# জাপা প্রধান জিএম কাদের বিরোধী দলে থাকতে চান
# স্বতন্ত্র এমপিরা সরকারের সিদ্ধান্তে শ্রদ্ধাশীল থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন
# এ বিষয়ে স্পিকারের সঙ্গে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সংসদে বিরোধী দল কারা হবে সে বিষয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কারণ, নির্বাচনে অংশ নেওয়া দলগুলোর মধ্যে আওয়ামী লীগের পর সবচেয়ে শক্তিশালী দলটি ছিল জাতীয় পার্টি। কিন্তু স্বতন্ত্র এমপিদের সংখ্যা জাপার চেয়ে অনেক বেশি। জাপা নেতা জিএম কাদের রংপুর-৩ থেকে এবার নির্বাচিত হয়েছেন। তিনি এবার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন বলেও বুধবার (১০ জানুয়ারি) জানিয়েছেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের চেহারা কেমন হতে পারে জানতে চাইলে জিএম কাদের বলেন, “আমি ঠিক জানি না নিয়মটা কী। কিন্তু আমরা বিরোধী দলে ছিলাম এবং আবারও থাকতে চাই। আমরা জনকল্যাণমুখী দল এবং জনগণের ভালোর জন্যই কাজ করতে চাই।” এদিকে, এদিন ৬২ জন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শপথ নিয়েছেন। সংসদে তাদের ভূমিকা নিয়ে রয়েছে বহুমাত্রিক আলোচনা।
ফরিদপুর-৪ আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী মনে করেন, এ বিষয়ে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে। ফরিদপুর-৩ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য একে আজাদের মুখেও শোনা গেল একই ধরনের কথা। তিনি বলেন, স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা আলোচনা করে সংসদে নিজেদের ভূমিকা নির্ধারণ করতে পারেন।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮টি আসনের মধ্যে ২২২টি তে জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে আওয়ামী লীগ। ৬২টি আসনে জিতেছেন স্বতন্ত্র প্রার্থীরা, যাদের বেশিরভাগই আবার আওয়ামী লীগের নেতা। দল থেকে মনোনয়ন না পেয়ে তারা স্বতন্ত্র হিসেবে ভোটের লড়াইয়ে শামিল হন। কেউ যাতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সংসদে আসতে না পারে, সে বিষয়টি মাথায় রেখে দলীয় নেতাদের স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচন করার সুযোগ দেয় আওয়ামী লীগ।
এদিকে, রাজনীতির মাঠে ক্রমশই দুর্বল হয়ে পড়া জাপা পেয়েছে মাত্র ১১টি আসন। ২৬টি আসনে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা হলেও ভোট টানতে ব্যর্থ হয়েছে দলটি। স্বতন্ত্র সংসদ সদস্যরা সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন। তারা ব্যক্তিগত ইচ্ছার চেয়ে দলের চাওয়াকেই প্রাধান্য দিতে প্রস্তুত। যেহেতু সংসদে স্বতন্ত্র সদস্যদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে এবং তাদের মধ্যে অনেকেই আবার ক্ষমতাসীন দলের নেতা। তাই তাদের সংসদীয় কার্যবিধি সম্পর্কে সিদ্ধান্ত দলের উচ্চপর্যায় থেকেই আসবে বলে জানিয়েছেন এক জ্যেষ্ঠ নেতা।
বরিশাল-৪ আসন থেকে স্বতন্ত্র হিসেবে নির্বাচিত পঙ্কজ নাথ বলেন, স্বতন্ত্র এমপিদের মধ্যে আওয়ামী লীগ নেতারা সংসদীয় দায়িত্বের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনাই অনুসরণ করবে।
নোয়াখালী-৫ থেকে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, এ বিষয়ে স্পিকারের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বিরোধীদলের নেতা এবং উপনেতা (পারিতোষিক ও বিশেষাধিকার) আইন, ২০২১ অনুসারে, ‘‘বিরোধী দলের নেতা’’ অর্থ স্পিকারের বিবেচনা মতে যে সংসদ-সদস্য সংসদে সরকারি দলের বিরোধিতাকারী সর্বোচ্চ সংখ্যক সদস্য লইয়া গঠিত ক্ষেত্রমত দল বা অধিসঙ্ঘের উপনেতা। সাধারণত সংসদে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজনৈতিক দল বিরোধী দলের ভূমিকা পালন করে। তাই অবস্থা দৃষ্টে মনে হচ্ছে একাদশ জাতীয় সংসদের বিরোধী দল জাপাকেই ফের দেখা যাবে পুরোনো ভূমিকায়।
আইন এবং সংবিধান বিশেষজ্ঞরাও বলছেন এতে কোনো আইনি বাধা নেই। এবারের নির্বাচনে দলের স্বল্পসংখ্যক আসন পাওয়ার বিষয়ে জাপা প্রেসিডেন্ট জিএম কাদের বললেন নির্বাচনকালীন নানাবিধ সমস্যার কথা। “বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমাদের নেতাকর্মীদের হয়রানি করা হয়েছে এবং তাদের বুথ গুলো দখল করা হয়েছে।” এই নির্বাচনের মাধ্যমে জাপার জনপ্রিয়তা সঠিকভাবে ফুটে ওঠেনি বলেও মনে করেন তিনি। এস.এ/জেসি


