Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

মুখোশধারী শাহেনশাহ’র অনেক লেবাস 

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২২ অক্টোবর ২০২৩, ০৮:১৪ পিএম

মুখোশধারী শাহেনশাহ’র অনেক লেবাস 
Swapno

 

# তার কুকর্মের ব্যাপারে মুখ খুলতে শুরু করেছেন এলাকাবাসী
# মিথ্যে ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে সেই ব্যক্তির জমিজমা আত্মসাৎ করেন তিনি

 

 

সর্বশেষ স্বল্প আয়ের মানুষের মাঝে ন্যায্য মূল্যে বিতরণের টিসিবির পণ্য আত্মসাতের মাধ্যমে আবারও আলোচনায় আসেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নাসিক ২০ নং ওয়ার্ডের (বন্দর এলাকার) কাউন্সিলর শাহেনশাহ আহমেদ। বিষয়টি ব্যাপক আলোচনা সমালোচনার পর এখন মুখ খুলতে শুরু করেছেন স্থানীয়রা। অনেকেই তার বিরুদ্ধে তথ্য দেওয়া শুরু করেছেন। তবে এখনও তাদের মনে ভয়, যদি শাহেনশাহ জানতে পারে তাহলে হয়তো অনেক ভয়ানক কিছু হতে পারে এই আশঙ্কা তাদের।

 

তাদের ধারণা এখনও যদি রাজনৈতিক প্রভাব ছাড়া সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়, তাহলে তার এত অল্প সময়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়া অর্থাৎ কোটি কোটি টাকার মালিক হওয়ার রহস্য উন্মোচন হয়ে যাবে। স্থানীয়দের মতে বন্দর উপজেলার সোনাকান্দা ও আশেপাশের এলাকায় এক সময় ক্রসফায়ারের তালিকাভূুক্ত ও সন্ত্রাসী শাহেনশাহ’র পরিচিতি ছিল কুখ্যাত ক্যাডার হিসেবে। তার কর্মে রাজনীতিবিদ থেকে শুরু করে প্রশাসনও তটস্থ থাকতো বলে জানান তারা।

 

ঐতিহাসিক সোনাকান্দা হাটের পাশের একটি বিশাল জায়গা নিয়ে গড়ে তোলা একটি ডক ইয়ার্ড ও কাউন্সিলরের নাম ব্যবহার করে সম্রাজ্যের পাহাড় গড়ে তোলেন তিনি। এই সময়ই সে তার অতীত অপকর্মগুলো মুখোশের আড়ালে ঢাকতে ভালো মানুষের মুখোশ পড়ে নতুন লেবাসে নিজেকে সাজান শাহেনশাহ। তবে লেবাস পাল্টালেও নিজের বাটপারি চরিত্র পাল্টাননি তিনি। যার ফলে সাধারণ গরীব মানুষের এই অল্প টাকার টিসিবি পণ্য আত্মসাতের লোভও সামলাতে পারেননি তিনি। তার বিরুদ্ধে আছে মিথ্যে ওয়ারিশ সনদ দিয়ে সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার মতো অভিযোগ।

 

এরই মধ্যে নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি পত্রিকায় বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি ও নাসিক ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শাহেনশাহের বেশ কিছু কাহিনী বেশ ফলাও করে প্রচার করা হয়। আর এতে করে নতুন করে স্থানীয়রা শাহেনশাহকে নিয়ে আলোচনা করতে নতুন করে ভাবতে শুরু করেছেন। আবারও আলোচনায় আসছে পুরোনো সেই খুনী লুটেরা সন্ত্রাসী ইন্টারপোল ও ক্রসফায়ারের আসামি নানা বিতর্কে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কথা।

 

পল্টিবাজ এই প্রতারকের বার বার ফেল করার পরও এবং বিএনপির তালিকাভূক্ত নেতা হওয়ার পরও আওয়ামী লীগ নেতাদের বোকা বানিয়ে অবশেষে ২০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলরের পদ হাতিয়ে নেওয়ার কথা। আলোচনায় আসছে স্বার্থ উদ্ধার করার পর আবারও বিএনপিতে যোগদান করে বন্দর থানা বিএনপির পদটিও বাগিয়ে নেওয়ার কথা। এরই সাথে উঠে এসেছে কিভাবে মিথ্যা ওয়ারিশ সনদপত্র দিয়ে একজনকে আরেকজনের মিথ্যে সন্তান বানিয়ে তার সম্পত্তি কেড়ে নিয়েছে সেই কথা।

 

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়, জমি কিনে বন্দরের নাসিক ২০ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা হন বরিশালের এক ব্যক্তি। তিনি দীর্ঘ দিন সৌদি প্রবাসী ছিলেন। জানা যায়, গ্রামের বাড়িতে তিনি তিন তিনটি বিয়ে করেছেন। কিন্তু শারিরীক অসুবিধার কারণে বাবা হতে পারেননি তিনি। যে কারণে তিন জন স্ত্রী-ই তাকে তালাক দিয়ে চলে যায়। তাই তিনি তার নিজ এলাকা বরিশাল ছেড়ে নারায়ণগঞ্জ বন্দরের নাসিক ২০ নং ওয়ার্ডের পশ্চিম হাজীপুর এলাকায় জমি কিনে বসত ভিটা গড়ে এখানে বসবাস শুরু করেন। একই সাথে সেখানে স্থানীয় এক গরীবের মেয়েকে চতুর্থ স্ত্রী হিসেবে গ্রহণ করেন।

 

কিন্তু প্রায় দেড় বছরের মতো সংসার করার পরও তাদের সংসারে কোন সন্তান না হওয়াসহ বিভিন্ন কারণে পারিবারিক কলহের ঘটনা ঘটে। এরপর সে স্বামীর নামে মামলা মোকদ্দমা করে সোনাদানা নিয়ে এক পর্যায়ে সেই স্বামীকে তালাক দিয়ে অন্যত্র বিয়ে করে সেই চতুর্থ স্ত্রী। এরপর সেই ব্যক্তি আবারও সৌদি প্রবাসে চলে যান এবং করোনার সময় করোনার কারনে মারা যায়। করোনায় মারা যাওয়ায় তার মরদেহও সে সময় আর দেশে আনা সম্ভব হয় না।

 

তখন সেই চতুর্থ ডিভোর্সী স্ত্রী এই কাউন্সিলর শাহেনশাহ'র কাছ থেকে মোটা অংকের লেনদেনের বিনিময়ে অন্যের সন্তানকে (পরে বিয়ে হওয়া স্বামীর) সেই প্রবাসে নিহত ব্যক্তির সন্তান হিসেবে মিথ্যে ওয়ারিশ সনদ বানিয়ে সেই ব্যক্তির জমিজমা আত্মসাৎ করে। এ নিয়ে নারায়ণগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশের তৎকালীন ওসি যিনি এক সময় বন্দর থানার ওসি ছিলেন সেই ইন্সপেক্টর ফখরুদ্দীন এ ঘটনার সত্যতা উদঘাটন করেন। টাকার জন্য এহেন জালিয়াতি ও করেছেন কাউন্সিলর হাজী শাহেনশাহ। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন