নতুন বছরে নতুন শ্রেনিতে ভর্তি হওয়ার সাথে সাথে শিক্ষার্থীদের নতুন ব্যাগ জামা জুতা সহ নানা ধরনের শিক্ষা উপকরণের চাহিদা বেড়ে যায়। এ বছরও তার ব্যতিক্রম কিছুই হয়নি। জানুয়ারি আসার সাথে সাথেই চাহিদা বেড়েছে ব্যাগের। আর চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে ব্যাগের দাম ও ছুয়েছে আকাশ। মুলত বছরের মাঝামাঝি সময় এসব স্কুল ব্যাগের দাম থাকে হাতের নাগালের মধ্যেই তবে কেন জানুয়ারি আসলেই বাড়ে ব্যাগের দাম এমন প্রশ্ন অভিভাবক দের।
গত বছরে দেশে নানা ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম লাগামহীন ভাবে বাড়তে থাকার প্রভাব পড়েছে বাচ্চাদের শিক্ষা উপকরণীতেও। বই-খাতা, কাগজ-কলম-পেন্সিলসহ প্রায় সব ধরণের শিক্ষা উপকরণের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক হারে। মানভেদে স্কুলব্যাগের দাম বেড়েছে ২০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত। এতে অভিভাবকদের নিতে হচ্ছে বাড়তি চাপ।
জানুয়ারি আসার সাথে সাথে ব্যাগের চাহিদা বাড়ে আর সেই সাথে এবার ব্যাগের দামও এ বছর স্বাভাবিকের তুলোনায় অনেক বাড়তি। ব্যাগের বাজার ঘুরে দেখা যায় বাজারে দেশীয় ব্যাগ গুলো সর্বনিম্ন ৭০০ টাকার নিচে নেই। দোকানীদের কাছে ব্যাগের দাম হঠাৎ এতো বাড়ার কারণ জানতে চাইলে তারা পাইকারি বাজারের দোহাই দিয়ে দায় সাড়েন।
নতুন বছরে তৃতীয় শ্রেনিতে ভর্তি হওয়া আরাফ তার বাবর সাথে ব্যাগ কিনতে আসে। ব্যাগ পছন্দ হলেও সাধ্যের সাথে দামের কোনো মিল নেই বলে ব্যাগ ছাড়াই দোকান ত্যাগ করেণ তারা বাবা ছেলে। আরাফের বাবা বলেন, আজ ২ দিন ধরে একটা ব্যাগ কিনবো বলে ঘুরছি। কিন্তু দামের সাথে মিলাতে পাড়ছি না। দামের কারণে ব্যাগে হাত দিতেও ২ বার ভাবতে হয়। সারা বছর কাঁচা বাজারের দাম বাড়ার কারণ বুঝলাম যে পচনশীল জিনিস তাই মানুষ বেশি দামেও কিনবেন কিন্তু এখানে ব্যাগের দাম জানুয়ারি আসার সাথে সাথে বাড়ার কারণটা ঠিক কী আমার জানা নেই।
নারায়ণগঞ্জ কালির বাজার সহ ডিআটি ও চাষাড়া মার্কেটের বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখা যায়, মান ভেদে ব্যাগের দাম একেক রকম। দেশীয় ব্যাগ গুলোর মধ্যে নিম্ন মানের ব্যাগের সর্বনিম্ন দাম ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা এর কমে কোনো ব্যাগ বাজারে নেই। ব্যবসায়ীদের মতে সর্বোচ্চ দাম ৩ হাজার থেকে ৪০০০ হাজারের বেশি দামেরও ব্যাগ আছে। সে সব ব্যাগ বাহির থেকে আনা হয় চায়না ব্যাগের ট্যাগ লাগিয়ে সেসব ব্যাগের দাম বাড়িয়ে বিক্রি করা হয় প্রায় দ্বিগুন করে। এছাড়াও বছরের মাঝামাঝি সময় যেসব ব্যাগ পাওয়া যায় ৫০০ থেকে হাজারের মধ্যে সেসব ব্যাগের দাম এখন দেড় থেকে ২ হাজার টাকা করে।
নারায়ণগঞ্জ চাষাড়া সায়েম প্লাজায় ব্যাগ কিনতে আসা সোনালী বলেন, সন্তানের শিক্ষা উপকরণের দাম এতটা অস্বাভাবিক হারে বেড়েছে যে সেটা বড় প্রভাব ফেলছে সংসারের খরচের ওপর। পরিস্থিতি যেন দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। হিমশিম খেতে হচ্ছে রীতিমতো। ব্যগ কিনতে এসেছি। এখানেও ১০০০ থেকে ১৫শ’র কমে ভালো কোনো ব্যাগ পাওয়া যায় না । এভাবে চলতে থাকলে পথে বসতে হবে। এস.এ/জেসি


