শাহেনশাহে অতিষ্ঠ হয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে এলাকাবাসী
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৩ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৫৬ পিএম
# ডিসি অফিস থেকে মহিলা কাউন্সিলরদের এই পণ্য দেয়া হয় না : শিউলী নওশাদ
# কাউন্সিলরকে পাওয়া যায়নি, অনেক কার্ডধারীই অভিযোগ করেছেন : হান্নান মিয়া
# প্রতিবারই পণ্য আসলে সেখান থেকে মাল সরিয়ে রাখে সে : এলাকাবাসী
সোনাকান্দার গরুর হাটটি একটি ঐতিহ্যবাহী হাট। অথচ ২০২২ এবং ২০২৩ সালে সোনাকান্দা গরুর হাট থেকে জনগণের শেয়ারের কয়েক কোটি টাকা মেরে দিয়েছে। যেখানে প্রতি শেয়ারে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকার মতো পাওয়ার কথা সেখানে তাদের তিন চার মাস ঘুরিয়ে এদের মধ্যে কাউকে তিন হাজার কিংবা চার হাজার টাকা দিয়েছে বলে স্থানীয় একাধিক সূত্র জানিয়েছে।
নিরীহ প্রকৃতির লোক যারা আছে তাদের অনেককেই সেই শেয়ারের টাকা দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। গরুর হাটে যে প্যান্ডেল ব্যবহার করা হয়েছে তার ভাড়ার টাকা নিয়ে অনেক গড়িমসি করা হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্র জানায়। তাছাড়া গরুর হাটের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে গরু সংগ্রহ করার পর তাদের অনেকের টাকাই আর ফেরৎ দেওয়া হয়নি বলে জানা যায়। এমনকি নিজ দলীয় নেতাসহ অনেকেরই জায়গা জোর পূর্বক দখল করে রেখেছে বলে জানা গেছে।
সেসব কারণে জমির মালিকগণ বিক্রি করতেও পারে না, আবার নিজেরাও দখল করতে পারছেন না। কিন্তু শাহেনশাহর ভয়ে তারা মুখ খুলতে পারছে না। এমনকি জন্ম নিবন্ধন নকল করার বিষয়টি ধরা পরার কারণে কিছুদিন আগে তার পিএস আহাম্মদকে চাকরিচ্যুত করা হয়। তার বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করার প্রক্রিয়া চলছে বলেও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
শাহেনশাহর দাপটের কারণে ভূক্তভোগীরা এখন অনেক শঙ্কার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন উল্লেখ করে তারা জানান, শাহেনশাহ বর্তমানে বন্দর থানা বিএনপির সভাপতি। অথচ বিএনপি এখন ক্ষমতায় নেই। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। সেই আওয়ামী লীগের শাসনামলেই শাহেনশাহর এতটা প্রতাপ, এতটা দাপট। যদি বিএনপি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে তাহলে তার সেই দাপট কোন পর্যায়ে গিয়ে দাঁড়াবে তা খুবই চিন্তার বিষয় বলে মনে করেন তারা।
এমনকি পারিবারিক কোন ঝগড়ার বিষয়ে তার কাছে নালিশ করলে সেখানেও সে তাদের সাথে আগে যোগাযোগ করে তার পাওনার বিষয়টি নিশ্চিত করে নেয় বলে জানা যায়। সেই নালিশের যে জরিমানা করা হয় তা থেকে শাহেনশাহর জন্য নির্দিষ্ট একটি ভাগ নির্ধারণ করা থাকে বলে জানান তারা। এরকম বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে কোটি কোটি টাকার মালিক বনে গেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ।
বিষয়টি নিয়ে সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, যখনই টিসিবির কোন পণ্য আসে তখনই শাহেনশাহ তার কাছ থেকে একটি অংশ আলাদা করে রেখে দেয়। অনেক কার্ডধারীকেই সে এবার মাল দেওয়া হবে না বলে সরাসরি জানিয়ে দেয়। আবার অনেকের কাছ থেকেই মালের মূল্য বাবদ নির্ধারিত টাকা নিয়ে তাদের মাল দিতে অস্বীকার করে। পরে অনেক অনুনয় বিনয় করে তার কাছ থেকে মাল নিতে হয়। এবার যে মাল আসছে তার প্রথম ভাগের মাল দেওয়া হলে বাকিদের মাল দু’একদিনের মধ্যে আসছে বলে জানানো হয়।
কিন্তু পরে আর সেই মাল দেওয়া হয়নি। পরে বিভিন্ন মাধ্যমে তারা জানতে পারে সেই মাল শাহেনশাহ এবং ডিলার মিলে বিক্রি করে ফেলেছে। এদের মধ্যে অনেক মহিলাই অভিযোগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমরা বেশিরভাগই মহিলা মানুষ, তাই আমাদের মহিলা কাউন্সিলরদেরও যদি এই দায়িত্ব দেওয়া হয় তাহলে হয়তো আমরা বেশ কিছুটা ভরসা পাইতাম। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য শাহেনশাহর সাথে কথা বলার জন্য মোবাইলে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলে মোবাইল রিসিভ করেননি তিনি। কথা বলার জন্য তার বাসায় গিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি।
এই বিষয়ে জানতে চাইলে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সহকারী সচিব মোহাম্মদ হান্নান মিয়া বলেন, পত্রিকায় প্রকাশিত অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করার জন্য আমরা স্পটে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাদের আরও কাজ বাকি আছে, আরও যাচাই বাছাই করার প্রয়োজন আছে। এরপরই আমরা আমাদের রিপোর্টটি প্রকাশ করতে পারবো। তিনি আরও জানান, ২০ নং ওয়ার্ডের কার্যালয়ে গিয়ে কাউন্সিলর শাহেনশাহকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইলে চেষ্টা করা হলেও কাউন্সিলর তা রিসিভ করেননি বলেও জানান তিনি। তবে সেখানে উপস্থিত অনেক কার্ডধারীই অভিযোগ করছেন বলে জানান তিনি।
নাসিক ১৯, ২০ এবং ২১ ওয়ার্ডের সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর শিউলী নওশাদ বলেন, কাউন্সিলর শাহেনশাহ ভাই যদি এমন কাজ করে থাকে, এ ধরণের কাজকে আমি সমর্থন করি না। তিনি বলেন, আমাদের এই ওয়ার্ডে ৪ হাজার ৫৪টি টিসিবি কার্ড আছে। প্রতিমাসে দুইবার আমাদের এখানে টিসিবির গাড়ি আসে এবং দুই ভাগে এই মাল দেওয়া হয়। গত মাসের ২১ তারিখে প্রথম লটের মাল থেকে ২ হাজার ৫৪ জন কার্ডধারীকে মাল বিতরণ করা হয়। এরপর বাকি মাল দু’একদিনের মধ্যে দেওয়ার কথা থাকলেও আর দেওয়া হয়নি।
তাই কার্ডধারীর অনেকেই পণ্য না পেয়ে আমার কার্যালয়ে এসেছে বাকি মালের বিষয় জানতে চেয়েছে। কিন্তু যেহেতু বিষয়টি আমি তেমন কিছু জানি না তাই শীঘ্রই মাল দেওয়া হবে বলে আমি তাদের ধৈর্য্য ধরার অনুরোধ করি। এরপর আমি আমার পিএস সানিকে বিষয়টা জানার বলি। সে ডিলার জসিম উদ্দিনের ম্যানেজার সোহাগকে ফোন করে জানতে পারে, ডালের জন্য টিসিবি’র গাড়ি আসেনি, তাই পণ্য বিতরণ করা হয়নি। ডাল আসলেই পণ্য দিয়ে দেওয়া হবে। তারপরও অনেক দিন পার হয়ে গেলেও সেই পণ্য আসেনি।
৪/৫ দিন আগে আমি ফেসবুকের একটি অপরিচিত আইডি থেকে জানতে পারি কাউন্সিলর শাহেনশাহ এবং ডিলার জসিম উদ্দিন মিলে টিসিবির ২ হাজার মাল অন্যত্র বিক্রি করে ফেলেছে। তখন বিষয়টি গুরুত্ব দেইনি। এরপর বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় বিষয়টি আসে। এরপর একজন কাউন্সিলর হিসেবে জনগণ আমার কাছে জবাবদিহিতা চায়। আমি তাদের বলে দেই যে, ডিসি অফিস থেকে শুধু পুরুষ কাউন্সিলরদের টিসিবির পণ্য দেয়। কোন মহিলা কাউন্সিলরদের দেয় না। তাই এই বিষয়ে আমি সরাসরি হস্তক্ষেপ করতে পারি না। এস.এ/জেসি


