Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

পূজাকে কেন্দ্র করে বেড়েছে মদ ও বিয়ার মজুদ

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:২১ পিএম

পূজাকে কেন্দ্র করে বেড়েছে মদ ও বিয়ার মজুদ
Swapno

 

# পূজাতে আমাদের টিম সব সময় মাঠে থাকবে : পরিদর্শক, মাদকদ্রব্য অধিদপ্তর

 

 

শারদীয় দুর্গাপূজা আসলেই নারায়ণগঞ্জ টানবাজার এলাকার কদর বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কারণ হিসেবে জানা গেছে, সেখানে প্রকাশ্যে বিক্রি হয় দেশি বিদেশি মদ-বিয়ারসহ নানা ধরণের মাদক। তাই সে এলাকায় প্রায় সব সময় দেখা মিলে নানা শ্রেণির মানুষের। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জে প্রায় কয়েক কোটি টাকার মদ মজুদ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে সূত্র। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জে মদ বিক্রির অনুমোদিত দু’টি দোকান এসব মদ মজুদ রেখে তা লাইসেন্সবিহীন ক্রেতাদের কাছে বিক্রি করে আসছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, পুলিশ ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে ম্যানেজ করেই দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে এ দু’টি দোকান থেকে মদ বিক্রি হলেও বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের নেই কোন মাথা ব্যথা। তাতে খুব সহজে যুবক থেকে বৃদ্ধা সকলে যে কেউ হাত বাড়ালেই পাওয়া যাচ্ছে এ মাদক। শারদীয় দুর্গাপূজা উৎসব আসলেই মদের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। 

 

তবে নারায়ণঞ্জ সদর থানার ১০০ গজ এর ভিতরে এভাবে প্রকাশ্যে নানা অল্প বয়সের মানুষের কাছে বিক্রি হচ্ছে মদ-বিয়ার তাতে পুলিশের ভুমিকা নিয়ে অনেকটাই প্রশ্নবিদ্ধ। মদ বিক্রির ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের নিয়মানুযায়ী চোলাই যে কোনো মদ ক্রয় করে পান করতে হলে অবশ্যই ক্রেতার লাইসেন্স থাকতে হবে। লাইসেন্স ছাড়া কোনো মদ বিক্রি করা যাবে না। যারা লাইন্সেস পায় তাদের একটি অংশ হলো সুইপার। এছাড়া অমুসলিম আর মুসলিমরা লাইন্সেস পায় মেডিকেল সার্টিফিকেটের মাধ্যমে। লাইন্সেস ছাড়া চোলাই মদ বহন বা পান করা দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

অনুমোদনহীন ব্যক্তির কাছে মদ পাওয়া গেলে কিংবা মদ্যপ অবস্থায় পাওয়া গেলে তার সাজা ২ থেকে ১০ বছর। কিন্তু বাস্তবে ঘটছে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র। লিকু ও সেন ছাড়াও পাওয়া যাচ্ছে নারায়ণগঞ্জ বিভিন্নস্থানে অলিতে গলিতে পাওয়া যাচ্ছে মাদক। টানবাজার এলাকায় অবস্থিত লিকু ও সেন কোম্পানির বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। স্থানীয় এলাকাবাসীর সূত্রে জানা যায়, পুলিশ প্রশাসন ও বিভিন্ন মহলকে ম্যানেজ করেই এখানে আইন ভেঙ্গে মদ বিক্রি করছে তারা। শুধু তাই নয় অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তিও এখান থেকে নিয়মিত মাসোহারা নিয়ে থাকেন।

 

সেন কোম্পানি : নারায়ণগঞ্জ শহরে মদ প্রাপ্তির স্থান হিসেবে টানবাজার এলাকায় সেই ব্রিটিশ আমলে টানবাজার ইয়ার্ন মার্চেন্ট ক্লাবের পাশের গলির পুরাতন জরাজীর্ণ ভবনের নিচতলায় অবস্থিত সেন কোম্পানির দোকানটি বিখ্যাত। যা বাংলা মদের দোকান হিসেবে সমাধিক পরিচিত। এর ঠিক পাশেই রয়েছে টানবাজার পুলিশ ফাঁড়ি ও নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার (খ অঞ্চল) এর অফিস। সেন কোম্পানির বর্তমান মালিক ইমাম হাসান দর্পণ। তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে এ দোকানের মালিক। স্বাধীনতার অনেক পরে বিলুপ্ত নারায়ণগঞ্জ পৌরসভার সুইপারদের কাছে মদ বিক্রির অনুমতি পায় সেন কোম্পানি।

 

যেভাবে চোলাই মদ আমদানি: সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে ট্রেজার চালান জমা দিয়ে চোলাই মদ আনতে হয়। সাধারণত ২ থেকে ৩ ড্রাম আমদানী করার কথা। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সেন কোম্পানি অতিরিক্ত পানি ও স্প্রিরিট মিশিয়ে তার পরিমাণ বাড়িয়ে বিক্রি করে ভেজাল মদ। স্প্রিরিট মিশ্রিত মদ পান করে দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবছর মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা কম নয়। চিকিৎসকদের মতে, স্প্রিরিট মিশ্রিত মদ স্বাস্থ্যের জন্য খুবই ক্ষতিকর।

 

লিকো : নারায়ণগঞ্জে সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আরেকটি মদ বিক্রির দোকান লিকো। শহরের সর্বত্রই এই মদ লিকোর মদ হিসেবে পরিচিত। তবে মদ বিক্রির লাইসেন্স দেয়া হলেও অবাধে সব ধরণের বিয়ারও বিক্রি করছে লিকো। সেন কোম্পানির মতো এরাও যার তার কাছেই মদ বিক্রি করে থাকে। এবার আর দুর্গোৎসবকে ঘিরে লিকো কোম্পানিও বিপুল পরিমাণ মদ মজুদ করেছে। প্রতিদিন গড়ে শতাধিক বোতল মদ ও ৪/৫ কেস বিয়ার বিক্রি করে থাকে লিকো কোম্পানি। তবে উৎসব এলে তাদের বিক্রি বাড়ে কয়েকগুণ। লিকো কোম্পনিতে তিন ধরনের মদের বোতল পাওয়া যায়। এছাড়া দেশি হান্টার বিয়ারও বিক্রি হয়। অন্যান্য বিদেশি ব্র্যান্ডের বিয়ার পাওয়া গেলেও তা অর্ডারের মাধ্যমে গন্তব্যে পৌঁছে দেয়া হয়ে থাকে।   

 

এদিকে নারায়ণগঞ্জ সদর থানা ও টানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা, লাইসেন্স ছাড়া ক্রয় করা ব্যক্তিদের গ্রেফতারের নামে চলছে আইওয়াশ। টানবাজার পুলিশ ফাঁড়ির কতিপয় সদস্য মাঝে মধ্যে অবৈধ মদ্যসেবীদের গ্রেফতারের ছুঁতায় নামে মোটা অংকের অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

 

মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ শাখার পরির্দশক মো, আজিজুল ইসলাম বলেন, মদ পান করার লাইন্সেস ছাড়া কারো কাছে চোলাই মদ বিক্রি করা যাবে না। আর যদি বিক্রি করে তা সম্পূর্ণ বেআইনি। আমরা তাদের সব সময় কাজ করছি এবং তাদের দোকান মনিটরিং করছি তারা যদি নিয়মবহির্ভূত ভাবে কাজ করে থাকে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আপনারা জানেন আমরা আমাদের কয়েকটি টিম সব সময় কাজ করছে। যদি আমাদের কোন সদস্য জড়িত হয় তাহলে তাদের বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজাতে মদের চাহিদা বেশি থাকে তাই আমাদের লোক সব সময় মাঠে থাকেবে। তারা যদি নিয়মের বাহিরে গিয়ে বিক্রি করে তাহলে তাদের লাইন্সেস বাতিল করা হবে। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন