিসি ও এসপি চলে শুধু নারায়নগঞ্জের দুই এমপির কথায় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সরেজমিনে শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্পট পরিদর্শন করে মেয়রের কথার সত্যতা মেলে। দেখা যায় বিপুল পরিমান অবৈধ ইজিবাইক শহরতলীতে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। বেশিরভাগ যানের সামনের গ্লাসে বিভিন্ন নাম স্বর্বোস্ব পত্রিকা ও অনলাইন পোর্টালের নাম স্টিকার আকারে লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। ট্রাফিক বিভাগের সদস্যরা এমন স্টিকারযুক্ত ইজিবাইক দেখলে চলাচলে কোনো বাধা প্রদান করে না। স্টিকার ছাড়াও অনেক চালক ভিজিটিং কার্ড ও চাবির রিং ব্যবহার করে। এভাবে সুকৌশলে পরিবহন চাঁদাবাজী চালিয়ে যাচ্ছে।
ডাকবাংলো মোড়ে একটি ডাম্পিং স্পট থাকলেও সেখানে যত গাড়ি আটক হয় তার বেশিরভাগই স্টিকারবিহীন। স্টিকারযুক্ত যে গাড়িগুলো আটক হয় সেগুলো আবার উল্টো পথে চলাচলের দায়ে আটককৃত। অর্থাৎ স্টিকার চাঁদাবাজী যে হচ্ছে তা বলা বাহুল্য। নগরবাসী প্রশ্ন তুলছে যারা এসব করছে কিংবা যাদের ইশারায় এসব হচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যাবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। ইজিবাইক আটক করে আবার জরিমানা করে ছেড়ে দিলে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না। যদি মুল হোতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হয় তবে এই অবস্থার পরিবর্তন হবে না।
কেনো মুল হোতাদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না এমন প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) রুহুল আমিন সাগর বলেন, এটা নারায়ণগঞ্জে দীর্ঘদিন ধরে প্রাকটিস হয়ে আসছে। মেয়র মহোদয়ের একটি প্রশাসনিক কাঠামো তার সিটি কর্পোরেশনে রয়েছে। সে জদি এ বিষয়ে ব্যাবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেয় তবে পুলিশ তো সার্বক্ষনিক তাকে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমাদের জেলা প্রশাসক আছেন। তার ও মেজিস্ট্রেট রয়েছে। এটা তো ম্যাজিস্ট্রেট এর উপস্থিতিতে করতে হবে।
এ ব্যাপারে মেয়র মহোদয় আমাদের অনেকবার ডেকেছে। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি আপনি ম্যাজিস্ট্রেট দেন। আমরা বিভিন্ন স্পটে মোবাইল কোর্ট করে করে এগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেই। আমাদের প্রপার কিছু গাইড লাইন লাগবে। বলতে হবে কোন কোন রুটগুলো ইজিবাইক মুক্ত রাখবো। আমরা তখন সেগুলো রাখবো। কিন্তু আমাদের কাছে কোনো গাইড লাইন নেই। তবে সচেতন নাগরিকদের দাবি যত দ্রুত সম্ভব শহরকে ইজিবাইবক মুক্ত করে চলাচল উপযোগী হিসেবে গড়ে তোলা হউক। এস.এ/জেসি


