হুঙ্কারের নেতার কেন্দ্র নির্জন
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০৬:৫০ পিএম
# সব কেন্দ্রেই ভোটার না থাকলেও ছিল আওয়ামী নেতাদের ছড়াছড়ি
নারায়ণগঞ্জ-৪ (ফতুল্লা-সিদ্ধিরগঞ্জ) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচনে শান্তিপূর্নভাবে ভোট গ্রহণ শুরু হলে ও অধিকাংশ ভোটকেন্দ্র প্রায় ভোটার শূন্য দেখা গেছে। ফতুল্লা থানার আওতাধীন কাশীপুর, এনায়েতনগর, ফতুল্লা, বক্তাবলী, কুতুবপুর ইউনিয়নসহ সিদ্ধিরগঞ্জের ওয়ার্ডগুলোর মধ্যে ছিল না ভূড়ি ভূড়ি ভোটার সংখ্যা। যা ছিল তা অনেক অনেক সিমিত আকারে।
গতকাল রোববার (৭ জানুয়ারী) দুপুর ১২টা থেকে এই আসনের বিভিন্ন নির্বাচনী কেন্দ্রে গিয়ে দেখা মিলেছে শূন্যতার। উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণের দেখা মিলেনি প্রতিটি কেন্দ্রেই। ভোটার ছাড়াই ফাঁকা ছিল কেন্দ্রগুলো গতকাল সকাল ১২টায় সরজমিনে গিয়ে দেখা মিলে, ফতুল্লা থানাধীন এনায়েতনগর ইউনিয়নের নবীনগর শাহওয়ার আলী উচ্চ বিদ্যালয়ে একজন ভোটারকে ও দেখা যায়নি পুরো কেন্দ্র ছিলো শুনশান নিরবতা।
নির্বাচনী ভোটার কাস্টের বিষয়ে প্রিজাইডিং অফিসার সোলাইমানের সাথে যোগযোগ করে জানা গেছে এই কেন্দ্রে ভোটার সংখ্যা ২,৫৩৩ কিন্তু এই পর্যন্ত ভোট কাস্ট হয়েছে ৭৫টি আর ভোটার বুথ রয়েছে ৮টি। আর যেহেতু শীতের সকাল এখনো কেউ ভোট দিতে আসেনি হয়তো এলাকার সকালে কাজ শেষ করে ভোট গ্রহণে চলে আসবে।
পরবর্তীতে আধা-ঘন্টা ব্যবধানে এনায়েতনগর সোনার বাংলা সাংসদ কেন্দ্রে গেলে দেখা মিলে পূর্বের মতো করে একই দৃশ্য ভোটারবিহীন কেন্দ্র পরে আছে কিন্তু ভোট দেওয়ার লোকের অভাব। এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রায়হানের সাথে যোগাযোগ করলে জানা যায় এখানে ৮টি ভোটার বুথ রয়েছে তা ছাড়া ভোটার সংখ্যা রয়েছে ৪,২১৪টি এই কাস্ট হয়েছে ২০০টি। এদিকে বুথগুলোতে ঘুরে দেখা মিলে আরেকটি চিত্রের।
জানা মতে, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে প্রার্থীর সংখ্যা ৮জন কিন্তু এখানে ঘুরে আমরা দেখতে পাই নৌকা, সোনালী আঁশ, গোলাপ, মশাল বাকি আর কোন পোলিং এজেন্টকে দেখা যায়নি। তাছাড়া সকল বুথে ঘুরে জানতে চাইলে কে কার পোলিং এজেন্ট সঠিকভাবে কেউ বলতে পারেনি। তাছাড়া ও ৮টি বুথে গিয়ে একটির মধ্যে ও মিলেনি এক জোগে ৪ জন এজেন্টের কেউ ছিলো ওয়াশরুমে, কেউ ছিলো বাহিরে এমনই বক্তব্যে অন্য এজেন্টদের।
পরবর্তীতে এনায়েতনগর ইউনিয়নের ধর্মগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে গিয়ে দেখা মিলে শুধু আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও আনসারদের তা ছাড়া ছিল না কোন ভোটার কিন্তু সেই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার মোস্তফা রহমান বলেন, এই কেন্দ্রে ভোটার কাস্টেও বুথ রয়েছে ৯টি আর ভোটার সংখ্যা ৩,৫৬২টি আর কাস্ট হয়েছে ৫০টি। আরো বলেন, শীগ্রই ভোটার কেন্দ্রে ভোট দিতে আসবে।
পরবর্তীতে দুপুর ১ টায় এনায়েতনগর হরিহরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে গিয়ে দেখা মিলে কেন্দ্র পুরো ফাঁকা শুধু কেন্দ্রের বাহিরে গুটি কয়েকজন প্রার্থীতার আওতাধীন নেতৃবৃন্দ ছাড়া কেন্দ্রের ভিতরে দেখা মিলেনি কোন ভোটারের। ভোট কাস্টের বিষয়ে নির্বাচন প্রিজাইডিং অফিসার আসাদুজ্জামান বলেন, এই কেন্দ্রে ভোটারের সংখ্যা ৩,৩৫৬ জন আর এখানে কাস্ট হয়েছে ৮৫টি।
এদিকে একই সাথে হরিহর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রিজাইডিং অফিসার এ.এইচ.এম শামীম বলেন, এই কেন্দ্রে বুথ সংখ্যা ৮টি ভোটার সংখ্যা ৩,৭৪৮টি আর ভোট এই পর্যন্ত কাস্ট হয়েছে ৭৫টি হয়তো যারা ভোটার রয়েছেন তারা কাজের চাপে ব্যস্ত আছেন শীঘ্রই ভোট গ্রহনে কেন্দ্রে আসবে আশা করছি। তারপর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে গিয়ে মুসলিমনগর বায়তুল আমান শিশু পরিবার কেন্দ্রে গিয়ে দেখা ভোটার না দেখা গেলে ও সেখানে নৌকার সমর্থকদের দেখা যায় গেটের ভিতরে আশেপাশে ঘুরতে।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রিফাত আল মোজাদ্দিদ বলেন, আমাদের কেন্দ্রে বুথ ৮টি আর ভোটার ৪,০৬৬ জন কাস্ট হয়েছে ৯৮৭টি। শাসনগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেতাকর্মীদের আনা গোনা ছাড়া ভোটার ছিলো সিমিত আকারে এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ওমর ফারুক বলেন, এটা পুরুষ কেন্দ্র এখানে বুথ রয়েছে ৭টি ভোটার ৩,৩০০ এই পর্যন্ত ভোট কাস্ট ৩০১টি। একই সাথে মহিলা ভোটার কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রাশেদ বলেন, এখানে বুথ ৭টি ভোটার সংখ্যা ২,৬৬১জন মোট ভোট কাস্ট ৮৭টি।
ফতুল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মহিলা কেন্দ্রে গিয়ে দেখা মিলে বাহিরে নৌকার কিছু সমর্থকরা অবস্থান করছেন ভেতরে দুইজন ভোট দিতে গিয়েছে। এমতাবস্থায় এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার বজেন্দ্রনাথ কেন্দ্রের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এই কেন্দ্রে বুথের সংখ্যা ৫টি, ভোটার রয়েছে ২,০৪৮জন আর এই পর্যন্ত ভোট কাস্ট হয়েছে ৫১৩টি। এভাবেই এনায়েতনগর ইউনিয়নের সীমানা অতিক্রম করে ফতুল্লা পায়লট স্কুলের কেন্দ্রে গেলে দেখা মিলে একটি বিরল চিত্রের।
সেখানে কোন ভোটার ছিল না একেবারে, এই কেন্দ্রের ভিতরে প্রবেশ মুখেই দেখা গেছে ফতুল্লার এক আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ আহম্মেদ লিটনকে কেউ কেউ বলছে তিনি ভোটারদের অনুরোধ করে ও ভোট দিতে সাধারণ জনগণকে আগ্রহী করে তুলতে পারেনি। এই স্কুলে দুইটি কেন্দ্র দুইটা কেন্দ্র মিলে মোট ভোটার সংখ্যা ৬,৩৪৬ জন আর দুই কেন্দ্র মিলে দুপুরেই ভোট কাস্টের খবর প্রিজাইডিং অফিসারগণ বলেন, ৩৫৪ জন।
ফতুল্লার ৭৭ নং রামারবাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কেন্দ্রে গেলে দেখা মিলে ভোটারের অভাবে পোলিং এজেন্টদের দেখা গেছে এক জোগে আড্ডা দিতে। পরবর্তীতে সময় প্রায় দুপুর আড়াইটা এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার শাহিন আলম বলেন, এই কেন্দ্রে শান্তিপূর্ন ভোট পরিচালিত হচ্ছে। এই কেন্দ্রে মোট বুথ ৬টি ভোটার সংখ্যা ২৯৭৩জন আর এখন পর্যন্ত কাস্ট হয়েছে ৪৪৭টি। অফিসারের দাবি ভোট গ্রহনের শেষ সময় আরো বাকি আছে দেড় ঘন্টা এর মধ্যে আরো অনেকেই আসতে পারে।
দুপুর ৩:৩০ মিনিটে সিদ্ধিরগঞ্জের গোদনাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে গিয়ে সকল কেন্দ্রের মতো একই খালি চিত্র। এই কেন্দ্রের পুরুষ প্রিজাইডিং অফিসার মহসিন উদ্দিনের সাথে যোগাযোগ করে জানা গেছে, এই কেন্দ্রে পুরুষ বুথ রয়েছে ৪টি ভোটার সংখ্যা রয়েছে ১৯৭৬ জন ভোট সেই পর্যন্ত কাস্ট হয়েছে ৬৫৫টি। একই সাথে মহিলা কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার জিয়াউল হায়দার বলেন, এই কেন্দ্রে বুথ সংখ্যা ৫টি ভোটার সংখ্যা ১৯৪৯ জন এই পর্যন্ত ভোট কাস্ট হয়েছে ৫৯১ টি। এই স্কুলের অপর পাশে গোদনাইল সরকারি বালক/বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয় এই কেন্দ্রে ও ভোট নিয়ে ধাক্কাধাক্কির মতো কিছু দেখা যায়নি।
এই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার রিয়াজুল বলেন, এই কেন্দ্রে বুথ রয়েছে ৬টি, ভোটার সংখ্যা ২৯৬০ জন ভোটার কাস্ট ৯০০টি। সবশেষে বোঝা গেলো ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী ভোট কাস্ট সকল কেন্দ্রে অনেক কম। সকল কেন্দ্রে ঘুরে দেখা মিলেনি নির্বাচনকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের। প্রথম থেকে শেষ মুহর্ত্ব পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের কেন্দ্রগুলো ফাঁকা ফাঁকাই দেখা গিয়েছে। একটির মধ্যে ও প্রথম ও শেষ মুহুর্ত্ব পর্যন্ত ছিলো না ভোটারের লম্বা লাইন। এই প্রতিকূল অবস্থার মধ্যে দিয়েই অবশেষে শেষ হলো দ্বাদশ জাতীয় সাংসদ নির্বাচন। এস.এ/জেসি


