গ্যাস সংকটে বেড়েছে ইলেক্ট্রিক চুলার চাহিদা
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৩৮ পিএম
মাস দু-এক ধরে নগরীতে চলছে গ্যাস সংকট। সাধারণত শীতকালে গ্যাসের সমস্যা থাকলেও এবার শীতের আগেই নগরজুড়ে বেশির ভাগ এলাকাতেই গ্যাস সংকট তীব্র আকার ধারন করেছে। নগরীতে গ্যাস সংকট যেন নিয়মিত সমস্যা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ দিনে বেলাতে একদম গ্যাস থাকে না।
দুমাস ধরে গ্যাস সংকট আরো প্রকট হয়েছে। আবার কিছু এলাকাতে দিনে বেলা গ্যাস থাকলেও চাপ খুব কম। শহীদনগর, তল্লা, সৈয়দপুর, খানপুর, মাসদাইর, চানমারি, তামাকপট্টিসহ বিভিন্ন এলাকাতে দিনে বেলাতে একেবারে গ্যাস থাকে না। এসব এলাকার সাধারণ মানুষের ভাষ্য সকাল ৬টার পর থেকে গ্যাস থাকে না।
রাতে রান্না করা খাবার দিনের বেলাতে যে গরম করে খাবে তারও কোনো উপায় নেই। ফলে অধিকাংশ মানুষ গ্যাসের বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছে ইলেক্ট্রিক চুলা বা সিলেন্ডার। এছাড়া কেউ কেউ রান্না করছে মাটির চুলাতে আবার কেউবা কেরাসিনের চুলায়।
বর্তমান বাজারে নানা ধরনের ইলেক্ট্রিক চুলা পাওয়া যায়। তবে মানুষের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে ইনফ্রারেড ও ইনডাকশন চুলা। ইনফ্রারেড চুলায় সব ধরনের পাতিল ব্যবহার করা যায়। অন্যদিকে ইনডাকশন নির্দিষ্ট কিছু পাতিল ব্যবহার করা যায়।
দুই ধরনের চুলা ব্যবহারে দিনে ২ বার রান্না করলে মাত্র ৫০০-৬০০ টাকা বিল হয় বলে জানান ব্যবসায়ীরা। ইনফ্রারেড বিক্রি হচ্ছে ৩৬০০ টাকা দরে আর ইনডাকশন বিক্রি হচ্ছে ৪৫০০ টাকা করে। অন্যদিকে এই দুই ধরনের চুলা ছাড়াও বিক্রি হচ্ছে রাইস কুকার ও ওভেন।
ইলেক্ট্রিক চুলা কিনতে আসা দেওভোগের সালমা বেগম বলেন, সারাদিনে একবারও গ্যাস পাই না। প্রায় ২ মাস হইয়া গেলো সব জায়গায় গ্যাস সংকট । মানুষ কষ্ট ১ সপ্তাহ না হয় করে কিন্তু এমন আর কয় দিন। গেল মাসে পেপারে পরছি গ্যাসের সমস্যা না কি সাময়িক সময়ের লাইগা। কিন্তু ভাই ২ মাস তো হইল হেগো সাময়িক সময় কি শেষ হয় না। ভোর রাইতে উঠা ঠান্ডার মধ্যে রান্না করতে হয়। তাও ৬টার আগেই গ্যাস যায় গা।
কুকার কিনতে আসা মমিন নামে এক বেসরকারি অফিসের কর্মচারী বলেন, সারাদিনে গ্যাস না থাকর কারনে বাচ্চার খাবার রান্না করা যায় না। শীতের মধ্যে সকালে রান্না করে সারাদিন সেই ঠান্ডা খাবারটা বাচআকে খাওয়াবো তা তো হয় না।
এমনিতেই তো প্রকৃতি ঠান্ডা তার উপর ঠান্ডা খাবার বাচ্চাকে খাওয়ালে নিউমোনিয়া হয়ে যাবে।তাই বাধ্য হয়ে ছোট দেখে একটা রাইস কুকার কিনতে এসেছি।
চাষাঢ়া বঙ্গবন্ধু সড়কের একটি শোরুম ম্যানেজার কিশোর মল্লিক বলেন, শীতের সময়টাতে আমাদের বিক্রি ভালো হয়। কেননা অন্যান্য সময়ের তুলনা শীতকালে সব জায়গাতেই গ্যাসের সমস্যা থাকে। এজন্য মানুষ ইলেক্ট্রিক চুলা কিনছে বেশি।
তিনি আরো বলেন ইনডাকশন চুলার তুলনায় এবার সবাই ইনফ্রারেড চুলা খুজছে বেশি। কারণ ইনডাকশন চুলা চুম্বকের মতো সহজে পাতিল গরম হয় না। তবে গতবারের তুলনায় এবার দাম কিছুটা বেড়েছে।


