Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

বিএনপি নেতা হেলালের বহু রূপে ক্ষুব্ধ কর্মীরা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২০ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:২৯ পিএম

বিএনপি নেতা হেলালের বহু রূপে ক্ষুব্ধ কর্মীরা
Swapno

 

রূপগঞ্জ উপজেলার দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এড. হেলাল উদ্দিন সরকারের বহু রূপ এমনটাই বলছে বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী। গত ২৮ অক্টোবরের পর থেকে কঠোর আন্দোলনের লক্ষ্য হিসেবে হরতাল-অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে বিএনপি। যাকে ঘিরে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতাকর্মীরা মামলায় জর্জরিত হয়ে ঘর-ছাড়া।

 

এমতাবস্থায় দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এড. হেলাল উদ্দিন সরকার দলীয় আন্দোলন ছেড়ে তার নিজস্ব কার্যক্রম নিয়ে আদালত পাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করে আসছে। যে সময় বিএনপির সকল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা এ সময় একজন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি হওয়া স্বত্ত্বেও নেই তার নামে কোন মামলা। তাছাড়া রূপগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড. মাহফুজুর রহমান হুমায়ূনের পি.এস হিসেবেই পরিচিত এই হেলাল।

 

জানা গেছে, গত ১০ ডিসেম্বর সারা দেশের ন্যায় নারায়ণগঞ্জে আদালতপাড়ার বার ভবনের সামনে বিএনপির মানববন্ধন পন্ড হয়ে যায়। সেখানে দুই একজন আইনজীবীকে ব্যানারের একবারে পিছনে দেখা গিয়েছে আর সামনে শুধু নয়নকেই দেখা গিয়েছে। তাছাড়া আর কাউকে সেখানে দেখা যায়নি। বিএনপির নেতাকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী জানা গেছে, সেদিন হেলালকে কয়েকজন ব্যানারের পিছনে আসতে বললে তিনি তা অনীহা করেন।

 

এই বলে যে তার কাজ আছে, কিন্তু তার কোন কাজই ছিলো না তাকে কিছু সংখ্যক পুলিশ কর্মকর্তার সাথে আড্ডা দিতে দেখা গেছে। তাছাড়াও এখন পর্যন্ত কয়েক দফা অবরোধ-হরতালে ও এই সভাপতি হেলালকে দেখা যায়নি। কেউ কেউ বলছে, এই এড. হেলালকে একটি ইউনিয়ন বিএনপির দায়িত্ব দেওয়া ঠিক হয়নি কারণ উনি যে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, নাকি তৃণমূল বিএনপি কিছুই বোঝা যায় না।

 

কারণ উনার বিএনপির নেতাকর্মীদের থেকে ও বেশি পরিচিত ও বন্ধুত্ব সম্পর্ক আওয়ামী লীগের নেতাদের সাথে। তাছাড়া তার বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ পাওয়া গেছে, উনি নারায়ণগঞ্জ-১ রূপগঞ্জ আসনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার ও তাদের লোকজনকে বলে বেড়ায় যে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির ভোট সব তাকে নিয়ে দিবে। যেহেতু বিএনপি বর্তমানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেননি এমন অবস্থায় সকলে তৈমূর আলমকেই ভোট দিবে আমরাও দিবো এমনটা বলতে শোনা গেছে।

 

আরো শোনা গেছে, যদি মন্ত্রী গাজীকে কোনভাবে বেকায়দায় ফেলে তৈমূর ভাই নৌকা আনতে পারতো তাহলে আরো ভালো হতো। একজন বিএনপির নেতাকর্মীদের মুখে এমন কথা শোনা যাওয়ায় বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।

 

সূত্র বলছে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে থাকা দেশের সব চাইতে বড় বিরোধী দল বিএনপি। বর্তমানে আন্দোলন করতে রাজপথে নামলেই মামলা-হামলার শিকার হচ্ছেন। যার কারণে মামলার ভার মাথায় নিয়েই ঘর-বাড়ি ছেড়ে বিএনপি কেউ নিজ এলাকায় আসতেই পারছে না। কিন্তু একটি ইউনিয়নের সভাপতি হয়েও হেলাল যে ফুরফুরে মেজাজে আদালতপাড়ার অলি-গলি ঘুরে বেড়ায়। তাকে আওয়ামী লীগের সাথে আতাঁতকারী নেতা ছাড়া মনে হয় আর কিছু বলা যায় না।

 

তাছাড়া দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপি এই হেলালের সভাপতিত্বে দূর্বল হয়ে পরেছে। এদিকে এই ইউনিয়ন নিয়ে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের নেই কোন পরামর্শ। যার কারণেই আজকে ঘুরে ঘূরে সভাপতি হেলাল বলছে যে, এই ইউনিয়নের সকল ভোট তৃণমূল বিএনপিকেই দেওয়া হবে। তাছাড়া যেহেতু রূপগঞ্জ উপজেলায় বিএনপির সভাপতির পি.এস হিসেবেই এই হেলাল পরিচিত সেইক্ষেত্রে সকলের সাথে যোগাযোগ করে বিএনপির সব ভোট তৃণমূল বিএনপির তৈমূরের পাইয়ে দেওয়া শুধু সময়ের ব্যাপার মাত্র।

 

এদিকে রূপগঞ্জ বিএনপির যারা দিপু ভূঁইয়ার প্যানেলের রয়েছে তারা সকলেই বর্তমানে হতাশাগ্রস্থ হয়ে এই পার্টি সেই পার্টির দুয়ারে ঘূরে বেড়াচ্ছে বলেও শোনা গেছে। আবার অন্যদিকে কাজী মনিরুজাম্মান মনিরের প্যানেলের নেতা আবু মাসুম ও সুলতান মাহমুদ গ্রেফতারের পর থেকে তারা ও গরিমসি করে আন্দোলণ থেকে পিছপা হয়ে যাচ্ছেন।

 

তাদের মধ্যেও অনেকে আন্দোলন ছেড়ে হয়তো আতাঁত করেই রূপগঞ্জে একটা স্থান তৈরি করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। সব মিলিয়ে রূপগঞ্জের সকল ইউনিয়ন ও পৌরসভাগুলোর কমিটিগুলো বিএনপির ভালো হয়নি। কোন আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পরা নেতা নেই যার কারণেই আজকে দূর্বল রূপগঞ্জ বিএনপি।

 

এ বিষয়ে দাউদপুর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি এড. হেলাল উদ্দিন সরকারের মুঠোফোনে কয়েকবার কল করলে ও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে আবার কল দিলে তিনি তা কেটে দেন। এস.এ/জেসি 
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন