প্রধান শিক্ষকের বিভিন্ন অনিয়মে ধ্বংস দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৩, ০৩:০১ পিএম
# এর আগে বলৎকারের ঘটনায় জেল এবং বরখাস্তও হয়েছিলেন এ শিক্ষক
# কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা গ্রহন করবো : জেলা শিক্ষা অফিসার
নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা ফতুল্লার দাপা ইদ্রাকপুর এলাকায় দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের নানান অনিয়মে বিদ্যালটি আজ অনেকটাই ধ্বংসের পথে নেমে এসেছে। জানা যায়, ১৯৮৩ সালে স্থপিত এই বিদ্যালটি নারায়ণগঞ্জ জেলার মধ্যে অনেক সুনামের সাথেই চলছিলো।
এমনকি বিদ্যালয়টি শুরুর পর থেকেই বিদ্যালয়ের রেজাল্ট বোর্ডে শিক্ষার্থীদের পাশের হার সবকিছুই ভালো ছিলো। তবে বেশ কয়েক বছর যাবৎ তা অনেকটাই হারাতে বসেছে এই ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়টির সুনাম। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই বিদ্যালয়ের বর্তমান প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব ২০১৭ সালের ২৭ অক্টোবর বিদ্যালয়ে যোগদানের পরপরই বিদ্যালয়টিতে একের পর এক অনিয়মে সুনাম ধরে
রাখা অবস্থানে থাকা বিদ্যালটি আজ ধ্বংসের দারপ্রান্তে এসে দারিয়াছে। বেশ কয়েক বছর আগেও বিদ্যালটিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১২শতাধিকের উপরে থাকলেও প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিবের নোংরামিতে তা এখন ৫ শতাধিকে নেমে এসেছে এমনটাই অভিযোগ করেছেন অনেকে। তিনি বিদ্যালয়ে আসার দের বছর যেতে না যেতেই বিদ্যালয়ের এক চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারীর সাথে বলাৎকারের ঘটনা
ঘটায়। জানা যায় ,বিদ্যালয়ে আসার পর থেকেই অনেকেই লক্ষ করেছেন তার মধ্যে চারিত্রিক সমস্য রয়েছে। সে একজন একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হওয়া সত্বেও উক্ত স্কুলের একজন চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী খকরুল আলমকে বিভিন্ন সময় মানসিক ভাবে প্রবোচনা ও অপকর্ম করার জন্য প্রস্তাব দিয়া বিভিন্ন প্রকার ভয়ভীতি সহ চাকরী থেকে চাকরী থেকে বহিস্কার করার ভীতি প্রদর্শন পূবক
কাম লালশা চারিতার্থ করার প্রচেষ্টায় লিপ্ত থাকিয়া গত ৩১/১/১৯ ইং তারিখে বিদ্যালয় ছুটি হবার পর ৪ টা ৩০ ঘটিকায় উক্ত আসামী ভিকটিমকে তার পরনের জামা কাপর খুলে ফেলতে বলে এবং তখন ভিকটিম ফখরুল তখন তার কতা না শুনতে চাইলে সে তাকে মারধর করে। এই ঘটনার পর ভিকটিম আত্যহত্যার চেষ্টাও করেছিলো। সেই ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক ভাবে আলোড়ন সৃষ্টি হয় সেই
সময় এই মামলায় তিনি মাস খানেকের মতো জেল খাটতে হয়েছে। পরবর্তীতে তাকে বিদ্যায়টি থেকে সাময়িক বরখাস্ত হলেও আবারো বিদ্যায়য়টি কারো তদবিরে আবারো বিদ্যায়টিতে জয়েন করে। তবে তারপরেও থামেনি তার অপকর্ম। নিজের মন মতো করে তিনি বিদ্যালয়টি চালাচ্ছেন তার এমন কার্যক্রমে দিন দিন বিদ্যালয়টি থেকে পাশের হার ও শিক্ষাথীর সংখ্যা কমতে থাকে। শুধু তাই নয় বিদ্যালয়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকলেও তার হাজিরা খাতায় নিজে এসে উপস্থিত দেখান। এমনকি তার এই বিদ্যালয়টির সহকারী প্রধান শিক্ষক শাহ আলম দাপা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ক্লাস চলাচকালীন সময়েও তার ক্লাস বাদ দিয়ে নিজের ব্যক্তিগত সেহাচর আইডিয়াল
স্কুলে ক্লাস করার যা সম্পূর্ন নিয়মের বহির্ভূত। প্রধান শিক্ষকের খামখেয়ালিতে বিদ্যালয়টি দীর্ঘদিন যাবৎ কমিটি হচ্ছে না। তবে বিদ্যালটি এডহক কমিটি করার জন্য গত ১৬/৮/২৩ ইং তারিখে কমিটি গঠন অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে বোর্ডের। ম্যানেজিং কমিটি গঠন বিষয়ক প্রবিধানমালা ২০০৯ এস আর ও নং ৯৯ / আইন/২০০৯ এর ৩৯(১) নং ধারা অনুযায়ী গঠিত এডহক কমিটিতে অন্তর্ভূক্ত করার জন্য
কাগজপত্র অফিসে প্রেরনের অনুরোধ জানায়। ১/ সভাপতির মনোনয়নের জীবন বৃত্তান্ত সহ তিনজন ব্যাক্তির নাম ২/ একজন শিক্ষক পওতিনিধর নাম ৩/একজন অভিভাবক প্রতিনিধর নাম এরপর ম্যানেজিং কমিটি গঠন বিষয়ক প্রবিধানমালা ২০০৯ এস আর ও নং ৯৯ / আইন/২০০৯ এর ৩৯(১) নং ধারা মোতাবেক নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে ফতুল্লা নারায়ণগঞ্জের এডহক
কমিটিতে অভিভাবক প্রতিনিধি পদে মাননীয় সাংসদ সদস্য নারায়ণগঞ্জ ৪ মহদয়ের আধা সরকারিপত্র এর আলোকে এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার নারায়ণগঞ্জ সদর কতৃক দাখিলকৃত সূত্রে বর্নিত এম এ রহিমকে মনোনয়ন প্রদান করা হয়। আরও জানা যায়, বর্তমান প্রধান শিক্ষক আহসান হাবীব বিগত ২৭/৫/২০১৭ তারিখে যোগদানের পর থেকে সাত বছর সময়ের মধ্যে পর পর ৬ টি এডহক
কমিটি গঠন করার পরেও নিয়মিত ম্যানেজিং কমিটি গঠন দৃশ্যমান কোন উদ্যেগ গ্রহন করেনি। এ বিষয়ে দাপা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আহসান হাবিব তার এ সকল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিদ্যালয়ে এডহক কমিটি হবে এটা আমার জানা নাই বোর্ড থেকে আমি কোন মেইল পাইনি যদি পাই তখনই বলতে পারবো।
আমিও চাই কমিটিটা হয়ে যাক আমরা এটা করার জন্য ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছি। এসময় তিনি আরও বলেন আমার স্কুলের শিক্ষকের কথা বললেন তিনি সকালের শিফট এ তার বিদ্যালয়ে ক্লাস করান এতে আমি দোষের কিছু দেখছিনা। যারাই আপনাকে এ ধরনের তথ্য দিয়েছেন ভূল দিয়েছেন। আর দ্বিতীয়ত ১ হাজার শিক্ষার্থী কখনোই ছিলো না।
এ বিষয়ে জানতে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিক্ষা অফিসার ইউনুস ফারুকীর সাথে যোগযোগ করা হলে তিনি জানান, যতটুকু জানি কমিটির জন্য বোর্ডে আবেদন করা হয়েছে। আর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বেশিরভাগ সময় বিদ্যালয়ে থাকেন না সেটা জানতাম না আমার কাছে এমন কোন কেউ লিখিতভাবে অভিযোগ জানায়নি।
আর যেহেতু এখানে অনেকদিন যাবৎ কমিটিটা হচ্ছে না তাই একটু না সমস্যা হবেই। কমিটিটা থাকলে হয়তো এই ধরনের সমস্যাগুলো হতো না। তারপরেও আমি খোঁজ নিবো যদি কোন ধরনের অনিয়ম পাই তাহলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আরও জানতে পেরেছি সেখানে গ্রæপিং এর কারনে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এন. হুসেইন রনী /জেসি


