Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

না.গঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৪৮ পিএম

না.গঞ্জে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনো ভয়াবহ
Swapno


# ৮০ শতাংশ রোগী রাজধানীর হাসপাতালগুলিতে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন

 

 

ডেঙ্গু রোগী নিয়ে এবার ইতিহাসের ভয়ানক পরিস্থিতির শিকার হয়েছে নারায়ণগঞ্জ শহর এবং আশপাশের এলাকার জনগন। পরিস্থিতি এমন দাঁড়িয়েছিলো যে কি সংখ্যক মানুষ এবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে সেই তথ্য সঠিক ভাবে কেউ দিতে পারছেন না। নারায়ণগঞ্জ জেলায় এবার সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ফতুল্লা থানা এলাকার মানুষ। এর পরেই রয়েছে নারাণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার অবস্থা।

 

তবে ফতুল্লা থানা এলাকাটি একটি পূরনো শিল্প এলাকা এবং পূরোদস্তুর শহর এলাকা হওয়ার পরেও এই থানাটিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের আওতায় যেতে দেওয়া হয়নি অথবা কোনো পৌর এলাকা ঘোষনা করা হয়নি। যার ফলে এখানে মশক নিধনে কোনো ব্যবস্থা নেই। কোনো ইউনিয়ন পরিষদকে সরকার মশক নিধনে কোনো বাজেট দেয় না বলেই জানিয়েছেন এসব ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও মেম্বাররা। ফলে এবার এসব ইউনিয়নে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এতোটাই ভয়াভয় আকার ধারন করেছে যে ঘরে ঘরে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পরেছে।

 

এমন কি উল্লেখিত পাঁচ ইউনিয়নের মাঝে কাশীপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এম সাইফ উল্লাহ বাদল নিজেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে পরেছিলেন এবং তিনি মূমূর্ষু হয়ে পরেছিলেন। বর্তমানেও তিনি পূরোপুরি সুস্থ হননি বলে জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মী ও আওয়ামী লীগ নেতা রেহান শরীফ বিন্দু।

 

গতকাল চেয়ারম্যান সাইফ উল্লাহ বাদলকে টেলিফোন করলে তিনি ফোন ধরেননি। পরে তার রাজনৈতিক একান্ত সহকর্মী রেহান শরীফ বিন্দুকে টেলিফোন করা হলে তিনি বলেন চেয়ারম্যান সাহেব ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এখনো পূরোপুরি সুস্থ হননি। তিনি এখন বাসায় থাকলেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার পর তাকে রাজধানীর আজগর আলী হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করা হয় বলে তিনি জানান।

 

এদিকে ফতুল্লার আরেক ইউনিয়ন এনায়েতনগর ইউনিয়নেও ব্যাপক ভাবে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পরেছে এবং এই ইউনিয়নের ঘরে ঘরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে মানুষ। এই ইউনিয়নের কেবল মাত্র ৯নং ওয়ার্ডে শিশু নারী নির্বিশেষ সকল বয়সের হাজারের উপরে মানুষ আক্রান্ত হয়েছে। এই ওয়ার্ডের মেম্বার কামরুল হাসান জানান তার নিজের দশ বছরের ছেলে সাফায়েত আলম ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলো। পরে তাকে রাজধানীর একটি হাসপাতালে রেখে টানা দশ দিন চিকিৎসা দেয়ার পর সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন।

 

তবে তিনি আরো জানান তার এই ওয়ার্ডে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে একজন মৃত্যু বরণ করেছেন। এছাড়া একই ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা (ডিআইওয়ান) হাজী আবদুল আজিজ জানান তার মেয়ে তাহমিনা আজিজ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বেশ মূমূর্ষু হয়ে পরেছিলো। মূলত এভাবেই ফতুল্লার পাঁচটি ইউনিয়নের মাঝে সব কয়টি ব্যাপক ভাবে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পরেছে। বর্তমানেও ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ।

 

এদিকে ফতুল্লার থেকে কিছুটা কম হলেও এবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায়ও বহু মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। বিশেষ করে সিটি করপোরেশনের তিন থানার মাঝে ঘনবসতিপূর্ণ নারায়ণগঞ্জ সদর থানা এবং সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়েছে ডেঙ্গু। তবে রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের তুলনায় কিছুটা কম আক্রান্ত হয়েছে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকার মানুষ।

 

এ বিষয়ে এই সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র আবদুল করিম বাবুর সাথে আলাপকালে তিনি বলেন, এবার ডেঙ্গু পরিস্থিতি আগের তুলনায় খারাপ হয়েছে সত্য, কিন্তু নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এলাকায় সহনীয় পর্যায়ে ছিলো। তবে তিনি ডেঙ্গু ছড়ানোর জন্য সাধারণ মানুষের অসচেতনতাকেও দায়ী করেন।

 

তিনি বলেন আমরা সবাই জানি এডিস মশা ডিম পারে জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে। কিন্তু নারায়ণগঞ্জ শহরের বহু বাড়িতেই দেখা যায় বাড়ির ছাদে এবং বারান্দায় অসচেতন ভাবে ফুলের টবে গাছ লাগাতে। আর টবে যে পানি জমে সেই পানিতেই এডিস মশা ডিম পারে। এছাড়া সাধারণ মানুষেরও অনেকে যত্রতত্র পলিথিন, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্র ফেলে রাখে। এতে এডিস মশা সহজে বংশ বিস্তার করতে পারে এবং ডেঙ্গু ছড়িয়ে পরে। তিনি নগরবাসী সবাইকে আরো সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ শহরের সরকারী হাসপাতাল রয়েছে দুটি। যদিও শতকরা ৮০ শতাংশ রোগী রাজধানীর হাসপাতালগুলিতে গিয়ে চিকিৎসা নেন বা নিয়েছেন। তারপরেও নারায়ণগঞ্জের এই দুটি হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগীদের ব্যাপক ভিড় লেগে আছে। গতকাল শহরের ভিক্টোরিয়া হাসপাতাল এবং খানপুর ৩০০ শয্যা হাসপাতালে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে এই দুটি হাসপাতালে এতোদিন শতাধিক রোগী ভর্তি অবস্থায় থেকে চিকিৎসা নিযেছেন।

 

গত সপ্তাহ পর্যন্ত দুটি হাসপাতালের প্রত্যেকটিতেই ৬০/৭০ জন করে রোগীকে ভর্তি অবস্থায় চিকিৎসা দেয়া হয়েছে। অর্থাৎ ৬০/৭০ জন করে রোগী চিকিৎসাধীন ছিলো। তবে এখন রোগীর চাপ কিছুটা কমেছে।

 

এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়া হাসপাতালের আর.এম.ও ডাক্তার ফরহাদ হোসেন বলেন সর্বশেষ গতকাল পর্যন্ত এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিলো ৩৮ জন। তিনি আরো জানান, এই বছরের ১ জানুয়ারী থেকে ১৩ অক্টোবর পর্যন্ত মোট চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র প্রাপ্ত রোগীর সংখ্যা মোট ৫৭৬ জন। তবে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে কোনো রোগী মৃত্যু বরণ করেননি বলে তিনি জানান। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন