টানা হরতাল-অবরোধে সাধারণ মানুষের মাঝে অস্থিরতা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৭ নভেম্বর ২০২৩, ০৭:১৬ পিএম
# এভাবে অবরোধ চলতে থাকলে আমরা গরীব মানুষ বাঁচবো না : দিন মজুর নুরুদ্দিন
# আমি আমার ভোটের অধিকার চাই, তাই অবরোধ সমর্থন করি : শিক্ষাবিদ কবির চৌধুরী
আবারও দুই দিনের অবরোধ ডেকেছে বিএনপি জামায়াত এবং সমমনা বিরোধী দলগুলি। ফলে টানা অচলাবস্থার মাঝে পরেছে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি। এর আগে একদিন হরতাল এবং দুই দফায় পাঁচ দিন অবরোধ পালন করেছে বিএনপি। আজকের দিনটি বাদ দিয়ে কাল থেকে আবার দুই দিন অবরোধ। অথচ দেশে নির্বাচনের আর মাত্র দুই মাস বাকি রয়েছে। এমতবস্থায় এসব অবরোধ হরতালকে কিভাবে দেখছেন নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ।
গতকাল বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে তাদের মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের অধিকাংশ মানুষ তাদের বক্তব্যে অস্থিরতা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই জানিয়েছেন এই অবস্থা চলতে থাকলে দেশের ধ্বংস প্রায় অর্থনৈতিক অবস্থা আরো ধ্বংস হয়ে যাবে। তাই তারা যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আলাপ আলোচনার মাধ্যমে এই অচলাবস্থার অবসান চাইছেন।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জের ব্যবসায়ী আবদুল কাদির বলেন, আর দুই মাস পরেই দেশে নির্বাচন হওয়ার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত আমরা কোনো নির্বাচনের লক্ষন দেখতে পাচ্ছি না। বরং বিরোধী দলগুলো দিনের পর দিন হরতাল অবরোধ ডেকে চলেছে। ফলে জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। দুর পাল্লার কোনো যানবাহন চলছে না। এতে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা চরম খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমনিতেই দেশের মানুষের ক্রয় ক্ষমতা অনেক কমে গেছে। সব ধরনের জিনিসপত্রের দাম আকাশ ছোয়া।
তার উপর হরতাল অবরোধের কারণে আরো বেড়ে যাবে সব কিছুর দাম। তাছাড়া অর্থনৈতিক ভাবে দেশ একেবারে পঙ্গু হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যাই ঘটুকনা কেনো এটাও সত্য যে বিএনপিকে এখন যে অবস্থার দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে তাতে হরতাল অবরোধ ডাকা ছাড়া তাদের কোনো উপায়ও নেই। কারণ সরকারই শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের সকল পথ বন্ধ করে দিয়েছে। তাই আমার মনে হচ্ছে বিএনপি আগামী দিনে আরো কঠোর আন্দোলনের পথেই হাটবে।
কারণ সরকার চাইছে বিএনপিকে বাদ দিয়ে এবারও একটি একতরফা নির্বাচন করে ফেলতে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এ দেশে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ এই দুই দলের কোনো এক দল নির্বাচনে না গেলে সেই নির্বাচন কারো কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না বা প্রতিদ্বন্দ্বীতামূলক হবে না। তাই আমি মনে করি এখনই আলাপ আলোচনার মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা উচিৎ। নইলে এই দেশ ধ্বংস হয়ে যাবে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতিতে আমরা খুবই চিন্তিত।
এ বিষয়ে দিন মজুর নূরুদ্দিন বলেন, আমি সকালে একটি প্রতিষ্ঠানে পিয়নের চাকুরী করি আর রাতে এবং ছুটির দিনে বন্দরে রিকশা চালাই। নইলে আমার সংসার চলে না। কিন্তু জিনিসপত্রের দাম যেভাবে বেড়েছে তাতে আমার পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকাই কষ্টকর হয়ে পরেছে। তার উপর এভাবে দিনের পর দিন যদি অবরোধ চলতে থাকে তাহলে আমরা গরীব মানুষ বাঁচবো না। তাই আমার দাবি বিরোধী দলগুলি যেনো হরতাল অবরোধ না দিয়ে অন্য কোনো কর্মসূচি দেয় আর সরকারের উচিৎ দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। কারণ সরকারের দায়িত্বই বেশি বলে আমি মনে করি।
এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের চাকুরিজীবি রিজভী আহম্মেদ বলেন, দেশের মানুষের ভোটের অধিকার কেড়ে নেয়ার কারণেই এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তাই মানুষের ভোটের অধিকারের জন্যই বিএনপি অবরোধের ডাক দিয়েছে। তাই আমি এই অবরোধ সমর্থন করি। কারণ সরকার বিরোধী দলগুলিকে কোনো রকম স্পেস দিচ্ছে না। তাই হরতাল অবরোধ দেয়া ছাড়া তাদের কোনো উপায়ও নেই বলে আমি মনে করি।
এদিকে এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ শহরের অনেকের কাছেই পরিচিত মুখ ও শিক্ষা উদ্যোক্তা কবীর চৌধুরী এই প্রতিনিধিকে পাল্টা প্রশ্ন করে বলেন আপনিই বলুন বিএনপির এখন আর কি করার আছে? এটা ঠিক যে হরতাল অবরোধের কারণে দেশের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। কিন্তু বিএনপির তো আর কোনো উপায় নেই। বিএনপিকে এখন আর দোষ দেয়া যাচ্ছে না। কারণ হরতাল অবরোধ হলো রাজনীতিতে অধিকার আদায়ের শেষ হাতিয়ার।
বিএনপিকে সরকার শান্তিপূর্ণ পন্থায় আন্দোলন করতে না দেয়ার কারণেই বিএনপি বাধ্য হয়ে হরতাল অবরোধ ডাকছে। আমি মনে করি বিএনপি যদি সঠিক পন্থায় এই হাতিয়ারটি ব্যবহার অব্যাহত রাখে তাহলে সরকার বাধ্য হবে জনগনের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে। আমরা আমাদের ভোটের অধিকার ফেরত চাই। আশা করি সরকারের শুভ বুদ্ধির উদয় হবে। এস.এ/জেসি


