শাহেন শাহের বিরুদ্ধে টিসিবির পণ্য আত্মসাতের অভিযোগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৩, ০৯:৩৮ পিএম
# ডিলার জসিমের সাথে মিলে ২ হাজার লোকের পণ্য বিক্রি করার অভিযোগ
# তার বিরুদ্ধে প্রতারণা ও জমি জালিয়াতির অভিযোগও আছে
# ইন্টারপোলের আসামী শাহেনশাহ পলাতক ছিলেন দীর্ঘদিন
# বিএনপি নেতা হয়েও নির্বাচনের আগে আ’লীগে যোগদান করে সে
# স্বার্থ ফুরালে আবারও বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি হন
বর্তমানের তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নাসিক বন্দর এলাকার ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি। কাউন্সিলর নির্বাচনের সময় ছিলেন আওয়ামী লীগের নেতা। নির্বাচনের আগে ও পরে (বর্তমানে) তিনি বিএনপির একজন সাচ্চা নেতা। বর্তমানে বন্দর থানা বিএনপির সভাপতিও বটে। স্থানীয়রা তার নামের আগে ও পরে অনেক অনেক বিশেষণ ব্যবহার করেন।
তবে ভয়ে তার সম্মুখে কথা বলার সাহস করেন না কেউ। শোনা যায় বিভিন্ন অপরাধে তার নামে নাকি এক ডজনেরও বেশি মামলা আছে।তবে এবার সেই বহুরূপী নেতার বিরুদ্ধে টিসিবির পণ্য আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। যা নারায়ণগগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র, জেলা প্রশাসক ও জেলা পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত আকারে করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, গত ২৫ সেপ্টেম্বর বন্দর উপজেলার বন্দর ইউনিয়নের মিনারবাড়ির বেজেরগাও এলাকার জসিম উদ্দিনের (মোবাইল নাম্বার ০১৮৭৯-৯৬৭১৩৫) জসিম গ্রোসারীর নামক ডিলারের মাধ্যমে নাসিক ২০ নং ওয়ার্ডের ২০০০ হাজার ফ্যামেলি কার্ডধারীর জন্য টিসিবির বরাদ্দ করা চাল, তেল, চিনি ও ডাল ন্যায্য মূল্যে বিতরণের জন্য প্রদান করা হয়।
কিন্তু সেই মালামাল কার্ডধারীদের কাছে বিতরণ না করে ডিলার জসিম উদ্দিন ও কাউন্সিলর শাহেনশাহ আত্মসাৎ করে অন্যত্র বিক্রয় করেছেন। যাহা অত্যন্ত গর্হিত, অমানবিক এবং আইনবহির্ভূত উল্লেখ করে বিষয়টি প্রয়োজনীয় তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বন্দর এলাকার ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহেনশাহ আহমেদ বলেন, এ ধরণের অভিযোগের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। ২৫ সেপ্টেম্বর এ ধরণের কোন মালামাল আসছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার জানা মতে সেদিন যে মাল আসছে তা বিতরণ করা হয়েছে। এই বিষয়ে জানতে ডিলার জসিমের মোবাইলে (০১৮৭৯-৯৬৭১৩৫) কল করা হলে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।
অন্যদিকে নাসিক ২০ নং ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলর শাহেনশাহ বিভিন্ন সময় বিভিন্নভাবে আলোচনায় থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। তিনি বর্তমানে বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি। গত ৯ জুন এক নাটকীয় ঘটনার মাধ্যমে সভাপতি নির্বাচন হন বলে জানা যায়। এর আগে কাউন্সিলর নির্বাচনের সময়ও নাটকীয় ঘটনার জন্ম দেন তিনি। এর আগে থেকে তার বিরুদ্ধে প্রায় দেড় ডজন মামলা আছে বলেও জানা যায়। এক সময়ের ইন্টারপোলের আসামী এবং দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন এই বিএনপি নেতা।
এরপর বর্তমান মহাজোট সরকার ক্ষমতায় আসলে সরকার দলীয় শীর্ষ নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তুলে আবারও এলাকায় আসেন শাহেনশাহ। বিএনপির সক্রিয় নেতা হয়েও সরকার দলীয় লোকদের থেকেও বেশি দাপট তার। এলাকার রড, বালু, সিমেন্টের ব্যবসার পাশাপাশি জমির ব্যবসা এবং সোনাকান্দা হাটের কাছে বিশাল এক ডক ইর্য়াডের মালিক বনে গেছেন শাহেনশাহ আহমেদ। সরকার দলীয় নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তাদের শেল্টার নেয়া শুরু করেন তিনি।
নিজের স্বার্থ হাসিলে কুট কৌশলের আশ্রয় নিয়ে ২০২১ সালে ২৮ সেপ্টেম্বর বন্দরে শেখ হাসিনার জন্মদিনের একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় পার্টির এমপি সেলিম ওসমানের উপস্থিতিতে বন্দর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এমএ রশিদ ও সাধারণ সম্পাদক কাজিম উদ্দিন প্রধানের হাতে ফুল দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদানের নাটক করেন তিনি। সে সময় সেখানে আওয়ামী লীগের বহু বড় বড় নেতা উপস্থিত থাকলেও বিষয়টি নিয়ে কথা বলেননি কেউ।
এরপর থেকে বন্দর থানা ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি শাহেনশাহ হয়ে যান আওয়ামী লীগের নেতা। আওয়ামী লীগের সেই সানইবোর্ড গায়ে মেখেই শাহেনশাহ ২০২২ সালে অনুষ্ঠিত সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ২০নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নির্বাচিত হন। এখানেই শেষ নয়! চলতি বছরের ৯ জুন অনুষ্ঠিত এক কাউন্সিলে পুনরায় বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি নির্বাচন হন তিনি। এর বাইরেও তার বিরুদ্ধে জালিয়াতির মাধ্যমে জমি জমা দখল করাসহ এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব করার অভিযোগ আছে বিস্তর।
এমনকি এত অভিযোগ ও অপকর্ম থাকার পরেও প্রশাসনও তার বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। তাই একদিকে সরকার দলের ছত্রছায়া, বিএনপির পদ পাওয়া এবং প্রশসনের নিরব ভূমিকায় তার বিরুদ্ধে স্থানীয় কেউ কিছু বলার সাহসও দেখাতে পারছে না বলে তার আত্মবিশ্বাস, প্রতাপ ও অপকর্ম চরম আকারে ধারণ করছে বলে মনে করেন তারা। এস.এ/জেসি


