সব কিছু ঠিক থাকলে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ৭ জানুয়ারী অনুষ্ঠিত হবে। ইতিমধ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল থেকে প্রার্থীদের মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। নির্বাচনে অংশ নিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও জোর প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছেন। অপরদিকে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি তাদের আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন। নির্বাচনকে অবাধ সুষ্ঠ ও বিশৃঙ্খলা মুক্ত রাখতে ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশন থেকে বৈধ অস্ত্র জমা ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নির্দেশনা দিয়েছেন।
তবে ইতিমধ্যে নারায়ণগঞ্জে বেশ কিছু অবৈধ অস্ত্র অনু প্রবেশ করেছে বলে বিশ্বস্ত একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগীদের হাতে ইতিমধ্যে পৌঁছে গেছে বেশ কিছু অস্ত্র। নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশ দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে অবাধ করার ব্যাপারে বেশ কিছু উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। তবে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে তেমন কোনো অভিযান এখনো পরিচালনা করেনি। আগামী নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার অবাধ ও সুষ্ঠ নির্বাচনে প্রশ্নবিদ্ধ করবে বলে মনে করছে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
নানা জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে, ঘাত প্রতিঘাতের পরে আগামী ৭ জানুয়ারী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি অংশ গ্রহণ করেনি। নির্বাচনে আওয়ামীলীগ,জাতীয় পার্টিসহ বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক সংগঠন অংশ গ্রহণ করছে। সেই সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও দলীয় প্রার্থীদের সাথে তাদের প্রচার প্রচারণা সমানতালে চালিয়ে যাচ্ছে।
ইতিমধ্যে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের ব্যাপারে নির্দেশনা দিয়েছেন ইসি। বর্ডার দিয়ে যাতে অবৈধ অস্ত্র প্রবেশ করতে না পারে সেজন্য বর্ডার গার্ডকেও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। তবে দেশে যে পরিমান অবৈধ অস্ত্র রয়েছে সেই অস্ত্রগুলো অভিনব কায়দায় পৌঁছে যাচ্ছে বিভিন্ন জেলার সন্ত্রাসীদের হাতে। এতে পিছিয়ে নেই নারায়ণগঞ্জও। এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন যুগের চিন্তাকে একাধিক সূত্র।
সূত্রমতে, গত এক সপ্তাহ আগে নারায়ণগঞ্জে বিভিন্ন রুট দিয়ে জেলার শীর্ষ সন্ত্রাসীদের হাতে এক ডজনেরও বেশি অস্ত্র ঢাকা থেকে হাত বদল হয়েছে। নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্রের প্রদর্শণ করতেই এই সমস্ত অস্ত্র মজুদ করেছে সন্ত্রাসীরা। জেলার সদর,বন্দর, ফতুল্লা, সিদ্ধিরগঞ্জ ও রুপগঞ্জের বিভিন্ন পাড়া মহল্লায় শীর্ষ সন্ত্রাসীদের প্রতিনিধিদের হাতে পৌঁছে গেছে ঐসব অস্ত্র। ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা নারায়ণগঞ্জের সন্ত্রাসীদের হাতে এসব অস্ত্র পৌঁছে দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা বেড়ে গেছে। এই সুযোগে একটি মহল দেশে সহিংসতা করে ফায়দা লুটতে চাচ্ছে। ঐ মহলটি সীমান্ত দিয়ে অস্ত্র আনছে বলে পুলিশের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে কয়েক মাস আগে থেকেই ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা অস্ত্র মজুদ করেছিলেন। এখন তা চড়া দামে হাত বদল করছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে নারায়ণগঞ্জ জেলা পুলিশের তেমন কোনো কার্যক্রম লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। যদি অবৈধ অস্ত্রগুলো উদ্ধারে প্রশাসন ব্যর্থ হয় তাহলে নির্বাচন করে প্রশ্নবিদ্ধ। সেই সাথে নির্বাচন কমিশনও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
অপর সূত্র জানায়, আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী চলবে বিশেষ অভিযান। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পেশাদার সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে এই অভিযান চালানো হবে। নির্বাচনের আগে যে কোনো ধরনের সহিংসতা রোধে এ ধরনের বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে বলেও জানা গেছে।
ইতিপূর্বে পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (অপারেশনস) মো. আনোয়ার হোসেন গণমাধ্যমকে বলেছেন, নির্বাচনের আগে আমাদের বিশেষ অভিযানের পরিকল্পনা রয়েছে। ঐ সময় বৈধ অস্ত্রগুলো কোথায় আছে, তার হিসাব মেলানো হবে এবং জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হবে। পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারে জোর অভিযান সব সময়ই চলে। প্রতি মাসের ক্রাইম কনফারেন্সে অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধারের প্রতি ইউনিটগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে এই প্রতিবেদককে জানানো হয়, জেলায় যাতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করা হয় সেজন্য গোয়েন্দা নজরদারী রয়েছে। জেলায় কারা অবৈধ অস্ত্র মজুদ করতে পারে সে ব্যাপারে গোয়েন্দা সংস্থার যথেষ্ট ধারণা রয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যাতে কোনোভাবে প্রশ্নবিদ্ধ না হয় সেজন্য তৎপর রয়েছে জেলা পুলিশ। এস.এ/জেসি


