Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হিমাগারে ডিমে তা, পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে

Icon

তানজিলা তিন্নি

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:০৮ পিএম

হিমাগারে ডিমে তা, পেঁয়াজের ঝাঁজ বাড়ছে
Swapno

 

হিমাগারে ডিম মজুদ করা হয় তা ক্ষুনাক্ষরেও কেউ কখনো ভাবেনি। খোদ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদেরই বিস্ময়ের শেষ নেই। তারা এই প্রথমবার হিমাগারে ডিম রাখার বিষয়টি জানতে পারে। হিমাগারে আলু কিংবা পচনশীল খাদ্যসামগ্রী যেখানে সংরক্ষণ করা হয় সেখানে ডিম সংরক্ষণের বিষয়টি কিভাবে আসল সেটি জানতে গিয়েই বেরিয়ে এল গত কয়েকদিন ডিমের ডাম কমতে থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা ডিম হিমাগারে রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা করছিল।

 

নারায়ণগঞ্জ ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা সবসময় নিজেদের লোকবল না থাকার দোহাই দেন, ফলে নারায়ণগঞ্জে হিমাগারে ৬ লাখ ডিম মজুদের অভিযানটিও হয়েছে ঢাকা অফিসের তথ্যানুসারে। নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় ভোক্তা অধিকার সংক্ষণ অধিদপ্তরের কার্যালয়। আর সেই এলাকার ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার হিমাগারে ৬ লাখ ডিমের মজুদে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিদফর ঢাকা অফিসের একটি টিম। ফতুল্লার ধর্মগঞ্জ এলাকার শাহিন এন্ড ব্রাদার্স হিমাগারের মালিক ও পাইকারী ডিম ব্যবসয়ী তাজুল ইসলাম ও মাসুদুর রহমান মাসুদ এমন ফন্দি করেই হিমাগারে ডিম মজুদ শুরু করেছিলেন।

 

ডিম ব্যবসায়ী মাসুদ ঢাকায় কাপ্তানবাজারের গোডাউনেও ডিম মজুদ করে রেখেছিল। এই অভিযানের পরেই শহরের নিতাইগঞ্জ ও টানবাজার এলাকায় ব্যবসায়ী মহলে বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। নারায়ণগঞ্জের অনেক ব্যবসায়ী বিভিন্ন দ্রব্যমূল্যে বৃদ্ধিতে একই কাজ করেন বলে মনে করেন অনেক ব্যবসায়ীরা। ফতুল্লায় অভিযানে ডিমগুলো হিমাগার থেকে বের করে ন্যায্যমূলে বিক্রির নিদের্শ দেন কর্মকর্তারা। কেন হিমাগারে মজুদ করা হচ্ছিল ডিম তার কারণ অনসন্ধান করতে গিয়ে বেরিয়ে আসে গত একবছর ধরে ডিমের বাজার অস্থিতিশীল ছিল।

 

গত আগস্ট, সেপ্টেম্বর, অক্টোবর, নভেম্বর এই চার মাস বেশি টালমাটাল ছিল ডিমের বাজার। সে সময় প্রতি হালি ডিমের ডাম ৬০ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এক ডজন ডিমের দাম ঠেকে ১৭০-১৮০ টাকায়। ডিমের দামে লাগাম টানতে ভারত থেকে ডিম আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়, কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আমদানির উদ্যোগ নেয়ার পরপরই দাম কমতে শুরু করে ডিমের। ডিমের ডজন নেমে আসে ১২০ টাকায়।   তবে টেকসই হয়নি। হিমাগারের মতো অভিনব পন্থায় ডিম মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করে আবারো ডিমের দাম বাড়ানোর ফন্দি আটে অসাধু ব্যবসায়ীরা। 

 

এদিকে ডিমের দামে টালমাটাল পরিস্থিতি না কাটতেই আবার বাড়তে শুরু করেছে পেঁয়াজের ঝাঁজ। অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখার লক্ষ্যে পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণা করেছে ভারত। ২০২৪ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত এ নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে। বাংলাদেশের সবজায়গাতেই এখন পেঁয়াজের দাম বাড়ন্ত। এই সময়ে পেঁয়াজের দাম বাড়াটা স্বাভাবিক বলছেন ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা। 

 

নারায়ণগঞ্জ কৃষিবিপণন অধিদপ্তরের কৃষিবিপণন কর্মকর্তা  মো. আতিকুল ইসলাম যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘আমি বাস্তবতার নিরিখে বলি, বাস্তবতা হচ্ছে আমরা যদি কোনো ব্যবস্থা নিতে যাই সেক্ষেত্রে বাজারে পেঁয়াজের সংকট হবে। মানে পেঁয়াজ তখন আর ব্যবসায়ীরা বাজারে রাখবে না বা রাখতে চাইবে না। এখন নতুন পেঁয়াজ না আসা পর্যন্ত, যেহেতু ভারতের পেঁয়াজ ৮০০ ডলার করে ফেলছে, এবং এই বিধিনিষেধ রা আরো তিন মাসের জন্য বাড়িয়েছে। তো এখন আমাদের দেশেতো পেঁয়াজের সিজন অনেক আগেই শেষ হয়ে গেছে।

 

তো যতটুকু পেঁয়াজ মজুদ করা ছিল কৃষকদের কাছে, ব্যবসায়ীদের কাছে বেশি একটা পেঁয়াজ নাই। ওনারা কৃষকদের কাছ থেকেই আনে। এখন যে সমস্ত হাটে কৃষকরা পেঁয়াজ বিক্রি করে যেমন- পাবনা, ফরিদপুর, রাজবাড়ি, এই এলাকাগুলো মূলত পিয়াজের মূল উৎপাদনের জায়গা। এসব হাটে যদি আমরা অভিযান চালাই, এর আগে আমাদের অভিজ্ঞতা হচ্ছে তখন কৃষক রা আর বাজারে পেঁয়াজ নিয়ে আসে না। এইভাবে পেঁয়াজ তখন মার্কেটে থাকে না । তখন মাকের্টে বিশাল একটা ক্রাইসিস দেখা দেয়। এবং দামটা আরো বেড়ে যায়। তো এখানে আসরে সিজন যখন থাকে না তখন ইমপোর্টেও ক্ষেত্রেও যদি পেঁয়াজ আমদানিতে সমস্যা হয় সেক্ষেত্রে আমাদের খুব বেশি হস্তক্ষেপ করলে মার্কেটে উল্টো রিয়েকশনটা হয় এটা হচ্ছে আমাদের বাস্তব অভিজ্ঞতা।

 

তবে হচ্ছে আমাদের ব্যবসায়ীদের সাথে গত সপ্তাহে পেঁয়াজ ও আলুর ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলেছি দ্বিগুবাবুর বাজারে, তো ওনাদের আমরা চালানগুলো চেক করছি আসলে ওনারা কত করে কিনে আনতেছে এবং কত করে বিক্রি করছে। আর ওনারা মুল্য তালিকাটা টানাচ্ছে কিনা । সেক্ষেত্রে আসলে ওনাদের কেনাটাই এখন বেশি পড়ছে। তবে তার পড়েও আমি ডিসি অফিসে যোগাযোগ করেছিলাম যে আমরা একটা মোবাইল কোর্ট করতে চাচ্ছিলাম। তো জানেন যে সামনে জাতীয় নির্বাচন এবং হরতাল অবোরোধের কারণে আসলে পুলিম ফোর্স আমরা পাচ্ছি না একারণে আমরা মোবাইল কোর্টও করতে পারছি না।

 

কিন্তু এখন যে দামটা বাড়তেছে এইটা আসলে স্বাভাবিক, এটা অস্বাভাবিক না। কেউ সিডিকেট করে দাম বাড়িয়ে ফেলছে বিষয়টা এমন না।  টাকা টা আসলে কৃষকের পকেটেই যাচ্ছে। এটা আমরা মোটামোটি বাজারে তদন্ত করি। কারণ ব্যবসায়ীরা যে দামে কিনে আনতেছে তা থেকে যদি বেশি মুনাফা না করে তাহলে তো আসলে ব্যবসায়ীদের দোষ না।  তবে আপনারা মোটামোটি নিশ্চিত থাকেন জানুয়ারীতে নতুন পেঁয়াজটা উঠলে পেঁয়াজের দামটা কমে যাবে।’

 

তিনি আরো বলেন, ‘আমিও তো ভোক্তা আমার ও তো কিনেই খেতে হয়। আবার যখন ব্যবসায়ীরা পাইকারি বাজার থেকে একটা পন্য কিনে আনে তখন তাদের একটা ঘাটতি থাকে। যেমন আপনি যদি ৫০ কেজি একটা বস্তা পেঁয়াজ আনেন সেটায় খোসা ফেলে তারপর নিচে কিছু পেঁয়াজ থেতলে যায় তো সব ফেলে তাদের ৪০ থেকে ৪২ কেজি পেঁয়াজ থাকে তো সেহিসেবে তারা যে দাম টা নেয় সেটা অতো বেশি না।  তবে তার পরেও কিছু কিছু ব্যবসায়ীযে সুযোগ টা নেয় না তেমন না।

 

পাড়া মহল্লায় যারা খুচরা ব্যবসা করেন, বাজারে তো আমাদেরা মনিটরিং থাকে, পাড়া-মহল্লায় তো আমাদের মনিটরিং থাকে না। তো ওই টা হচ্ছে আমাদের মনিটরিং করা সম্ভব না। তো আমরা  বাজার মনিটরিং এর মধ্যে রাখি তাও মাঝে মাঝে তারা বাজারে বেশি দাম নেয় । তো আমরা হচ্ছে চেক করি যে, সে কত দামে কিনছেন এবং কত দামে বিক্রি করছে। এটাও আমার একটা অভিজ্ঞতা আছে হয়তো আমরা যখন বাজারে যায় তখন হয়তো দাম টা একটু কমিয়ে বলে।

 

আবার যখন বাজার থেকে চলে যাচ্ছি তখন হয়তো সাধারণ ভোক্তার কাছে দামটা আবার বাড়িয়ে বিক্রি করছেন । এখন এটা তো ধরেন একটা মানুষে নৈতিকতার ব্যাপার। এখন আপনি যদি মনিটরিং করেনও কারো পক্ষে তো সম্ভব না যে ২৪ ঘন্টা দোকানে সামনে বসে থাকা। এটা তো সম্ভব না।’  

 

নারায়ণগঞ্জ ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর নারায়ণগঞ্জ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. সেলিমুজ্জামান যুগের চিন্তাকে বলেন, ‘তথ্য তো আপনাদের কাছে থাকার কথা আমরা তো লোক মাত্র ২ জন। ফতুল্লায় হিমাগারে ডিমের অভিযান হেড অফিসের একটা প্রোগ্রাম ছিল। এটা নারায়ণগঞ্জে কাউকে বলেও নাই। আমাকেই বলছে গোপনী ভাবে। আমাকে বলছে স্পটে দেখা হবে, স্পটে গেছি, এটার দায়িত্বে ছিল ঢাকা। আমি জানতামও না। পরের দিন সকালেই ডিম সরাইয়া ফেলা হয়েছে। ওদের খুব খারাপ উদ্দেশ্য ছিল, অভিযানটা ভালো হয়েছে।’ এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন