প্রাথমিক শাখার বাচ্চাদের চোখে পাওয়ারের চশমা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৩, ০৪:৪৫ পিএম
বড়দের মতো প্রাইমারি শ্রেণির ছোট ছোট বাচ্চাদের অনেক অসুখবিসুখ হয়ে থাকে। কিন্তু বেশির ভাগ শিশুরাই সঠিক ভাবে সমস্যাগুলোর কথা পরিবারকে বলতে পারে না। সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল গুলোতে প্রায়ই দেখা যায় ছোট ছোট বাচ্চারা চক্ষু ডাক্তারের কাছে দূরের জিনিস স্পষ্ট দেখতে পারে না অথবা বোর্ডের লেখা ঝাপসা দেখতে পায় এমন বিভিন্ন সমস্যা দেখাতে আসে।
ট্যাব, মোবাইল, কম্পিউটার, টিভি ইত্যাদি আসক্ত হয়ে খুব কাছ থেকে দেখার ফলে ছোট ছোট বাচ্চাদের চোখের সমস্যা হয় বলে মনে করেন চিকিৎসরা। এছাড়া বাচ্চাদের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ দূরের জিনিস স্পর্ষ্ট দেখতে পায় না বা দূরের জিনিস ঝাপসা দেখে এমন রোগীর সংখ্যা রয়েছে বেশ। এটাকে বলে ক্ষীণদৃষ্টি। সাধারণত এই ক্ষীণদৃষ্টি বেশির ভাগ বাচ্চাদের হয় বা দেখা যায়।
তাই সময়ের আগে তাদের চোখে মাইনাস পাওয়ারের চশমা উঠছে বলে জানান তারা। নগরীর জেনারেল ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের সিনিয়র কনসালটেন্ট (চক্ষু) ডা. মোঃ ইখতেখার হাসিব যুগের চিন্তাকে বলেন, প্রায় সময় দেখা যায় জন্মের পর থেকেই অনেক শিশুদের চোখ দিয়ে পানি পরে। আবার ছোট-ছোট স্কুলের বাচ্চারা আসে বোর্ডের লেখা স্পষ্ট দেখতে পারে না।
এটার কারণ মূলত বাচ্চারা তো গেম খেলায় আসক্ত বেশি। ছোট ছোট বাচ্চাদের দেখা যায় তারা মোবাইল ছাড়া বা ভিডিও গেম ছাড়া ভাত খেতেই চায় না। তখন অভিভাবক এক প্রকার বাধ্য হয়েই মোবাইল বাচ্চাদের হাতে তুলে দেয়। যখন তারা টিভি বা মোবাইল যা এই দেখে না কেন চোখে পলক খুব কম ফেলে। অপলক দৃষ্টিতে ভিডিও গেমের দিকে তাকিয়ে থাকে।
যার কারনে দেখা যায় বাচ্চারা খুব অল্প বয়সে এসব চোখের সমস্যাতে ভোগে। নারায়ণগঞ্জ চক্ষু হাসপাতালের তত্ত¡াবধায়ক যুগের চিন্তাকে বলেন, বাচ্চাদের চোখের সমস্যা মোবাইল ব্যবহারের কারণে হয়। অনেক বাচ্চারা শাক-সবজি থেকে চায় না আবার অনেকের জন্মগত ত্রæটি নিয়েও জন্মায় আবার কেউ কেউ চারদেয়ালে বন্দি থাকার কারনেও হয়ে থাকে।
কেননা যারা চারদেয়ালে বন্দি থাকে তাদের চোখের দৃষ্টি বেশির ভাগ প্রসারিত হতে পারে না। এ কারনে চোখের সমস্যা দেখা যায়। এছাড়া মোবাইল ফোনে যখন বাচ্চারা গেম খেলে তখন আলোর দিকে এক নজরে তাকিয়ে থাকে তখন চোখ ঘোলা হয়ে যায়। আর এই ঘটনাটা দিন দিন ঘটতে ঘটতে এক সময় বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দেয়।
এ সমস্যার কারনে অনেকের চোখে প্লাস পাওয়ারের চশমা লাগে কারো বা মাইনাসের। প্রথম থেকে ছোট বাচ্চাদের যখন চোখের সমস্যা দেখা দেয় তখন তারা বুঝতে পারে না আর এই না বুঝতে পারায় তারা অভিভাবককেবলতে পারে না। আর্দশ বালিকা বিদ্যালয় ও কলেজ এর পিন্সিপাল মো. মিজানুর রহমান যুগের চিন্তাকে বলেন, বর্তমানের বেশির ভাগ বাচ্চারা শাকসবজি খেতে চায় না।
দোকানের অপুষ্টিকর খাবার তারা বেশি পছন্দ করে। পুষ্টিকর খাবার না খাওয়ার কারনে তারা ভিটামিনের অভাবে ভোগে। আর এই ভিটামিন এর অভাবের কারনে মূলত চোখের সমস্যাটা হয়। অন্যদিকে মোবাইল ফোন ব্যবহারের কারনেই যে চোখের সমস্যা হচ্ছে ব্যাপারটা সম্পূর্ণ তেমন নয়।
এছাড়া করোনা কালীন যে মোবাইলে আসক্ত হয়েছে বেশি তা ও নয়। বাচ্চারা আগে থেকেই মোবাইলে আসক্ত হয়ে যায়। কারন এখনকার অভিভাবকরা বাচ্চাদের খাওয়ার সময় মোবাইল হাতে দিয়ে দেয়। এন. হুসেইন রনী /জেসি


