ভোটারদের কেন্দ্রমুখী করাই আসল চ্যালেঞ্জ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১২:২৮ পিএম
# ‘চার প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত হওয়ায় নির্বাচন জমানো কঠিন’
নারায়ণগঞ্জের চারটি আসনে নির্বাচনী ফলাফল যেহেতু নিশ্চিৎ তাই হাজার চেষ্টা করেও সাধারণ মানুষকে নির্বাচনমুখী করা যাচ্ছে না। এর মাঝে তিনটি আসনেতো কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই নেই। এই তিনটি আসন হলো শামীম ওসমানের নারায়ণগঞ্জ-৪, সেলিম ওসমানের নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নজরুল ইসলাম বাবুর নারায়ণগঞ্জ-২। আর রূপগঞ্জ আসনেও গাজী গোলাম দস্তগীর এমপি অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন।
শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের দলীয় ভোটাররা তাকেই ভোট দেবে বলে ওই এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। কেবল মাত্র নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনে লাঙ্গলের লিয়াকত হোসেন খোকার সাথে নৌকার কায়সার হাসনাতের প্রতিদ্বন্দ্বীতা জমে উঠবে বলে ধারণা পাওয়া গেছে।
এদিকে সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান এবং সেলিম ওসমানের আসনে তাদের সঙ্গে যারা নির্বাচন করছেন তাদেরকে এখন পর্যন্ত ভোটাররা চিনেন না। এই দুটি আসনের সাধারণ ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন নির্বাচনের আগেই এই দুই এমপি নিশ্চিৎ বিজয়ের পথে রয়েছেন। কারণ তাদের সাথে যোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীই নেই।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে লাঙ্গলের প্রার্থী খোকা মোল্লা থাকলেও তিনি কোনো ভোট পেতেন না। তবুও তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে অথবা নিজের অবস্থান বুঝতে পেরে তিনি নিজে থেকেই সরে গিয়েছেন। আর যারা আছেন তারা নিজের ঘরের ভোটও পাবেন না বলে মনে করেন এই আসনের সাধারণ মানুষ। তাই এই আসনের অনেক মানুষের সাথে কথা বলে জানা গেছে তারা মনে করেন এই নির্বাচনে ভোট দেওয়ার কোনো দরকার নেই।
কারণ এক শতাংশ ভোটও যদি কাস্ট হয় তবুও শামীম ওসমানই জয়ী হবেন। তাছাড়া আওয়ামী লীগের যে ভোটব্যাংক রয়েছে তাদের অনেকেই ভোট কেন্দ্রে যাবেন। তাতে শামীম ওসমান নিশ্চিত বিজয়ী হবেন। তবে আসনটি ঘুরে দেখা গেছে এখানে তেমন কোনো নির্বাচনের আমেজই নেই। সাধারণ ভোটাররা অনেকে জানিয়েছেন ভোটের আগেই যখন জানা যাচ্ছে কে নির্বাচিত হবেন তাহলে ভোট দিতে যাওয়ার দরকার পরবে কেনো।
বরং যারা সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জরিত তারা ভোট কেন্দ্রে গেলেই তো নির্বাচিত হবেন শামীম ওসমান। তবে এই আসনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভোটারদের ডেকে ডেকে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার জন্য অনুরোধ করছেন বলে জানা গেছে। তাতে কিছু ভোটার বাড়বে বলে অনেকে মনে করেন।
এদিকে একই অবস্থা বিরাজ করছে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনে। এই আসনের ভোটাররা মনে করেন সেলিম ওসমানের সাথে যোগ্য কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী না থাকায় তিনিই নিশ্চিৎ ভাবে বিজয়ী হবেন। যার ফলে এখানেও নির্বাচনের কোনো আমেজ নেই। এই আসনেও ভোট হচ্ছে একতরফা। কারণ সেলিম ওসমানের বিপরীতেও কোনো যোগ্য প্রার্থী নেই। তাই ভোটাররা পরিষ্কার জানিয়ে দিচ্ছেন যে তারা মনে করেন এরই মাঝে সেলিম ওসমানের বিজয় নিশ্চিৎ হয়ে গেছে। তাই তারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন না।
অপরদিকে আড়াইহাজারেও একই অবস্থা বিরাজ করছে। জাতীয় পার্টির লোটন মাঠে থাকলেও তার কোনো কর্মী সমর্থক নেই। তাই ভোটও নেই। তিনি আশা করছেন বিএনপির ভোট। কিন্তু বিএনপির ভোটাররা ভোট কেন্দ্রেই যাবে না। কারণ তারা জাতীয় পার্টির উপর ভীষণ ক্ষুব্ধ। তাই আওয়ামী লীগের ভোটে এবারও জয়ী হবেন নজরুল ইসলাম বাবু। আর এটা বুঝতে তেমন কোনো রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ হওয়ার দরকার নেই বলেই আড়াইহাজারের সাধারণ মানুষ মনে করেন।
তবে রূপগঞ্জের অবস্থা কিছুটা ভিন্ন। এই আসনটি নিয়ে পরিষ্কারভাবে বলা যায় তৃণমুলের এডভোকেট তৈমুর আলম খন্দকার জামানত হারাবেন। বিপরীতে আওয়ামী লীগের ভোট দুই ভাগ হবে। আর এই ভোটের সিংহভাগ পেয়ে গাজী গোলাম দস্তগীর আবারও জয়ী হবেন। তবে শাহাজান ভুঁইয়া স্বতন্ত্র হলেও তিনি আওয়ামী লীগের ভোটে ভাগ বসাবেন। তিনি তার বাড়ির কাছের কিছু আঞ্চলিক ভোটও পেতে পারেন। কিন্তু গাজী দস্তগীরের বিজয়ের সম্ভাবনাই বেশি বলে জানা গেছে। এস.এ/জেসি


