ছাত্রলীগ সভাপতি সম্রাটের মাসে লাখ টাকা চাঁদাবাজি
স্টাফ রিপোর্টার
প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১৪ পিএম
নারায়ণগঞ্জ শহরের ব্যস্ততম এলাকা হচ্ছে চাষাঢ়া। প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এখানে চলে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের আনাগোনা। চাষাঢ়া এলাকার এক পাশে রয়েছে নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার।
প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন পেশার মানুষ শহীদ মিনারে এসে আড্ডা-গল্প করে একটু অবসর সময় পার করেন। বর্তমানে এই শহীদ মিনারের রক্ষণাবেক্ষণ করেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন। শহীদ মিনারে যেই কোন রাজনীতি বা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করতে হলে সিটি কর্পোরেশনে আবেদন করে সে অনুষ্ঠান করতে হয়।
কিন্তু এই শহীদ মিনারটি বর্তমানে রয়েছে হকার ও অবৈধ দোকানীদের দখলে। এক সময় দুই-চারটা দোকান থাকলেও এখন শহীদ মিনারের চারপাশে অর্ধশত অবৈধ দোকান রয়েছে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের ভেতরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ টি রয়েছে ফুসকা ও চটপটির দোকান। এ সকল দোকানের চারপাশে রয়েছে ক্রেতাদের বসার জন্য টেবিল।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক একজন ফুসকা বিক্রেতা জানান, এখানে দোকান বসাতে এককালীন দশ হাজার টাকা লাগে। এছাড়াও প্রতিদিন একশত টাকা করে চাঁদা দিতে হয়।
চাঁদার বিষয়ে জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাট এ সকল দোকানের চাঁদা তুলেন। আগে তিনি নিজে তুলতেন এখন তার লোক দিয়ে ১০০ করে টাকা নিয়ে যান। প্রতিদিন বিকালে তার লোক এসে খাতায় এন্ট্রি করে টাকা নিয়ে যান।
এ বিষয়ে আরেজন বিক্রেতা বলেন, মাসে তিন হাজার টাকা দেই, আবার পরিষ্কার করার জন্য দশ টাকা করে দেই।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, প্রতি মাসে মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাট শহীদ মিনারের ভেতরের ফুসকা ও চটপটির দোকান থেকে ৬০,০০০ (ষাট হাজার) টাকা থেকে ৭০,০০০ (সত্তর হাজার) টাকা চাঁদা তুলেন।
এ বিষয়ে শহীদ মিনারের পাশে ভাষা সৈনিক রোড়ের কয়েকজন চায়ের দোকানদারদের সাথে কথা বলে জানা যায়, তারা প্রতি মাসে ছয় থেকে ৮ হাজার টাকা চাঁদা দেয়। আর এই টাকাও মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি মেহেদী হাসান সম্রাটের কাছে যায়। সেখানেও সে মাসে পঞ্চাশ হাজার টাকা চাঁদা তুলেন।
তিনি আরও জানান এখানে দোকান বসাতে হলে সম্রাট এর অনুমতি নিতে হয়। তা না হলে দোকান বসতে দেয় না। এস.এ/জেসি


