সুষ্ঠু ভোটের পরিবেশ চায় সাধারণ মানুষ
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৫৮ পিএম
আসন্ন দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন নিয়ে নগরীজুড়ে চলছে ব্যাপক প্রস্তুতি। আর মাত্র একদিন বাকি। এরই মধ্যে পাড়ামহল্লা, মাঠে, চায়ের দোকানে প্রাধান্য পাচ্ছে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। প্রচার-প্রচারণা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রার্থীরা। কিন্তু দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি নির্বাচনে না থাকায় মাঠ পর্য়ায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক কোন নির্বাচনী আমেজ দেখা যাচ্ছে না।
ফলে নির্বাচন নিয়ে ভোটারদের মধ্যে কোনো আনন্দ-উল্লাসও নেই। পাশাপাশি অতীতের অভিজ্ঞতা ভালো নেই বলে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে জনমনে বিরাজ করছে আতঙ্ক। সাধারণ মানুষ বলছে সুষ্ঠ ভোটের পরিবেশ তারা চায়।
এ নিয়ে ব্যবসায়ী হাসান আলীর সাথে কথা বলে ভোটের পরিবেশ কেমন চান জানতে চাইলে তিনি বলেন, নির্বাচন মানেই একটা উৎসবের ব্যাপার। সবদল অংশগ্রহন করলে ভোটের সৌন্দর্য আরো বেড়ে যায়। কিন্তু এবারের নির্বাচনে রাজনৈতিক বড় দলই আসে নাই। আগে দেখতাম ভোট আসলে মানুষের মাঝে এমন একটা আনন্দ কাজ করতো যেন ঈদ আসছে। কিন্তু এখন মানুষ আতঙ্কে থাকে ভোটের কেন্দ্রেই যেতে চায় না। তাই আমার মতে আমাদের মতো যারা সাধারণ মানুষ রয়েছে তারা সবাই চায় যেন আনন্দবান্ধব পরিবেশে নির্বাচনটা হোক।
একই প্রত্যাশা হাফসা নামে এক গৃহিনীর তিনি বলেন, পরিবেশ নিয়ে কি বলবো? এবার তো রাজনৈতিক মূল দলই তো নির্বাচনে আসে নাই। শক্ত প্রতিপক্ষ বা প্রতিদ্বন্দ্ব যদি না থাকে তাহলে সেই ইলেকশনের কোনো মানে হয় নাকি। আমি সব সময় চাই ২০১৮ তে যেমন গোন্ডগোল-মারামারি হয়েছে এবার যেন তেমন না হয়ে সুন্দর পরিবেশে সুষ্ঠ হোক। সেটা যেকেউ হোক, যাই হোক আমার ভোটটা যেন আমি দিতে পারি। ২০১৪ সালের মতো এবারও সরকার বিরোধী বড় রাজনৈতিক দল নির্বাচনে অংশগ্রহন করে নাই। তাই নির্বাচনটা একপেশে হয়ে গেছে। যদি দুই দল মিলে সুষ্ঠভাবে নির্বাচনটা করতো তাহলে আরো ভালো লাগতো।
একই প্রশ্নে রিকশাচালক চালক জসিম মিয়া বলেন, নির্বাচনের প্রচার নিয়ে প্রার্থীরা ব্যস্ত থাকলে কি হবে। সাধারণ মানুষ তো ভোট দিতে যেতে চায় না। গতবার ২০১৮ এর নির্বাচনে আমি ভোট দিতে পারিনি। তার উপর সে বার অনেক ভোটারই মারামারি কবলেও পরে। মারামারি, ভাঙ্গচুর এমন পরিবেশ কে চায়। আমরা সাধারণ মানুষরা চাই কোনো জামেলা ছাড়া সুষ্ঠু পরিবেশে ভোট দিতে। এছাড়া নির্বাচন আসলে হরতাল-অবরোধ থাকে তখন আমাদের রুজি-রোজগারেও ক্ষতি হয়।
ভোট নিয়ে চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দেওয়া কিছু লোকের সাথে কথা বললে তারা বলেন, ভোট হচ্ছে আমার মৌলিক অধিকারের মধ্যে পরে। ভোট হলো একজন নাগরিকের শক্তি। যেহেতু আমার নিজের মনোভাব প্রকাশ করার অধিকার আছে সেহেতু অবশ্যই ভোট দিতে যাবো। এবার সেটা যেকেউ হোক, যাই হোক। কে কতটা দেশের জন্য করেছে সেটা তো সাধারণ মানুষ দেখেছে। কিন্তু চাই ভোটের পরিবেশটা যেন সুষ্ঠু থাকে। আমার ভোটটা যেন আমি দিতে পারি। নির্বাচনে যে দলই জয় লাভ করুক না কেন আমরা চাই আমাদের মতো সাধারণ মানুষগুলো যেন ভালো থাকি। পাশাপশি দ্রব্য মূল্যের যে উর্ধ্বগতি এটা যদি নিয়ন্ত্রন করতো তাহলে সাধারণ মানুষ আর আন্দোলন করতে পথে আসতো না। আমরা বাজারে গেলে হিমশিম খেয়ে যাই।
তাদের কথা প্রসঙ্গে চায়ের দোকানদার মানিক মিয়া বলেন, আমি যখন ভোটার হয়েছি তখন তোমাদের জন্মও হয় নাই। একবার ভোট দিতে গিয়ে শুনি আমার ভোট নাকি হয়ে গেছে। এবার আশা কারছি যে কোনো ঝামেলা ছাড়াই আমার ভোট যেনো আমি দিতে পারি।
বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া সায়মা আক্তার নতুন ভোটার হিসেবে তার মনোভাব প্রকাশ করে তিনি বলেন, এবারে প্রথম সংসদীয় ভোট দিবো । বর্তমানে নির্বাচন হচ্ছে একপক্ষিক নির্বাচন। প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক যদি ব্যাপার না থাকে তাহলে কীভাবে হবে। আগে মা-খালাদের দেখতাম ভোট আসলে ঈদের মতো আনন্দ করতো। কিন্তু এখন এই বিষয় গুলো উঠে গেছে। আর আগে ভোটের দিন কার আগে কে ভোট কেন্দ্রে যাবে এই নিয়ে ছিলো কতো উচ্ছ্বাস ও আনন্দ কিন্তু মানুষ এখন ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার তেমন কোনো আগ্রহ দেখায় না।
নিতাইগঞ্জের স্থানীয় বাসিন্দা শারমিন শিলা বলেন, আগের মতো আমেজটা এখন আর নাই। তারপরও চাই নির্বাচনটা সুষ্ঠু হোক। সেটা যে প্রতীক হোক বা প্রার্থী আমি যাকেই ভোট দিতে যাইনা কেন আর যাই হোক আমি যেন ভোটটা সুন্দর ভাবে দিতে পারি। মোটকথা হলো আমরা আমাদের মতো ভোট দিবো যাকে চাই তাকেই দিবো। গত বারের নির্বাচনে তো ঠিকভাবে ভোট দিতে পারি নাই। সবাই নিজের মতামত প্রকাশ করার অধিকার রয়েছে। যদি এবার দুই দল মিলে সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন করতো তাহলে এটা দেশের ও আমাদের মতো জনসাধারনের জন্যই ভালো। এস.এ/জেসি


