# অধিকাংশ দোকানে নেই ফায়ার এক্সটিংগুইসার
নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটিতে অর্ধশত ভবনে রয়েছে ২ সহস্রাধিকের বেশি হোসিয়ারী। অথচ এসব হোসিয়ারী গুলোতে নেই পর্যাপ্ত পরিমানের অগ্নি নির্বাপনের ব্যবস্থা। মাত্র দুটি সরু গলি দিয়ে গড়ে ওঠেছে নারায়ণগঞ্জের সবচেয়ে বড় থান কাপড়ের দোকান ও হোসিয়ারী পল্লি।
প্রতিদিন এই হোসিয়ারী পল্লি থেকে প্রায় কয়েকশো-কোটি টাকার ক্রয়-বিক্রয় হয়। কিন্তু বাণিজ্যিক দিক থেকে সবচেয়ে ঝুঁকিতে রয়েছে এটি এবং অগ্নি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা। কোনো কিছুকে পরোয়া না করে এই এলাকার ভবন মালিকরা ফাঁকা না রেখে প্রতিটি ভবনের সাথে ভবন মিশিয়ে তৈরি করেছেন।
সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পোশাক পল্লিতে কোনো ফাঁকা না রেখেই একটি ভবনের পাশ ঘেঁসে আরেকটি ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। এছাড়াও অধিকাংশ ভবন গুলো প্রায় অনেক বছর পুরানো এবং সিঁড়িগুলো প্রশস্ত না। ভবন মালিকরা রাস্তার জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না রেখে ভবন নির্মাণ করায় পোশাক পল্লি রাস্তাগুলো সরু এবং চিপা। এই সরু পথ দিয়ে মালামাল আনা নেওয়া করছে শ্রমিকরা।
ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যাতায়াতের পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেই। বেশির ভাগ দোকানে নেই অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা। এছাড়া ঐ পল্লির ৯০ শতভাগ মানুষ জানেই না (এক্সিটিংগুইসার) এটি কিভাবে ব্যবহার করতে হয়। এভাবেই প্রতিনিয়ত এক প্রকার অগ্নি ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছে হাজারও শ্রমিক।
অন্যদিকে ঐ এলাকায় ভবনের সাথে বিদ্যুতের ট্রান্সফরমা প্রায় লাগানো। এছাড়া পোশাক পল্লি পুরো সড়ক জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় বৈদ্যুতিক খুঁটির সাখে অসংখ্য তারের ঝটলা বেঁধে রয়েছে। এর ফলে বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে অগ্নিকান্ডের মতো বড় ধরনের দূর্ঘটনা। অধিকাংশ ভবনেরই নেই জরুরি নির্গমনের পথ।
জানা যায়, নারায়ণগঞ্জের নয়ামাটি এলাকা হোসিয়ারীর জন্য বিখ্যাত। পাশাপাশি এখানে সুতা ও কয়েকটি থান কাপড়ের ও দোকান রয়েছে। বৈদ্যুতিক খুটি গুলোর সাথে ঝটলা তার গুলো থেকে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে অগ্নিকান্ডের মতো বড় দূর্ঘটনা। অথচ হোসিয়ারীগুলো বা দোকান গুলোতে রাখা হয় না প্রাথমিক এক্সিটিংগুসার।
এ ব্যাপারে তারা একদম উদাসীন। যেখানে বাণিজ্যিক এলাকা এবং ৫-৬ তলা ভবনের জন্য চওড়া ও প্রশস্ত রাস্তা থাকা প্রয়োজন সেখানে নয়াটির এলাকার রাস্তা ৫-৬ ফুট। এর মধ্যে রাস্তার মুখে গড়ে ওঠেছে অবৈধ দোকানপাট।
এ বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, অপরিকল্পিতভাবে ভবনগুলো নির্মাণ করার কারনে এবং সারা দেশে নয়ামাটি ব্যবসায়ীক কেন্দ্র কিন্তু এই এলাকাটিই রয়েছে সবচেয়ে ঝুঁকিতে। এখানে ভবন গুলোর দুটির মাঝে কোনো ফাঁকা নাই। কোনো ভবনের নিচে পানি জন্য আন্ডারগ্রাউন্ড রির্জাভের ব্যবস্থা নেই। অন্যদিকে বৈদ্যুতিক তারের সংযোগ গুলো এলোমেলো। অসংখ্য অবৈধ তার রয়েছে এখানে। এসব কারণে নয়ামাটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এ বিষয়ে বাংলাদেশ হোসিয়ারী এসোসিয়েশন এর সভাপতি নাজমুল আলম সজল যুগের চিন্তাকে জানান, আগের যে তার গুলো ছিলো সেই সমস্ত তার গুলো পরিবর্তন করে নতুন তার লাগানো হয়েছে। বাংলাদেশের মধ্যে নয়ামাটি তো বৃহৎ শিল্প এলাকা এখানের ভবন গুলো তো আগে থেকেই নির্মাণ করা তাই কিছু করা যাচ্ছে না। যদি জায়গাটা পরিবর্তন করতে পারতাম তাহলে অগ্নি ঝুঁকিটা কমতো। তবে আমরা সতর্ক ভাবে কাজ করছি। এছাড়া আমি সবাইকে বলেছি যারা এক্সিটিংগুসার না রাখবে তাদেরকে সদস্য কার্ড দেওয়া হবে না।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জে ফায়ার সার্ভিস এর পরিচালক ফখরুদ্দিন আহম্মেদ জানান, নয়ামাটির এলাকার ব্যবসায়ীরা আমাদের কথা শুনে না। ঐ এলাকার রাস্তা অনেক সরু প্রশস্ত করতে হবে। কখনো যদি অগ্নি দুর্ঘটনা ঘটে ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি যে ঢুকবে তার কোনো ব্যবস্থা নেই। এছাড়া তারা একটা দোকানেও ফায়ার এক্সিটিংগুসার রাখতে চায় না। এস.এ/জেসি


