Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার

Icon

তানজিলা তিন্নি

প্রকাশ: ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৭:৪৫ পিএম

যত্রতত্র বিক্রি হচ্ছে গ্যাস সিলিন্ডার
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জে পাইপ লাইনের গ্যাসের সমস্যা অনেক দিনেরই। বাসা বাড়িতে সাধারণ মানুষ রান্না করার জন্য পাইপ লাইনের গ্যাস বেশিরভাগ সময়ই পায় না। এর উত্তর তিতাসের কাছে জানতে চাইলে তারা দায়সারা ভাব নিয়ে পাইপ লাইনের সমস্যার কথা বলেই সান্ত¦না দিয়ে থাকে সবাইকেই। তাই অন্য কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে রান্না করার জন্য বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে বেছে নেয় এলপিজি অথবা সিলেন্ডার গ্যাস।

 

কারণ বাসা বাড়ির কাছাকাছি যেকোনো  মুদি দোকান, ফ্লেক্সিলোড, লাইব্রেরি, ইলেক্ট্রনিক্স, ফ্রিজ মেরামত করার, হার্ডওয়্যারের দোকান, মেশিনারি দোকান, এমন কি চায়ের দোকানে গেলেই হাতের নাগালে পাওয়া যায় এলপিজি বা সিলেন্ডার গ্যাস। আর এসব সিলেন্ডার বিক্রি কারা জন্য কোনো প্রকারের কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিচ্ছেন না ব্যবসায়ীরা। অরক্ষিত ভাবেই আবাসিক এলাকার মধ্যে অবাধে বিক্রি করা হচ্ছে এসব সিলেন্ডার।

 

তবে এলাকার অলিতে গলিতে এসব দোকানে কী সিলেন্ডার বিক্রি করার কোনো নিয়ম আছে? যে ব্যবসায়ীরা সিলেন্ডার বিক্রি করছেন তারা কী কোনো লাইসেন্স নিয়েছেন সিলেন্ডার বিক্রির জন্য? এমন প্রশ্ন এসব ব্যবসায়ীদের কাছে রাখলে তারা বেশিরভাগ লোক জানান, তারা জানেন’ই না যে সিলেন্ডার বিক্রি করার জন্য কোনো প্রকারের লাইসেন্স অথবা কোনো সরকারি অনুমতির প্রয়োজন পরে।

 

নারায়ণগঞ্জ শহরের অগ্নি দুর্ঘটনা কোনো আশ্চর্যের বিষয় নয় বলেই ধরা যায়। তার সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে ধরা হয় জনসচেতনতা। অনুসন্ধান করে পাওয়া যায়, নিয়ম অনুযায়ী গ্যাস সিলিন্ডার বিক্রি ও মজুদ করতে ফায়ার সার্ভিস, বিস্ফোরক পরিদপ্তরের লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেওয়ার বিধান রয়েছে। তবে বিধান থাকলেও সেই বিধান কেউই মানছেন না। মানা থেকে জানার বিষয় টা বেশি গুরুত্বপূর্ন। আসল কথা বেশির ভাগ লোক জানেনই না এর সর্ম্পকে। ফলে অসচেতনতার কবলে পড়ে দুর্ঘটনার শিকার হয় সাধারণ মানুষ।

 

নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কোনো প্রকারের নীতিমালা তোয়াক্কা না করেই এলপিজি গ্যাস বিক্রি করা হচ্ছে কোনো ডর ভয় ছাড়াই। দোকানের সামনে অথবা মানুষ চলাচলের যায়গায় ফুটপাতের উপরে সিলেন্ডার রেখে ব্যবসা নির্বিঘ্নে পরিচালনা করছেন ব্যবসায়ীরা। অরক্ষিত অবস্থায় রাস্তার উপর ফেলে রাখা এসব সিলেন্ডার যে কোনো মুহূর্তে ঘটাতে পারে বড় ধরণের কোনো দুর্ঘটনা।

 

নিয়ম অনুযায়ী সিলেন্ডার বিক্রি করার জন্য ফায়ার সার্ভিসের অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র রাখার কথা থাকলেও কোনো দোকানেই তা নেই। বর্তমানে জেলার প্রতি ঘরেই একটা করে সিলেন্ডারের বোতল মজুদ করে রেখে দেন জরুরী প্রয়োজনের কারণে। আর এই চাহিদা থাকার কারণে প্রায় সব দোকানীরাই দোকানে সিলেন্ডার মজুদ করে রাখেন। কেউ ২টা, কেউ ৫টা আবার কেউ চাহিদা অনুযায়ী ১০ থেকে ১৫ টা করেও মজুদ করছেন ছোট ছোট দোকান গুলোতে। বেশির ভাগ দোকান গুলোতে ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্স থাকলেও সিলেন্ডার বিক্রি করার জন্য কোনো লাইসেন্সই করা হয় নি।  

 

নারায়ণগঞ্জের বাবুরাইল এলাকার একটি মুদির দোকানের সামনে সিলিন্ডারের বোতল দেখে দোকানীকে সিলিন্ডার বিক্রির জন্য কোনো লাইসেন্স নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সিলেন্ডার বিক্রির জন্য যে কোনো লাইসেন্স লাগে তা প্রথম আপনার কাছেই শুনলাম। সব দোকানদারই রাখেন, তাই আমিও রাখছি।

 

আনা নেওয়ার ভেজাল নাই গাড়ি দিয়ে আইসা সিলেন্ডার নিয়া যায়, আবার দিয়া যায় আমার আনা নেওয়ার কোনো ভেজাল নাই, তাই আমি রাখি। কোনো প্রকার দুর্ঘটনা ঘটলে দায় কার উপর পড়বে এমন প্রশ্ন করলে তার মেজাজে একটু ভারি ভাব করে বলেন, দুর্ঘটনা তো কাউরে বইলা আসে না। কপালে থাকলে এমনি আসবে। আমার দোকানে সিলেন্ডার রাখায় কোনো সমস্যা হবে না।

 

নারায়ণগঞ্জ কাশিপুর এলাকার দাদাভাই ষ্টোর এর মালিক জনাব আজিজ মিয়া বলেন, আমি তো বেশি সিলেন্ডার রাখি না। বেশি হলে আমার দোকানে ২টা কি ৩ টা বোতল রাখি। কিন্তু কোনো অনুমতি নেই নাই। আর কেউ তো কিছু বলে না। আমার দোকানের পাশের দোকানদাররাও বিক্রি করছেন একই ভাবে তাই আমিও বিক্রি করি।

 

নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক জনাব ফখর-উদ্দিন এ বিষয় যুগের চিন্তাকে বলেন, সিলেন্ডার বিক্রি করার জন্য আমাদের কাছ থেকে কোনো খুচরা ব্যবসায়ীকে লাইসেন্স বা অনুমতি পত্র দেওয়া হয় না। আমরা সিলেন্ডার ব্যবসায়ীদের আমাদের লাইসেন্স দিয়ে থাকি। আর আমাদের কাছে এমন ব্যবসায়ীদের কোনো তালিকাও নেই। কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে সেটা আমারা দায়ী নই। কারণ আমরা এ বিষয় কোনো অনুমতি দেই না। এটা বিষ্ফোরক পরিদপ্তর থেকে অনুমতি নিয়ে ব্যবসা করতে হয়। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন