ভোটের দিন রাস্তাঘাট-জমজমাট থাকার কথা থাকলেও শহরের রাস্তাঘাট ছিলো একেবারেই ফাঁকা।
অবশেষে নানা উৎকন্ঠার মাঝে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহন সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল রবিবার (৭ জানুয়ারি) ভোটের দিন রাস্তাঘাট-জমজমাট থাকার কথা থাকলেও শহরের রাস্তাঘাট ছিলো একেবারেই ফাঁকা। একদিকে চলেছে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর ডাকা ২ দিনের হরতাল অন্যদিকে চলেছে জাতীয় নির্বাচনের ভোট।
অন্যান্য দিনগুলোতে যেমন নগরীর চাষাড়া-কালিবাজারের রাস্তায় যানযট দেখা যায় সেখানে তেমন একটা গাড়ি চলতে দেখা যায়নি সারাদিনেও। নানান উৎকণ্ঠার নির্বাচনের ভোটের দিনে চলেছে বিএনপি-জামায়াত ও সমমনা দলগুলোর ডাকা হরতাল। ভোটের কারণে সাধারণ ছুটি থাকায় সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় চাকুরীজীবী মানুষজন বের হয়েছেন কম। তাছাড়া ভোট কেন্দ্রেও কোনো লাইন বা ভিড় দেখা যায়নি।
জানা যায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে নিরাপত্তার কথা ভেবে নগরীতে শনিবার থেকে সোমবার মধ্যরাত পর্যন্ত মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ। এই নির্দেশনায় প্রতিদিন রাস্তা মোটরসাইকেলে পরিপূর্ণ থাকলেও আজ সকাল থেকে চোখে পড়েনি মোটরসাইকেল। তবে রাস্তার মোড়ে মোড়ে পুলিশের টহল দলকে টহল দিতে দেখা গেছে। দেখা গেছে, র্যাবের টহল দলকেও।
রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে ৫টা পর্যন্ত নগরীর চাষাড়া, খানপুর, কালিবাজার, ২নং গেইট, সিটি কর্পোরেশন, নলুয়া পাড়া, উকিল পাড়া, শহীদ নগর, সৈয়দপুর, ফরাজীকান্দা, সোনাকান্দা, বন্দর সহ আশপাশের এলাকা ঘুরে তেমন কোনো যানবাহন চোখে পড়েনি।
গতকাল বিকেল ৪টায় বন্দরঘাট পার হওয়ার পর এক রিকশাচালক বলেন আপা কোথায় যাবেন? খানপুরের কথা বললে তিনি বলেন ১০ টাকা দিয়েন। যেখানে বন্দর ঘাট থেকে খানপুরের ভাড়া ৩০-৪০ টাকা। তখন অবাক হয়ে তাকে এতো কম টাকা ভাড়া চাওয়ার কারণ জিজ্ঞেস করলে, তিনি নরম কন্ঠে বলেন আপা ভাবছি আজকে ভোটের দিন কিছু টাকা রোজগার হইবো সেই আশায় সকাল সকাল গাড়ি নিয়া বার হইছি কিন্তু এহন দেখি যাত্রী নাই। সারাদিনে মাত্র একশো বিশ টাকা রোজগার হইছে। এই রিকশাটা আমি ভাড়া নিয়া চালাই দিনশেষে মহাজনরে ৩০০টাকা ভাড়া দিতে হইবো। আজকে ভাড়ার টাকাডাই হইলো না। এই কারণে কম টাকা কইরা হইলেও ভাড়ার টাকা যোগাড় করতে হইবো।
তিনি বলেন, আজকের দিনে রাস্তাঘাটে এতো কম মানুষ থাকবো বুঝতেই পারি নাই বুঝলে আমিও বাসা থাইকা বার হইতাম না। ভোট দিয়েছেন কিনা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, আমি গ্রামের ভোটার গতকাল ভাবছিলাম গ্রামে যামু কিন্তু দূর পাল্লার গাড়ি চলে না কেমনে যামু। দুইদিন আগেই চলে যেতেন তাহলে, এই কথার জবাবে তিনি বলেন, আপা একটানা ২-৩ দিন কাম না করলে বউ বাচ্চা নিয়া চলমু কেমনে বাজারের যেই অবস্থা। এই কারণে আর যাই নাই। আমগো মতন গরিবের ভোট দেওয়ার ইচ্ছাডাও পূরণ হয় না।
ভোট কেন্দ্র থেকে বের হওয়া আনোয়ারা নামের এক মহিলা ভোটারকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে কথা বললে তিনি বলেন, কি আর বলবো ভোগান্তির কথা? ভোট দিতে যে আসবো বাসার সামনের রাস্তায় কেনো গাড়ি নেই যেখানে গেইট থেকে বের হলেই গাড়ি দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায় আজকে রিকশা পেতে ২০ মিনিটের বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। এখন ভোট দিয়েও দাঁড়িয়ে আছি গাড়ির জন্য।
ভিন্ন রকম বক্তব্য দেন রিকশাচালক রফিক, তিনি বলেন আইজকা অটো, সিএনজি, বাস না চলায় আমি সকাল থাইকাই অনেকটি ক্ষেপ(যাত্রী) পাইছি।
পুরুষ ভোটার সিদ্দিক বলেন, প্রতিবছর আমার পরিবারের সকলেই আসে ভোট দিতে। এই বছর বাসা থেকে বের হয় নাই তারা আতঙ্কিত রাস্তাঘাটে কখন কি হইয়া যায়। ট্রেনে আগুনের ঘটনাটা ঘটার পর আমার বাসার সবাই অনেক বেশি আতঙ্কিত হয়ে গেছে। আমাকেও আসতে না বলছিলো আমি শুনি নাই চলে আসছি ভোট দিতে। আসার সময় দেখলাম রাস্তাঘাট যেমন ফাঁকা তেমন ফাঁকা ভোট কেন্দ্র। আসার সময় গাড়ি পাই নাই লোকজন গাড়ি নিয়াও বের হয় নাই পরিবেশ দেখে মনে হচ্ছে আমার পরিবারের মতো সকলেই আতঙ্কিত।
পর্যবেক্ষন করে দেখা যায়, যানবাহন না চলায় যেমন ভোগান্তিতে পরেছেন সাধারণ মানুষ তেমনই রাস্তায় মানুষের চলাচল কম থাকায় ভোগান্তিতে পরেছে ভাড়ায় চালিত রিকশা চালকরা। হরতাল, আতঙ্ক ও প্রশাসনের নির্দেশনা সব মিলিয়ে ভোটের দিনে এক থমথমে নীরবতা বিরাজ করেছে নগরীতে। এস.এ/জেসি


