এক পা নেই তবুও ভোট দিতে আসেন শাহীন মিয়া। ছবিটি রবিবার সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের তাজেক প্রধান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভোট কেন্দ্র থেকে তোলা। ছবি : মেহেদী হাসান।
সারাদেশে শেষ হলো দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচন। নির্বাচন নিয়ে এতো জল্পনা-কল্পনার অবশেষে ঘটলো অবসান। বহুল প্রতিক্ষিত জাতীয় নির্বাচনের ভোট গ্রহনের কাজ শেষ। নারায়ণগঞ্জ- ৫ আসনের সব ভোট কেন্দ্রেই সকাল ৮টা থেকে ভোট গ্রহন শুরু হয়। বিকেল ৪ টা বাজার সাথে সাথে শেষ হয়েছে জনগনের রায় জানানোর পর্ব। কোনো ভোট কেন্দ্রেই তেমন কোনো সহিংসতার ঘটনা কথা শোনা যায় নি। তবে কিছু জায়গায় ভোট কেন্দ্রে কিছুু গোলযোগের ঘটনা ঘটলেও ভোটের পরিবেশ অনেকটা শান্তই ছিল।
নির্বাচনের সব রকমের নিরাপত্তা ব্যবস্থার মধ্যে দিয়েই ভোট দিয়েছেন ভোটাররা। এমন শান্ত ও সুষ্ঠু পরিবেশের মধ্যে ভোট হওয়ার অন্যতম কৃতিত্ব নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। তবে শান্তিপূর্ণ ভাবে নির্বাচন হলেও ভোট কেন্দ্র গুলোতে দেখা যায়নি ভোটার দের। এ আসনের ভোটার সংখ্যা অনুযায়ী ভোটারের উপস্থিতি অনেক কম ছিল।
সাধারণ মানুষের ভাষ্যমতে, নির্বাচনে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বীতা না থাকায় ভোটারদের উপস্থিতি তেমন ছিল না। নিজের পচ্ছন্দসই দল নির্বাচনে অংশ গ্রহন না করার কারণে অনেকেই ভোট কেন্দ্র মুখী হয়নি।
গতকাল সরেজমিনে ভোট কেন্দ্র গুলো পর্যবেক্ষন করতে গিয়ে দেখা যায়, ভোট কেন্দ্র গুলো সকাল ৮ টার মধ্যেই ভোট গ্রহনের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। সকাল থেকেই ভোট কেন্দ্র গুলোতে নিরাপত্তা বাহিনী ছিল তৎপর। তবে ভোট কেন্দ্র গুলোতে ছিল না আশানুরূপ ভোটারের উপস্থিতি। ভোট দেওয়ার সময় অনুযায়ী সকাল ৮ টা থেকেই ভোট গহনের কার্যক্রম শুরু হলেও ভোট কেন্দ্র গুলোতে ভোটার ছিল না।
প্রতিটি ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহন শুরু হওয়ার পর প্রায় ২ ঘন্টা যাবৎ ভোটার উপস্থিতি ছিল না বললেই চলে। বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোট কেন্দ্র গুলোতে পুরুষ ও মহিলা ভোটারের উপস্থিতি সামান্য দেখা গেলেও, নারায়ণঞ্জ ৫ আসনের ভোটার তালিকার সংখ্যা অনুযায়ী সেভাবে ভোট কেন্দ্রে ভোটারের উপস্থিতি ছিলই না, তা নিঃসন্দেহেই বলা যায়।
বেশির ভাগ ভোট কেন্দ্রে ডিউটি রত প্রিজাইডিং অফিসারদের মতে, সুষ্ঠুভাবেই নির্বাচন হচ্ছে। কোনো কেন্দ্রে কোনো প্রকারের ভোট জালিয়াতি বা কোনো নকল ভোট দেওয়ার ঘটনা ঘটেনি। ভোটার উপস্থিতি ভালো এবং বেলা বাড়ার সাথে সাথে ভোটাদের উপস্থিতি আরো বাড়বে। তবে তাদের কথার সাথে বাস্তবতার অনেক পার্থক্য দেখা গেছে। বেলা সকাল গড়িয়ে দুপুর শেষ হবার পড়েও অনেক ভোট কেন্দ্রেই ভোটার উপস্থিতি তেমন ছিলই না।
বেলা ৪ টা পযর্ন্ত ভোট গ্রহন চালু থাকলেও ভোটের দিনের শেষ বেলার দিকেও ভোটার উপস্থিতি তেমন দেখা যায়নি। ভোট কেন্দ্র গুলোতে তেমন কোনো অন্যান্য নির্বাচনে ভোটার দের ভোট দেওয়ার জন্য লাইন লেগে থাকলেও এই দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে কোনো ভোট কেন্দ্রেই দেখা মেলেনি ভোটার দের লাইন।
নারায়ণগঞ্জ সৈয়দপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিতে আসা রানী দাস নামের একজন গৃহিনী ভোটের এমন সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে বলেন নির্বাচনের পরিবেশ অনেক শান্তিপূর্ন যেমন সবাই চেয়েছিল। ভোটের আগে আমি অনেক ভয় পেয়েছিলাম কারণ ভোট দিতে আসলেই অনেক সময় অনেক সমস্যার মধ্যে পড়তে হয়। আবার মারামারির কবলেও পড়ে যায়। কিন্তু এবার ভোট কেন্দ্রে এসে এমন সুষ্ঠু পরিবেশ দেখে আমার অনেক ভালো লাগছে। আমি মনে করেছিলা ভোট টা হয় তে দিতেই পারবো না। কিন্তু ভোট দিতে পেড়ে নিজের কাছে খুব ভালো লাগছে।
নির্বাচনের দিন সকাল বেলা ভোট দিতে না গিয়ে প্যাডেলচালিত এক রিক্সা চালক তার গাড়ি নিয়ে বের হয়েছেন। ভোট দিতে যাবেন কিনা এমন প্রশ্ন তার কাছে রাখলে তিনি বলেন, আমার ভোট দিতে গিয়ে কী হবে। আমি যে দল সাপোর্ট করি সে দল এই আসনের নির্বাচনে অংশ গ্রহনই করে নাই। আমার তাহলে ভোট দিতে গিয়ে কী হবে। তাছাড়া দেখা যাবে আমার ভোট দিতে গিয়ে দেখবো আমার ভোট দেওয়া শেষ তো শুধু আমার ভোট দিতে না যাওয়াই ভালো। কোনো ভোট কেন্দ্র কোনো প্রকার অপ্রীতিকর ঘটনার কথা শুনেছেন কিনা জানতে চাইলে, তিনি আবার বলেন, নিবার্চনে তো কেউ নাই ঝামেলা কে করবো। প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলে ঝামেলা হয়। যেখানে কোনো বিরোধীদল নেই নির্বাচনের মাঠে সেখানে তো কোনো ঝামেলা হওয়ার কথাই না।
১নং ফরাজিকান্দা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বছর নতুন কয়েক জন ভোটার এক সাথে ভোট দিতে আসে কেন্দ্রে। ভোট দেওয়া শেষে তাদের কাছে প্রথম বার ভোট দিয়ে কেমন লাগলো এমন প্রশ্ন করলে তারা বলেন, প্রথম বার ভোট দিয়ে খুব ভালো লাগছে। সবাই একসাথে ভোট দিতে এসেছি ভালোই লাগছে। আমরা তো ভেবেছিলাম বাসায় থাকবো ভোট দিতে আসবো না কিন্তু পড়ে এলাকার অনেকের কাছেই শুনলাম ভোট সুষ্ঠু ভাবে হচ্ছে তাই অসলাম। এস.এ/জেসি


