গোগনগর ইউনিয়নে জন্ম সনদ নিয়ে দুর্নীতির অভিযোগ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৯ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৪:৪৪ পিএম
২০২১ সালে জাতীয় সংসদে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা করেন প্রতি জন্মসনদে সরকারি নির্ধারিত ফি এর বেশি কেউ যদি অতিরিক্ত টাকা আদায় করে সেক্ষেত্রে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সেখানে নারায়ণগঞ্জ গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদে জন্মনিবন্ধন করাতে অতিরিক্ত টাকার আদায়ে অভিযোগ উঠেছে। সরকারের নিয়মনীতি না মেনে জন্মসনদ প্রতি ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা আদায় করছে ইউনিয়ন কর্তৃপক্ষ।
বিশেষ করে সরকারি নির্ধারিত জন্মসনদ ফি সর্ম্পকে সাধারণ মানুষের ধারণা না থাকার কারণে সেই ফায়দা লুটছেন তারা। এছাড়া এই ইউনিয়ন পরিষদের স্থানীয় বাসিন্দাদের বিকল্প কোনো উপায় না থাকায় নিরুপায় হয়ে এসব ইউনিয়নের দাবি করা বাড়তি ফি দিয়েই জন্মসনদ করছেন ইউনিয়ন বাসী। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এই ইউনিয়ন ছাড়াও পাশের ইউনিয়ন গুলোতে সমপরিমানের বাড়তি টাকা আদায় করার অভিযোগও রয়েছে।
সরকারি নীতি অনুসারে জন্মের ৪৫ দিনের মধ্যে জন্মসনদ করালে বিনা ফি তে জন্মসনদ করার বিধান রয়েছে। ৪৬ দিন থেকে ৫ বছর পর্যন্ত জন্মসনদ করাতে ২৫ টাকা এবং ৫ বছরের উপরের সব বয়েসের ক্ষেত্রে নিবন্ধন ফি ৫০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে। কিন্তু সেখানে গোগনগর ইউনিয়নে জন্মসনদ করাতে জনপ্রতি দিতে হচ্ছে ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা করে।
গোগনগর ইউনিয়নের সরজমিনে কম্পিউটার অপাটারের রোমানের সাথে পরিচয় গোপনে কথা বললে তিনি বলেন, যেই বয়েসেরই জন্মসনদ করেন না কেনো ৩৫০ টাকা লাগবে। সরকারি নির্ধারিত ফি এর কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন সরকারি ফি জেনে কি করবেন। অতপর পরিচয় প্রকাশের পর তিনি উচ্চস্বরে বলেন আমি রোমান এবং হ্যাঁ জন্মসনদ করতে ৩৫০ টাকা নেই। এ বিষয়ে কিছু জানার থাকলে আপনি চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলেন।
জন্মসনদ করতে আসা রবিউল আউয়াল নামে এক ব্যক্তি বলেন, কিছুদিন আগে আমি জন্ম নিবন্ধন করতে আসি সে সময় আমাকে জানায় ৫০০ টাকা লাগবো। তখন বেশি প্রয়োজন ছিলো না বলে আমি করতে দেইনি। কিন্তু কিছু দিন পর তো ছোট বোনকে স্কুলে প্রাথমিক শাখায় ভর্তি করাতে হবে এ কারণে এখন এসেছি শুনি ৩৫০ টাকা লাগবে এবং অনলাইনে আবেদন করতে ১০০ টাকা লাগবে। কিন্তু আমার জানা মতে আমাদের প্রধান মন্ত্রী সংসদে বলেছিলেন যে জন্মসনদ করাতে সরকারি নির্ধারিত ফি ছাড়া যদি কেউ এর চেয়ে বেশি টাকা দাবি করে তথ্য পেলে চেয়ারম্যান, মেম্বার ও গ্রাম্যপুলিশ কেউর চাকুরি থাকবে না।
গতকাল জন্মসনদ করতে আসা জামিল নামে অপর ব্যক্তি বলেন, দুই ছেলে মেয়েকে মাদরাসায় ভর্তি করাবো এজন্য জন্মনিবন্ধন নিতে বলেছে। এসে শুনি ৩৫০ টাকা করে লাগবে। যেখানে সরকারি ফি ৫০ টাকা সেখানে তারা ৩০০ টাকাই বেশি নিচ্ছে। ভোট দিয়ে ফজর আলী চেয়ারম্যানকে গোগনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বানিয়েছি আমাদের মতো সাধারণ মানুষের সেবা করার জন্য। মানুষের থেকে বাড়তি টাকা নেওয়ার জন্য না।
এ বিষয়ে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মহিউদ্দিন দেওয়ান অতিরিক্ত টাকা আদায়ের বিষয়টি জানেন না বলে অস্বীকার করে যুগের চিন্তাকে বলেন, জন্মনিবন্ধন করাতে কম্পিউটার খরচ যেটা রয়েছে সেটা নেয় জানি কিন্তু অতিরিক্ত নেয় যে তা তো জানি না। কাগজ, কালি, অন্যান্য খরচ এবং কম্পিউটার অপারেটরের তো কোনা বেতন সরকার থেকে দেওয়া হয় না এ কারণে আমরা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কিছু টাকা নিয়ে থাকি। আমি যতটুকু জানি ২০০ টাকা করে ছেলেটা নেয়। এতো বেশি যে নেয় জানি না। আপনি বলাতে জানলাম। কালকে আমি ছেলেটাকে ডেকে কথা বলবো।
একই বিষয়ে গোগনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব ফজর আলী এর সাথে মুঠোফোনে বহুবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি ফোনকলটি রিসিভ করেননি। এস.এ/জেসি


