Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ডাম্পিংয়ের নামে হানিফ-হাবিবুরের রমরমা চাঁদাবাজি

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:০১ পিএম

ডাম্পিংয়ের নামে হানিফ-হাবিবুরের রমরমা চাঁদাবাজি
Swapno

 

# মাসে কয়েক লাখ টাকার চাঁদাবাজির সাথে যুক্ত দুইজন

 

 

ইতিহাস-ঐতিহ্য ও শিল্প-বাণিজ্যে সমৃদ্ধ নারায়ণগঞ্জ জেলার একটি গুরুত্বপূর্ণ যাকে ঘিরে “প্রাচ্যের ডান্ডি” হিসেবেই মোটামুটি সবাই পরিচিত। কিন্তু এই শহরে কিছু কতিপয় ব্যক্তির আনাগোনায় বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের বিগত দিনের ঐতিহ্য প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে বললেই চলে। বর্তমানে এই ঐতিহাসিক শহরে হাঁটলেই গলিতে গলিতে দেখা মিলে নানান চাঁদাবাজির মহোৎসব। যার অন্যতম আলোচ্য বিষয় হয়ে বর্তমানে দাঁড়িয়েছে ইজিবাইক কেন্দ্রিক চাঁদাবাজি।

 

যেখানে কথিত আছে সাংবাদিক-পুলিশ ও প্রভাবশালীদের ত্রিমুখী চাঁদাবাজি। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারি চালিত গাড়ির চালকদের কাছে মুর্তিমান আতঙ্কের নাম টি-আই হানিফ ও টি-আই হাবিবুর। এদের বিরুদ্ধে বর্তমানে অভিযোগ জমতে জমতে পাহাড় সমমান হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই দুই ব্যক্তির আন্ডারে একটি সক্রিয় গ্যাং নিয়োগ করা হয়েছে। যাদের নিয়ে প্রত্যেকদিন চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে শহরে বেড়িয়ে পড়েন। সে সময় তারা একটি ইজিবাইক ব্যাপক করে থাকেন যা শহরে ঢুকতে নিষিদ্ধ কিন্তু তাদের জন্য বৈধ।

 

সে সময় তারা একটি স্থান করে বসে তাদের আন্ডারে থাকা চাঁদাবাজদের লেলিয়ে দেন ইজিবাইক আটক করতে। অনেকে অভিযোগ রেখেছেন যে রাস্তায় অটো আসা বৈধ সে রাস্তা থেকে তারা তুলে নিয়ে ইজিবাইক চালকের হাতে একটি স্লিপ ধরিয়ে দেন আর ইজিবাইকটি ডাম্পিংয়ে পাঠিয়ে দেন। সেখান থেকেই শুরু হয় তাদের চাাঁদবাজির উৎসব।

 

ডাম্পিংয়ে বসে থাকা হানিফ ও হাবিবুরের কথিত ম্যানেজার শামীমকে ফোন দিয়ে বলে দেন যে চিনা পরিচিত সরকারী রেট ১০০০ হাজারের জায়গায় ৬০০ টাকা রাখতে আর কোন স্লিপ না দিতে। সেই অনুযায়ী শামীম তার কাজ করে যায় অনেক সময় ১০০০ টাকা রাখলেও সেখানে দেওয়া হয় না কোন সরকারি স্লিপ।

 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডাম্পিংয়ের অনেকের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, হানিফ ও হাবিবুরের একটি টার্গেট থাকে তাদের নিজস্ব টাকা উঠানোর নিয়মিত ৫০/৬০ বা এর থেকে বেশি গাড়ির টাকা হাফ বিল বা কোন সময় ফুল বিল করে ও চলে যায় তাদের পকেটে আর পরবর্তীতে যা আটক হয় সব চলে যায় সরকারি খাতায়। তাছাড়া ও আরো অভিযোগ রয়েছে, এই হানিফ ও হাবিবুর শুধু শহরে এক কথিত ব্যক্তি ওয়াসিমের নামে চাবির রিং অটো অটোতে ঝুলিয়ে দেয় হানিফের পালিত কিছু বাহিনীরা সেখানে শুধু একটি সাইন রয়েছে তা ছাড়া নেই অন্য আর কিছু।

 

প্রতি মাসে এই চাবির রিংয়ের কালার চেঞ্জ করা হয়। জানা গেছে, এই রিং নিতে হলে প্রথমে গনতে হয় ১২০০ টাকা, পরবর্তীতে মাসে রিং প্রতি দেওয়া লাগে ১০০০ টাকা করে। তাছাড়া ও ইসদাইর, মাসদাইরসহ নানা স্থানে যতগুলো অটো গ্যারেজ রয়েছে সেগুলোর সাথে কন্ট্রাক করে মাসে হাতিয়ে নেয় ১০ থেকে ১২ হাজার টাকা। জানা গেছে, হানিফ ও হাবিবুরের নেতৃত্বে অন্য জায়গা বাদে শুধু শহরে প্রায় ১ হাজারের অধিক উপরে ইজিবাইক গুলোতে চাবির রিং দেওয়া।

 

তাছাড়াও সিএনজিতে ও রয়েছে এই হানিফ ও হাবিবুরের গোলাপী কালারের চাবির রিং সেটা ও চলে সেই কথিত ওয়াসিমের নামে। কিন্তু তাকে কেউ চিনে না, এই রিংগুলো সংগ্রহ হয়ে থাকে হানিফ ও হাবিবুরের লোকদের থেকেই। এ বিষয়ে সেই কথিত ওয়াসিমের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই বিষয়ে অবগত না, হয়তো কোন একটি চক্র আমার নাম ব্যবহার করে এই অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। এর আগে ও কয়েকবার আমার নামে নিউজ হয়েছে নারায়ণগঞ্জের বহু পত্রিকায়।

 

সেখান থেকে ও আমাকে কল করা হয়েছিলো আমি বলে দিয়েছি এই ব্যাপারে আমি অবগত নই। তাছাড়া এই হানিফ ও হাবিুরের নেতৃত্বে সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ি এলাকায় রয়েছে আরেকজন শাকিল নামের একজনের নামে ইজিবাইকে এমন সাইনযুক্ত চাবির রিং ব্যবহৃত হয় যার নেতৃতেৃ থাকেন এই হানিফ ও হাবিবুর যার প্রতি মাসের মাসোয়ারা উঠান আরেক চাঁদাবাজ চক্র।

 

আরো জানা গেছে, তাদের যেদিন টার্গেট ফিলাপ না হবে টাকার লোভে পরে তাদের সেই মাসোয়ারাকৃত ইজিবাইক গুলোকে আটক করে ও ৫০০ বা ৮০০ টাকা হাতিয়ে নেয় এই ট্রাফিক পুলিশ হানিফ ও হাবিবুর। যা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ থেকে সকল চালকগণ।

 

তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে এক ভুক্তভোগী ইজিবাইক গ্যারেজ মালিক বলেন, নিয়মিত হানিফ ও হাবিবুর আমার গাড়ি ধরে। কিন্তু সেই গাড়িগুলো আমি হানিফের একজনের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছি। সে প্রতি মাসে আমরা ৮টি অটোর বিনিময়ে মাসিক ৮ হাজার টাকা করে নেয়। আবার আমার গাড়ি ধরে, এই বিষয়ে তাদের কিছু বলতে চাইলে মা-মাসির নাম তুলে গালি-গালাজ করে হানিফ।

 

তাছাড়া ও গাবতলী থেকে শুরু করে, ইসদাইর, মাসদাইর নানা মাসোয়ারা চালু করেছে এই হানিফ ও হাবিবুর। তাদের নামে প্রতি গ্যারেজ থেকেই আসে প্রতি মাসে মোটা অংকের মাসোয়ারা। আমরা এই দুইজনের অতিষ্ঠ হয়ে পরেছি। আমাদের ধারনা এখানে তারা নয় উপরের লোক ও জড়িত আছে তা না হলে এমন ক্ষমতা ওরা দেখাতে পারতো না।

 

আটককৃত এক গাড়ি চালক জানান, আমার গাড়ি সকালে ধরেছে এখন দুপুর হয়ে গেছে, এখনো আমার গাড়ি ছাড়ে না কারণ গাড়ি নেওয়ার সময় আমি হানিফ ভাইয়ের যে লোক ছিলো তাকে বলেছি ভাই আমরা টাকাটা নিয়া নেই। এটা কেন বললাম যার কারণে সে আবার ডাম্পিং এর শামীম ভাইকে জানিয়ে দিয়েছে এখন সে আমরা গাড়ি দেয় না। এখন গেছিলাম বলে ৬৫০ টাকা লাগবো ১ ঘন্টা পর আসবি আর একটা ঠান্ডা দেখে স্পিড আর বেনসন সিগারেট নিয়ে আসবি।

 

তাছাড়া ও সরেজমিনে ডাম্পিং এর সামনে দাড়িঁয়ে থেকে দেখা মিলে সকল আটককৃত গাড়ি ছাড়লে ও নেই কাউর হাতে কোন সরকারি রিসিট। সবাইকে জিজ্ঞেস করলেই বলছে যে, হাফ বিল দিয়ে গাড়ি ছাড়িয়ে এনেছি। বর্তমানে দেখা গেলো সকল গাড়ির সাংবাদিক বা কোন না কোন পুলিশবাহিনীর কার্ড বা চাবির রিং রয়েছে। সেহেতু বুঝা গেলো এখানে দিনে ডাম্পিংয়ের নামে চাঁদাবাজির মহোৎসব খুলে বসা হয়েছে। তাছাড়া তারা যাদের দিয়ে অটো আটক করায় সকলেই মাদকাসক্ত থাকে।

 

যার কারণে কখন কার গাড়ি নিয়ে কে কোথায় পালিয়ে যায় এটা ও ঠিক নেই। অনেকের দাবি, এই গ্যাংয়ের লোকেরা যাদেরকে মাসিক ৫০০ করে মজুরী দিয়ে রাখা হয়েছে তারাও নানা সময় গাড়ি আটক করে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ও অভিযোগ রয়েছে। আবার আরো অভিযোগ রয়েছে দিন শেষে রাত হলে সেই গ্যাং এর সদস্যরা ছিনতাইসহ নানা অপকর্মে জড়িয়ে পরে। সুধীজনরা বলছেন গাড়ি যদি আটক করতেই হয় তবে সব গাড়িকেই আটক করতে হবে।

 

কোনো গাড়ি মাসোহারা দিয়ে পার পেয়ে যাবে আর যারা মাসোহারা দিবে না তারা আটক হবে এটা হতে পারে না। আবার আটক যদি করতেই হয় তবে কিছু টাকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া চলবে না। কারণ টাকার বিনিময়ে গাড়ি ছেড়ে দেওয়া প্রকাশ্য চাঁদাবাজি। বর্তমানে সাধারণ ইজিবাইক চালকরা হানিফ ও হাবিবুরে অতিষ্ট হয়ে এডমিন করিম ও ট্রাফিক এসপির হস্তক্ষেপ কামনা করছে।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) করিম যুগের চিন্তাকে বলেন, হানিফ আর হাবিুরের বিরুদ্ধে এমন কোন অভিযোগ আমার জানা নেই। যেহেতু আপনি আমাকে অবগত করলেন অবশ্যই আমি বিষয়টা নিয়ে দেখবো। তিনি আরো বলেন, বর্তমানে নগরীতে অনেকেই বলে থাকে পুলিশকে ম্যানেজ করে নাকি শহরে অটো ঢুকায়। আমরা এটার পিছনে কোন চক্র রয়েছে সেটার তদন্ত অবহৃত রেখেছি।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টি-আই হানিফ বলেন, ভাই আমি একটু ব্যস্ত আছি পরে কথা বলছি এই বলে ফোন কেটে দেন। পরে আরো কয়েকবার তার মুঠোফোনে কল দিলে সে কল রিসিভ করেননি।

 

এই সম্পর্কে টি-আই হাবিবুর রহমান বলেন, আমার নামে এমন কোন অভিযোগ নেই। এখন কে বা কারা আমার নামে অভিযোগ দিলো এটা বুঝতে পারছি না। আমি কোন অটোর কার্ড বা রিংয়ের বিষয়ে অবগত না। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন