Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

ইজিবাইক চাঁদাবাজিতে ভয়ঙ্কর রূপে হানিফ-হাবিবুর

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৪৭ পিএম

ইজিবাইক চাঁদাবাজিতে ভয়ঙ্কর রূপে হানিফ-হাবিবুর
Swapno

 

# শহরের ইজিবাইক চালকদের জিম্মি করে রেখেছে তারা

 

 

নারায়ণগঞ্জ শহরতলীতে বর্তমানে ইজিবাইক কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির হিড়িক পরেছে। শহরের ২নং গেইট পুলিশ বক্সের সামনে থেকে শুরু করে চাষাড়া পুলিশ বক্স ও চাষাড়া কলেজ রোড ডাম্পিং পর্যন্ত ট্রাফিকের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ অবৈধ ইজিবাইকে চাঁদাবাজির উৎস তৈরি করা মাসিক চাঁদা, সাপ্তাহিক চাঁদা, দৈনন্দিন চাঁদার প্রথা অবহৃত রেখেছেন।

 

ইতিমধ্যে এই ইজিবাইক চাঁদাবাজির মহোৎসবে বার বারই টি-আই হনিফ ও হাবিবুরের নাম সর্বপ্রথমেই চলে আসছে। এই সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারি চালিত গাড়ির চালকদের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে এই দুই ট্রাফিক কর্মকর্তা। ডাম্পিংয়ের অনেকেই বলছে, নিয়মিত এই দুইজনের পকেটে ৪০/৫০ হাজার টাকা না ঢুকলে তাদের মাথা ঠিক থাকে না।

 

যাকে ঘিরে নিয়মিত শহরের শত শত ইজিবাইক চালককে জিম্মি করে রেকারের ভয় দেখিয়ে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ১০০০ টাকা না নিয়ে হাফ বিলের নামে ৫০০ বা ৮০০ টাকা নিয়ে সরকারি রিসিট ছাড়াই ডাম্পিং থেকে হানিফ ও হাবিবুরের ফোন কলে ছেড়ে দেয় তার ম্যানেজার শামীম। দিন শেষে সন্ধ্যার পরে রেকারের নামে চাঁদাবাজি করা টাকাগুলো কয়েক ভাগে ভাগ হয় যা উপর থেকে নিচ পর্যন্ত বহু পকেটেই ঢুকে বলে জানা গেছে।

 

তাছাড়া ও হানিফ ও হাবিবুর বেশি টাকার ভাগই পকেটে ঢুকায় বলে জানা গেছে। তাছাড়া এই দুইজনের থেকে ছাড় পায় না বাক-প্রতিবন্ধিরা তাদের ইজিবাইককে ও জিম্মি করে রেকারের নামে চাঁদা আদায় করে তারা। এদিকে হানিফের বিরুদ্ধে আরো অভিযোগ রয়েছে তিনি বিগত দিনে আদালত পাড়ায় থাকাকালীন সময়ে আসামী রাখার গারদে আসামীর স্বজনদেরকে জিম্মি করে দেখা করানোর নামে হাতিয়ে নিতেন জনপ্রতি ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা।

 

যা নিয়ে কয়েকবার বহু আইনজীবীদের ধমকের কবলে পরে ছিলেন এই হানিফ। কিন্তু বর্তমানে ট্রাফিক ডিপার্টমেন্টে এসে আরো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করেছে। টাকা ছাড়া বর্তমানে তারা কিছুই বুঝে না বলে দাবি সাধারণ চালকদের। এই হানিফ ও হাবিবুরের নির্দেশনায় তার পালিত কিছু চক্র শহরের এক কথিত ব্যক্তি ওয়াসিমের নাম ব্যবহার করে প্রায় ১০০০ এর ও বেশি ব্যাটারি চালিত বড় অটো ও মিশুকে ইংরেজিতে সাইন করা একটি চাবির রিং ধরিয়ে দেয়।

 

যার জন্য প্রথমে গুনতে হয় প্রায় ১২০০ টাকা পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০০০ করে আবার অনেক জায়গায় ১৫ দিনে অটো প্রতি ৫০০ করে তুলে এই হানিফ ও হাবিবুরের পালিত কিছু চক্রের লোকেরা। কেউ যেন না বুঝে নেই ক্ষেত্রে অবলম্বন করা হয়েছে একটি নিয়ম যা হলো প্রতি মাসেই চাবির রিংয়ের কালার চেঞ্জ করা।

 

ইতিমধ্যে শহরের যে যে এলাকায় ইজিবাইকের গ্যারেজ রয়েছে তাদের সাথে কন্ট্রাক করে জোর পূর্বক অটো-মিশুকে ঝুলিয়ে দিচ্ছে এই চাবির রিং। বহু স্থানে আলোচনা করে জানা গেছে, ওয়াসিমের নামে রিং ব্যবহার হয় শহরের বিভিন্ন রোডে প্রায় ২ থেকে ৩ হাজার অটো-মিশুক ও সিএজিতে যার অর্ধেক হানিফ ও হাবিবুরের নির্দেশনায় চলে। সেই টাকা হানিফ ও হাবিবুরের চক্রের লোকেরাই তুলে থাকে। আর বাকিগুলো শহরে চলাচল করতে বিভিন্ন সেক্টরে মোটা অংকের টাকা দিয়ে থাকে ওয়াসিম এমন ঘটনা ও শোনা গেছে।

 

ইজিবাইকে মাসিক চাবির রিং ব্যবহার ও হাফ বিলের নামে শহরে ভয়ঙ্কর চাঁদাবাজি শুরু করেছে এই দুই ট্রাফিক পুলিশ কর্মকর্তারা। তাদের ভয়ঙ্কর রূপ শুধু শহরেই ক্ষান্ত নয় তারা সিদ্ধিরগঞ্জের চৌধুরীবাড়ি এলাকায় ও বিভিন্ন ইজিবাইক চালকদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে সাকিল নামের আরেক কথিত ব্যক্তির নামে সেখান থেকে ও মাসে লুফে নিচ্ছে লক্ষ লক্ষ টাকা।

 

সরেজমিনে চাষাড়া কলেজ রুটের ডাম্পিং পয়েন্টে গিয়ে দেখা মিলে এক বিরল চিত্রের সেখানে প্রতিদিনের ন্যায় দাঁড়িয়ে আছে বহু ব্যাটারি চালিত যানবাহনের ড্রাইভাররা। তাদের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, প্রতি মাসে দুইবার করে তাদের আটক করা হয়। তারা কেউ কেউ কিছু কথিত সাংবাদিকদের কার্ড ব্যবহার করে আর কেউ কেউ ব্যবহার করে থাকে পুলিশ কর্মকর্তাদের চাবির রিং বা কার্ড।

 

যাদের কাছে এই রিং বা কার্ড আছে তাদের নিয়মিত গুনতে হয় ৬০০ বা ৫০০ টা করে। আর যাদের কার্ড নেই কোনই তাদের সরকারি রেট ১০০০ হাজার জমা দিয়ে রিসিট নিতে হয়। আবার বেশির ভাগ সময় রিসিট দেওয়া হয় না। যাকে ঘিরে সেই টাকার হিসাব কোন সরকারি খাতায় উঠানো হয় না। এমন করে নিয়মিত লাখ টাকার চাঁদাবাজি হয় এই গাড়ির ডাম্পিং পয়েন্টে।

 

এদিকে কিছু অটো চালকরা বলছে, এখানে সবাই টাকা চিনে। টাকা দিলে সব ঠিক হয়ে যায়। কিন্তু এখানে দুইজন ট্রাফিক কর্মকর্তা আছে হানিফ ও হাবিবুর তারা তাদের একটি ৫/৬ জনের গ্যাং রয়েছে তাদের দিয়ে আমাদের বেশি নির্যাতন করে। এদিকে ডাম্পিংয়ে তার একজন লোক শামীম আটককৃত গাড়ির রিসিট কাটে সে সকলের সাথে বহু খারাপ ব্যবহার করে। সে বেশির ভাগ সময় কোন সরকারি রিসিট দেয় না শুধু টাকার এমাউন্ট লিখে আর হাতে যে স্লিপ ছিলো সেটা রেখে হাফ বিল নিয়ে আটককৃত ইজিবাইক ছেড়ে দেয়।

 

যাকে ঘিরে সরকারি রেকার বিল কোন বিত্তমান হয় না। নিয়মিত নারায়ণগঞ্জ শহরে প্রায় কয়েক হাজার ব্যাটারি চালিত যানবাহন আটক করা হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু যার সরকারি হিসাব হয় না বলে মনে করছে সুধীজনরা। বর্তমানে ট্রাফিক সেক্টরে বিগত দিনে অনেকে থাকলেও বর্তমানে হানিফ ও হাবিবুরের থেকে বেশি নির্যাতিত হচ্ছে সাধারণ চালকগন যাকে ঘিরে এই দুই ট্রাফিক কর্মকর্তায় অতিষ্ঠ সাধারণ চালকগণ। শীঘ্রই এমন কথিত কর্মকর্তাদের থেকে মুক্তি চান তারা।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) করিম জানান, এই বিষয়ে আমিও বহু কথা শুনেছি আমি এটার বিষয়ে শীঘ্রই একটি পদক্ষেপ নিবো। বর্তমানে হাফ বিল করা হয় কিছু গরীব ও আবার কতিপয় লোক রয়েছে তাদের জন্য। ডাম্পিং এর অনিয়ম কি কি আছে শীঘ্রই আমরা এটার একটা ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

 

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে টি-আই হানিফ বলেন, হাফ বিলে শুধু সাধারণ গরীব ব্যক্তি যারা আছে তাদের ছাড়া হয়। আবার অনেক ব্যক্তিকে ফ্রীতে ও আমরা ছেড়ে দেই গরীব অসহায় বলে। তাদের কোন রিসিট দেওয়া হয়নি জানতে চাইলে সে বলে জ্বী ভাই দুই জনের ১০০০ করে একটি রিসিট দেই। এই টাকা সরকারি খাতায় উঠে নাকি জানতে চাইলে উনি ফোন কেটে দেয়।

 

এই সম্পর্কে টি-আই হাবিবুর রহমানের মুঠোফোনে কল করে যুগের চিন্তা পত্রিকার নাম বললে তিনি রং নাম্বার বলে ফোন কেটে দেয়।এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন