না.গঞ্জে দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করা শুরু করেছে দুদক
মাহফুজ সিহান
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:৩৭ পিএম
# ফার্মার্স ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যানের স্ত্রীর বাড়ি ক্রোক
# চাঁদপুরের বালু খেকো সেলিম চেয়ারম্যানের ফতুল্লার জমি-বাড়ি ক্রোক
দুর্নীতিবাজদের জন্য বড় দুঃসংবাদ দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। সম্প্রতি দুর্নীতি দমন কমিশন দুর্নীতিবাজদের ক্রোককৃত ও অবরুদ্ধ সম্পত্তি সঠিকভাবে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য ‘অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সেল’ নামে একটি সেল দুদক প্রধান কার্যালয়ে গঠন করেছে। আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জে এই সেলের সমন্বয়ে দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পত্তি ক্রোক করা শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যে দুদকের তিনটি মামলায় আদালতের আদেশে এই কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেছে দুদক।
সূত্র জানিয়েছে, দুদকের এই নতুন সেল মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ (মহানগর দায়রা জজ, ঢাকা) এর আদেশ মোতাবেক দুদক, সজেকা ঢাকা-১ এর মামলা নং-১১ (১২)২০০৯ এর আসামি সাবেক ফার্মার্স ব্যাংক এর চেয়ারম্যান মাহবুবুর আলম চিশতীর স্ত্রী আসামি মোছা. রেহী চিশতীর রূপগঞ্জে অবস্থিত সাড়ে ৭ শতাংশ ভিটি বাড়ি সম্পত্তির উপর ক্রোকাদেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে ক্রোককৃত সম্পত্তির সঠিক নিয়ন্ত্রণ, ব্যবস্থাপনা, তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য পদ্মা ব্যাংক লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালককে রিসিভার হিসেবে নিয়োগ করা হয়েছে। মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ধারা ২১এর দুদক বিধিমালা ২০০৭ এর ১৮ (গ) মোতাবেক এই রিসিভার নিয়োগ করা হয়।
সূত্র জানায়, মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ, ঢাকা এর আদেশ মোতাবেক দুদক, সজেকা ঢাকা-১ এর মামলা নং-০১(০৮)২০১২ এর আসামি চাঁদপুরের বালু খেকো চেয়ারম্যান সেলিম খানের নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার কুতুবপুর ইউনিয়নের ভুইগড় মৌজায় থাকা ০.১২৫০ একর জমি ও এর উপর থাকা ১০ তলা বাড়ি সম্পত্তির উপর ক্রোকাদেশ দেয়া হয়েছে। ক্রোককৃত সম্পত্তি তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে।
সিনিয়র স্পেশাল জজ-ঢাকা এর আদেশে দুদক, সজেকা ঢাকা-১ এর মামলানং ২১(১২)১৯ এর আসামি এক সরকারি কর্মকর্তার স্ত্রী জেসমিন পারভীনের রূপগঞ্জের দাউদপুর কুলিয়াদি ইউনিয়নে অবস্থিত ৪ শতাংশ জমির উপর ক্রোকাদেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রেও ক্রোককৃত সম্পত্তি তদারকি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নারায়ণগঞ্জের জেলা প্রশাসককে রিসিভার নিয়োগ করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সুত্র জানায়, দুদকের এই ‘অপরাধলব্ধ সম্পত্তি ব্যবস্থাপনা সেল’ এ দুর্নীতিদমন কমিশন বিধিমালা ২০০৭ (সংশোধিত ২০১৯) এর বিধি ১৮ গ (৩) মোতাবেক নিযুক্ত রিসিভার যথাযথভাবে সম্পত্তি রক্ষণাবেক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ ও তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও জেলায় অবস্থিত দুর্নীতি দমন কমিশনের পরিচালক ও উপ-পরিচালকগণকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এ ব্যাপারে দুর্নীতি দমন কমিশন নারাযণগঞ্জ কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মঈনুল হাসান রওশনীর কাছে জানতে চাইলে তিনি যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আদালতের আদেশে দুর্নীতিবাজদের অবৈধ সম্পত্তি ক্রোকের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ এস.এ/জেসি


