৮ নভেম্বর থেকে মাঠে নামছেন শামীম ওসমান
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ নভেম্বর ২০২৩, ০৮:৪৫ পিএম
আগামী জাতীয় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচননকে ঘিরে পুরোদমে মাঠে রয়েছে আওয়ামী লীগ। বিপরীতে বিএনপি জামাত হরতাল অবরোধ কর্মসূচি দিয়ে সরকারকে পদত্যাগে দাবী জানিয়ে আসছে। কিন্তু কিন্তু কে শুনে কার কথা। ক্ষমতাসীন দল বিএনপির দাবীতে কোন কর্ণপাত না করে তারা নির্বাচনের পথে হাটছে। সেই অনুপাতে নারায়ণগঞ্জের ৫টি আসনে যারার নৌকার মনোনয়ন চেয়ে যাচ্ছে তারাও মাঠে সক্রিয় রয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান সম্প্রতি একাধিক সভা সমাবেশে উপস্থিত হয়ে তার বক্তব্যে বলেছেন তিনি আগামী নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন চান। এমনকি তাকে যেন দল থেকে মনোনয়ন না দিয়ে অন্য কাজে লাগানো হয়। তিনি প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েনে তাকে নেত্রী মনোনয়ন না দেন।
তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে সাংসদ শামীম ওসমান বলেন এক করেন আরেক। তার দলের নেতা কর্মীরাও এই কথার সাথে সহমত পোষন করেন। তবে দলের নেতা কর্মীদের মাঝে প্রশ্ন উঠেছে তিনি যদি আগামী নির্বাচনে প্রার্থী না হন বা দল তাকে মনোনয়ন না দেন তাহলে তার আসনে আওয়ামী লীগ থেকে কে নির্বাচন করবে। যারার নির্বাচন করতে চান মাঠে তাদের এক্টিভিটিসই বা কতটুকু।
অপরদিকে ৪ নভেম্বর ঢাকার সমাবেশকে সাফল্য মন্ডিত করার জন্য আয়োজিত প্রস্তুতি সভায় সাংসদ শামীম ওসমান নেতা কর্মীদের নতুন বার্তা দেন। আজকের সমাবেশের পরে আগামী ৮ নভেম্বরের পর থেকে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত মানুষের কাছে গিয়ে সকলের সাথে কথা বলবেন বলে জানান।
রাজনৈতিক মহলে আলোচনা হচ্ছে আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমান তার দলীয় সভানেত্রীর কাছে বলেছেন তাকে যেন মনোনয়ন না দেয়া হয়। অথচ নির্বাচনে তপসিল ঘোষনার আগমহুর্তে এসে তিনি নিজেকে মাঠে নামার ঘোষণা দিয়েছেন। তাহলে কি সাংসদ শামীম ওসমানই নারায়ণগঞ্জ-৪ আসন থেকে মনোনয়ন পাচ্ছেন।
প্রস্ততি সভায় এমপি শামীম ওসমান জানান, আগামী ৮ নভেম্বর থেকে আমরা মানুষের সাথে কথা বলা শুরু করবো। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত আমাদের এই কার্যক্রম চলবে। আমাকে শুধু একটু হাটার ব্যবস্থা করে দিবেন। নো সেলফি আমি শুধু মানুষের সাথে কথা বলবো। সেদিন যেন কোন হাই ব্রীড নেতা আমার সাথে না থাকে।
যাদের সিএস এস এ আর এস পর্চা রয়েছে আমি সেই সকল নেতাদের নিয়ে কথা মানুষের সাথে কথা বলতে চাই। তার এই মন্তব্যের পরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা হচ্ছে তিনি কি তাহলে নির্বাচনের জন্য আগে থেকে প্রচারনার জন্য মানুষের কাছে গিয়ে কথা বলতে চাচ্ছেন।
যদিও তিনি আওয়ামী লীগ সভানেত্রীকে বলেছেন তাকে যেন মনোনয়ন না দেয়া হয়। সাংসদ শামীম ওসমানকে যেন অন্য কোন জায়গায় কাজে লাগানো হয়। অথচ তিনি নির্বাচনের ঘোষনা না দিলেও নির্বাচনের প্রচারনার অংশ হিসেবে মাঠে নামছে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বোদ্ধমহল।
নির্বাচন কমিশন সূত্র মতে, ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। পরে ওই সংসদের প্রথম অধিবেশন বসে ২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি। সংবিধানের ১২৩ (৩) (ক) অনুযায়ী মেয়াদ-অবসানের কারণে সংসদ ভেঙে যাওয়ার পূববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
সেই হিসেবে ২০২৩ সালের ৩০ অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারির মধ্যেই দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন সম্পন্ন করতে হবে। তাই ক্ষমতাসীন দল নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। বিপরীতে বিরোধী দল বিএনপি সরকারকে পদত্যাগের দাবী জানিয়ে ৩১ অক্টোবর থেকে টানা তিন দিন ২ নভেম্বর পর্যন্ত সারাদেশে অবরোধ পালন করেছে।
আবার ৭ ও ৮ নভেম্বর অবরোধ ঘোষনা করেছে বিএনপি। সুত্রমতে, আগামী ছয়ই জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের তারিখ ধরে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন-ইসি। আটই নভেম্বর থেকে ১৩ই নভেম্বরের মধ্যে তফসিল ঘোষণার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। আগামী পাঁচই নভেম্বর রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে ইসি। তফসিল ঘোষণার বিষয়ে ইসি সচিব মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নভেম্বরের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণা করে জানুয়ারির প্রথমার্ধে ভোটগ্রহণের জন্য প্রস্তুতি রয়েছে।


