হত্যা, আত্মহত্যা ও বিভিন্ন দুর্ঘটনার মতো অপমৃতু বা অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার বর্ণনা জানার জন্য সাধারনত পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্ত করে থাকে। নারায়ণগঞ্জ জেলায় এমন বিভৎস ও লোমহর্ষক খুনের ঘটনা প্রতিবছরই ঘটে আসছে। ময়নাতদন্ত আঘাতপ্রাপ্ত হওয়ার কারণ, রক্তক্ষরণের কোনো ঘটনা আছে কিনা ইত্যাদি বিষয়গুলো বেরিয়ে আসে।
এ সকল ঘটনাগুলো নারায়ণগঞ্জে ময়নাতদন্তের জন্য ১০০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে অবস্থিত একমাত্র মর্গটিতে লাশ আনা নেওয়া হয় এবং মৃত্যুর সঠিক কারণ উদঘাটন ও ধর্ষণের মূল ঘটনা উদঘাটিত করা হয়।
জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ নগরীতে ২০২৩ সালে জানুয়ারি থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত ধর্ষণ-খুন ও সড়কে মৃত্যুসহ মোট ময়নাদতন্ত করা হয়েছে ৩৯০ জন এবং ধর্ষণের ঘটনায় ২৫১ জন ধর্ষিতার আলামত সংগ্রহ করে ফরেনসিক রির্পোট করা হয়।
যার মধ্যে জানুয়ারিতে ৩৯ টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ১৯ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৩৭টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ২২ জন, মার্চ মাসে ৩৫ টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ২৪ জন, এপ্রিল এ ৪৪টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ২৪ জন, মে মাসে ৩৯টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ৩১ জন।
জুন মাসে ৩৩ টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ২৯ জন, জুলাই এ ৪১ টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ২২ জন, আগস্ট এ ৩৮ টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ২২ জন সেপ্টেমবর এ ৪৫ টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ২৫জন ও অক্টোবর এ ৩৯ টি ময়নাতদন্ত ও ভিকটিমের শিকার ২৩জন।
নারায়ণগঞ্জ জেলায় প্রতিটি থানা-উপজেলায় থাকা খুন ধর্ষন আত্মহত্যাসহ বিভিন্ন ঘটনার শিকার হওয়া সকল ভুক্তভোগিদের এই হাসপাতাল থেকেই মৃত্যু ও সকল ঘটনা উন্মোচিত হয়। আর এসব ঘটনা উদঘাটনের জন্য সারাবছরই কাজ করে আসছে মর্গে থাকা ডোমরা ও হাসপাতালের দায়িত্বরত চিকিৎসকরা।
জানা যায় হত্যা, আত্মহত্যার মতো দুর্ঘটনার পোস্টমর্টেম বা ময়নাতদন্তের ক্ষেত্রে প্রথমেই পুলিশ একটি প্রতিবেদন তৈরি করে অর্থাৎ মৃতদেহ কি অবস্থায় পাওয়া গেছে তার বিস্তারিত বর্ননা নিয়ে একটি প্রতিবেদন করা হয়।
এ বিষয়ে ভিক্টোরিয়া জেনারেল হাসপাতাল এর আরএমও ফরহাদ জানান, আমাদের মর্গে তেমন কোনো সমস্যা নেই। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ যখন ঠান্ডা-ফ্রিজিং এর দরকার পরে আমরা তখনি মরচুয়ারি কুলার ব্যবহার করি। আর ভিকটিম যারা অসুস্থ অবস্থায় থাকে তাদেরকে গাইনী ডাক্টারের চিকিৎসা দেওয়া হয়। আমরা বিভিন্ন বিভাগের ডাক্তার নিয়ে ভিকটিমদের সেবা দিচ্ছি।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন এএফএম মশিউর রহমান এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, সাধারণত পোস্টমর্টেম করার জন্য যে লাশগুলো আনা হয় সেগুলো ফ্রিজিং করা হয় না। প্রথমে ময়নাতদন্ত করে মৃত্যুর আসল ঘটনা ও বিস্তারিত বর্ননা নির্নয় করা হয়। আর ফ্রিজিং করা হলে তো ময়নাতদন্ত সঠিকভাবে করা যাবে না। ভিকটিমের ক্ষেত্রে ধর্ষনের শিকার যারা তাদেরকে গাইনোলজী ডাক্টারের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এস.এ/জেসি


