Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

সন্ত্রাসী সজুর থাবায় শিশু-কিশোর নিয়ে আতঙ্কে অভিভাবকরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৫৭ পিএম

সন্ত্রাসী সজুর থাবায় শিশু-কিশোর নিয়ে আতঙ্কে অভিভাবকরা
Swapno

 

# কয়েকটি কিশোর গ্যাংয়ের লিডার বনে যাওয়া সজুর সাথে মুজিবুরের সখ্যতা 
# সাজা হবেনা বলে নানা অপকর্মে কিশোরদের উদ্বুদ্ধ করে সজু

 

 

সম্প্রতি কিশোরগ্যাং, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আর নানা অপকর্মের জন্য সিদ্ধিরগঞ্জে কুখ্যাতি পেয়েছেন সর্বশেষ সিটি নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থী হওয়া তানজিম কবির সজু। তার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ পুরো সিদ্ধিরগঞ্জবাসী। সম্প্রতি ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের ‘তালাশ’ অনুষ্ঠানে সজুর অপকর্মের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। সেই প্রতিবেদনে তাকে শেল্টার দেয়ার পেছনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি মজিবুর রহমানকেও দায়ী করা হয়েছে। মজিবুরের সহায়তায় সজু বিভিন্ন পেশি শক্তি ও রাজনৈতিক শক্তিকে সমৃদ্ধ করতে কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অপব্যবহারে লিপ্ত থাকেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

 

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, সিদ্ধিরগঞ্জর কদমতলী এলাকায় কিশোর গ্যাংয়ের শেল্টারদাতা কিংবা কথিত বড় ভাই হিসেবে তানজিম কবির সজু পরিচিত। তার বিরুদ্ধে ডজন খানেক মামলা রয়েছে। এই এলাকায় তার বিরুদ্ধে মাদকব্যবসা, চাঁদাবাজি ও জোরপূর্বক জমিদখলসহ অনেক অভিযোগ আছে। তার নিয়ন্ত্রণে আছে বেশ কয়েকটি কিশোর গ্যাং। যেসব গ্যাংদের মাধ্যমে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে সজু। মাঝে মাঝে গ্যাং নিয়ে অস্ত্রসহ শোডাউন করে এলাকায় আতঙ্ক তৈরি করে সজু। 

 

সম্প্রতি ভাইরাল হওয়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, সজু তার গ্যাং নিয়ে এলাকায় শোডাউন করার সময় গ্যাংয়ের এক সদস্য তার পায়ে লেগে থাকা ময়লা মুছে দিচ্ছেন। সূত্র জানিয়েছে, সজু বাহিনীতে ইয়াবা শরিফ, কাইল্লা মিঠু, কাউসার, ফেন্সি মুন্না, চাঁদাবাজ রনি, দলা আলামীন, বুইরা সেলিম কিশোর সংগ্রহের কাজে জড়িত। এরপর এরাই কিশোরদের নানা অপকর্মে বিভক্ত করে কাজে লাগায়।

 

সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী আবদুল মমিন হেলাল সম্প্রতি সজু ও তার গ্যাংয়ের নির্যাতন ও চাঁদাবাজির শিকার হয়েছেন। তিনি বলেন, সজু কিশোর গ্যাংয়ের লিডার। সে আমার দোকানে দুইবার এ্যাটাক করেছে। দোকানের টাকা-পয়সা, জামাকাপড় এগুলো আত্মসাৎ করেছে। 

 

হেলালের দোকানে হামলার সময়ের ভিডিওতে দেখা গেছে, হেলাল তখন দোকানে ছিলেন না। সে সময় সজু তার দোকানে গ্যাং নিয়ে প্রবেশ করে। সজু দোকানের ক্যাশ বক্স থেকে টাকা-পয়সা ও মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে যায়। 

 

এলাকাবাসীর অভিযোগ, সাম্প্রতিক সময়ে নারায়ণগঞ্জের কদমতলী এলাকার ভয়ংকর আতঙ্কের নাম এই সজু ও তার এই গ্যাং। কিশোরদের এসব অপরাধের সাথে সংযুক্ত করতে পারলেই এইসব বড় ভাইদের সুবিধা হয়। পড়াশুনা করে ভালো কিছু না করে কিশোররা এসব বড় ভাইদের আশ্রয়-প্রশ্রয়ে বখে যাচ্ছে। বড় ভাইরা কিশোরদের অপরাধ করতে উৎসাহিত করছে এই বলে যে, তোমরা অপরাধ করলে শাস্তি হবে না, সংশোধনাগারে পাঠানো হবে। নগদ টাকার লোভসহ নানা প্রলোভনে তার কিশোরদের নানা অপরাধে যুক্ত করছে। 

 

স্থানীয়রা বলছেন, বড় ভাইদের চালচলন, স্টাইল, মোবাইল গেইমস চরিত্র দেখে কিশোররা অনুসরণ করছে। আর তাদের আকৃষ্ট করতে সজুর মতো চিহ্নিত অপরাধীরাও নানা প্রলোভনের ফাঁদ পাতে। আর কিশোররা অপরাধে জড়িয়ে পড়লে আর ফিরে আসতে পারে না। 

 

সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকার গ্যাসলাইন এলাকার বাসিন্দা আমিনুল হক টুটুল বলেন, গ্যাসলাইন এলাকায় আমার একটা জমি ও মার্কেট আছে। এই জমি ও মার্কেট সজুবাহিনী জোরপূর্বক দখলে নিয়ে নিয়েছে। কেউ যদি এলাকায় নতুন করে কোন বিল্ডিং তোলে সেখানে সজু বাহিনী চাঁদাবাজি করে। ৫ তলা ভবন করলে ৫ লাখ টাকা দিতে হবে তাদের। ইট-সিমেন্ট, রড বিক্রি করে এমন দোকানদারকেও তাকে কমিশন দিতে হবে।

 

স্থানীয়রা বলেন, কোন বাড়ির মালিক যদি এলাকা ছেড়ে বিদেশে যান তবে সেই বাড়ির মালিক বনে যান সজু। বাড়ির মালিকের অবর্তমানে সজু সেই সব বাড়ি কিনেছেন বলে দাবি করেন। সজু এলাকার চাঁদাবাজির শিকার একই এলাকায় শেখ ফরহাদ হোসেন। তিনি জানান সজু কিভাবে তার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের দলে ভেরায়।

 

তিনি বলেন, কিশোর যারা ১৩ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে বয়স এর কমেও আছে। এসব কিশোরদের প্রথমে খাওয়া দাওয়ার জন্য, ঘোরা ফেরার জন্য নগদ পয়সা দেয় সজু। এরপর তাদের সাথে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়ে এসব কিশোরদের বড় ভাই সেজে যায় সজু। অবস্থা এমন জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছে যে, এলাকাবাসী তাদের সন্তানদের নিয়ে আতঙ্কে আছেন। এ ব্যাপারে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ চাচ্ছেন তারা। 

 

র‌্যাব-১১’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল তানভীর মাহমুদ পাশা বলেন, ‘যদিও আমরা তাদের বলছি কিশোর। কিন্তু তারা সাধারণ অপরাধীদের মতোই সকল অপরাধ ছিনতাই, চুরি, মাদক ব্যবসা, হত্যা, ধর্ষণ, ডাকাতি কোন কোন ক্ষেত্রে ভূমিদস্যুদের লাঠিয়াল বাহিনী হিসেবে তারা কাজ করছে। র‌্যাবের এই ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, কিশোরদের অনেক সময় তাদের সেই বড় ভাই শিখিয়ে দেয় যে কিশোর হওয়ার দরুণ তাদের কোন সাজা হবে না। অথচ ওই কিশোররা সাধারণ অপরাধীদের মতোই অপরাধ করছে।’ এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন