Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

আউয়ালে বাশের সাঁকো থেকে বাড়তি টোল আদায়

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৯:৩৭ এএম

আউয়ালে বাশের সাঁকো থেকে বাড়তি টোল আদায়
Swapno


আলীরটেক ইউনিয়নের পুরান গোগনগর (মধ্যেরচর) তাজেক প্রধান স্কুল সংলগ্ন তৈরি আউয়ালের বাশের সাঁকো থেকে বাড়তি টোল আদায় করছে ইজারাদার জাহাঙ্গীর বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। এমনিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পারাপার হতে হয় তার উপরে বাড়তি টোল আদায়। এতে বিপাকে পরেছে ঐ এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা।

 

 

প্রতিদিন প্রায় হাজারেও বেশি লোক বাশের সাঁেকা খাল পারাপার হতে ৫ থেকে ১০ টাকা গুনতে হয়। পাশাপাশি মধ্যেরচর এলাকাবাসী ছাড়াও নদীর ওপারের (কুড়েরপাড়) এলাকার অধিকাংশ লোক শহওে আসতে আউয়ালের বাশের সাঁেকা ব্যবহার করে।  

 


 স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, যারা ঘাট পরিচালনা করছে তারা নিজেদের ইচ্ছে অনুযায়ী টাকা আদায় করছে। একটি ব্রিজের প্রয়োজন হলোও এখানে সেটি হচ্ছে না। পর পর তিনবার সেতুর জন্য ট্রেন্ডার আসার পরেও কোনো সুফল লক্ষ্য করা যায়নি। সেই সঙ্গে ব্রিজ না হওয়া এবং বাড়তি টোল আদায় করার বিষয় নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহন করছেন না কতৃপক্ষ।

 


স্থানীয় সূত্রে জানা য়ায়, আলরিটেক ইউনিয়নের আউয়ালের ঘাট এলাকায় একসময় তেমন বাসিন্দা ছিলো না। ধীরে ধীরে অন্য এলাকার লোক এখানে জায়গা ক্রয় করে বাড়ী নির্মান করে বসতি স্থাপন শুরু করেন। এভাবেই বর্তমানে এই এলাকার বাসিন্দা হাজার ছেড়েছে।

 


 এ বিষয়ে খাদিজা নামে এক বাসিন্দা বলেন, এখানে আগে তেমন লোক ছিলো না। কিন্তু সাঁকোটা অনেক আগে থেকেই এখানে। এলাকাতে আসতে আসতে লোক বাড়তে শুরু করে আর য়াতায়াতও বাড়তে থাকে। শুধু এই এলাকার লোক না নদীর ওপার থেকেও মানুষ এই সাঁেকা দিয়ে পারাপার হয়।  

 

 

যাতায়াতের কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এবং হাটখোলা ব্রিজ দিয়ে পার হতে হলে আমাদের অনেক রাস্তা ঘুরা লাগে তাই বাধ্য হয়েই বাড়তি টোল দিয়ে আমরা এই বাশের সাঁকো দিয়েই পারাপার হচ্ছি।  দিনে বেলাতে সাকো পার হতে স্বাভাবিকের মতো তিন টাকা নেয়। কিন্তু রাত ৮-৯ টার পর থেকেই ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা নেয়। আবার কখনো কখনো ১৫-২০ টাকা ও নেয় তারা।

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যাক্তি বলেন, দিনের বলাতে সাধারণত তিন টাকা নেয় কিন্তু রাত হলেই তারা ৫-১০ টাকা নেয়।  কিছুদিন আগে আমি বাড়ি মেরামত করার জন্য কয়েক বস্তা সিমেট আনছিলাম সাঁকো দিয়ে ইজারাদারের লোক আমার থেকে সেই বস্তা প্রতি ৫ টাকা করে নিয়েছে। এছাড়া কোনো বস্তা বা সাইকেল যদি নিয়ে আসেন সেই সাকেলেরও বাড়া দিতে হয়।

 

 

আপনারা জানেন যে তারা বাড়তি টাকা নিচ্ছে তাহলে কোনো প্রতি বাদ করেন নাই এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কে কথা বলবে তাদেও বিরুদ্ধে। এলাকার আরো লোকরা আছে তারা কেউ কিছু বলেনাা। আবার বলার কোনো সুযোগও নেই কিজছু বলতে গেলে তার লোকেরা বলে আসছেন কেন? যান ঘুইরা যান। এই সাকোঁ দিয়ে যেতে হলে টাকা দিতেই হবে।    

 


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানদার বলেন, শহর থেকে নৌকা দিয়ে মাল আনলে তো হলেও কিন্তু যদি সাঁেকা দিয়ে আনি তাহলে আলুর বস্তা বা যেকোনো বস্তা আনতে হলে ঘাটে টাকা দিতে হয়। কিছু বললে বলে যান গা আইতে কইছে কে।

 

 

কথায় কথায় তিনি বলেন ১০ লাখ টাকা দিয়ে ঘাট আনছি তোমাগো ফ্রিতে যাওয়ার জন্য। এছাড়া এখানে কোনো যাতায়াতের ব্যবস্থা নাই কোনো গাড়ি এখানে চলাচল করতে পারে না। একটা মানুষ অসুস্থ হলে যে হাসপাতাল নিয়ে যাবে তারও কোনো উপায় নেই। সাকো দিয়ে পার হতে হতে ঐ ব্যাক্তি মারাই যাবে।    

 


এবিষয় আলিরটেক ইউনয়নের ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার ফিরোজ মিয়া প্রশ্ন করলে তিনি বলেন কে বলেন, আপনি যে বলতেছেন সেটা আমার কাছে কেউ কোনো অভিযোগ দেয় নাই, আমার কাছে যেহেতু কেউ কিছু বলে নাই আমি এবিষয় কী করতে পারি বলেন। আমার কাছে না বলতে পারলে এলাকার মাতবর আছেন তাদের কাছে এই বিষয় বললে তো সমাধান হয় কিন্তু কেউ কিছু বলে নাই।

 

 

কেউ যদি আমার কাছে অভিযোগ করতো তাহলে আমি ব্যবস্থা নিতাম। আপনার কাছে যদি এমন কোনো তথ্য থাকে তাহলে আমাকে দেন আমি এ বিষয় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসা বাদ করবো।

 


এলাকার মাতবর মো মুজিবর ভুইয়া কাছে একই প্রশ্ন করলে তিনি তার জবাবে বলেন নিতে পারে বাড়তি টাকা কারণ তারা তো এটা ইজারা নিছে। আর এটা যে তারা টাকা টা নেয় সাধারণ মানুস তো কিছুয বলে না তারা। যদি কিছু বলতো তাহলে তো আর টাকা টা নিতে পারে না।

 

 

এটা তো একটা সাকো দিনেও যা রাতেও তাই এখানে বাড়তি টাকা নেওয়ার কোনো প্রশ্নই উঠেনা। কেন বাড়তি টাকা নিবে যাইয়া জিজ্ঞেস করেণ। কিন্তু এখানে একটা ব্রিজ হলে ভালো হয়। কোনো মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতাল নেওয়া যায় না। মানুষের অনেক কষ্ট হয়।

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন