Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

টিআই হানিফ-হাবিবুরের নেতৃত্বে সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:৪৪ পিএম

টিআই হানিফ-হাবিবুরের নেতৃত্বে সক্রিয় চাঁদাবাজ চক্র
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জ শহরতলীতে বর্তমানে ইজিবাইক কেন্দ্রিক চাঁদাবাজির হিড়িক পরেছে। শহরের ২নং গেইট পুলিশ বক্সের সামনে থেকে শুরু করে চাষাড়া পুলিশ বক্স ও চাষাড়া কলেজ রোড ডাম্পিং পর্যন্ত ট্রাফিকের বিভিন্ন কর্মকর্তাবৃন্দ অবৈধ ইজিবাইকে চাঁদাবাজির উৎস তৈরি কর মাসিক চাঁদা, সাপ্তাহিক চাঁদা, দৈনন্দিন চাঁদার প্রথা অবহৃত রেখেছেন।

 

ইতিমধ্যে এই ইজিবাইক চাঁদাবাজির মহোৎসবে বার বারই টি-আই হনিফ ও হাবিবুরের নাম সর্বপ্রথমেই চলে আসছে। এই সাম্প্রতিক সময়ে ব্যাটারি চালিত গাড়ির চালকদের আতঙ্কে পরিণত হয়েছে এই দুই ট্রাফিক কর্মকর্তা। তারা এ সেক্টরে চাঁদাবাজির জন্য নিজস্ব গ্যাং তৈরি করে তুলেছেন। প্রত্যহ রুটিন করে তিনি তার গ্যাংদের নিয়ে চাঁদাবাজির উদ্যেশ্যে শহরে বেড়িয়ে পড়েন। চাষাড়াসহ শহরের বিভিন্ন স্থানে তাদের চাঁদাবাজির ক্ষেত্র।

 

তিনি তার গ্যাং সদস্যদের ব্যবহার করে যেসব ব্যাটারিচালিত গাড়ির চালক কোনো প্রশাসনের মান্থলি কিংবা সাংবাদিকদের স্টিকার ব্যবহার করে না তাদের ধরে রেকার বিলের জন্য ডাম্পিং এ নিয়ে যায়। জানা গেছে, তাছাড়া ও এই কথিত হানিফ ও হাবিবুরের নেতৃত্বাধীন এক কথিত ব্যক্তি ওয়াসিমের নামে চাবির রিং ব্যবহার করে চলছে হাজারো ইজিবাইক। যার মূল প্রথমে নিতে হচ্ছে ১২০০ টাকা পরবর্তীতে মাসিক দিতে হচ্ছে রিং প্রতি ১ হাজার টাকা যার অভিযোগ বর্তমানে ইজিবাইক চালকদের মুখে মুখে প্রচারিত হচ্ছে।

 

এই রিং ধারি ইজিবাইক চালক অনেকেই তাদের চাঁদাবাজ গ্যাং সদস্যদের হাতে পরলেই গুনতে হয় আবারো ডাম্পিং এর নামে টাকা। এ নিয়ে অনেক ইজিবাইক চালক অভিযোগ করেছে শহরে ঢুকতে আমরা ওয়াসিম নামের একটি চাবির রিং ব্যবহার করি যা সকলেই টি-আই হানিফ ও হাবিবুরের হিসেবেই পরিচিত। যেহেতু একজন টি-আই এই রিং এর নেতৃত্ব দিয়ে থাকে যার কারণে অনেকেই এই রিংটি ব্যবহার করে থাকে।

 

কিন্তু যখনই আমরা শহরে আসি প্রায় সময় হানিফ ও হাবিবুর তাদের পালিত গ্যাংয়ের সদস্যদের দিয়ে আবারো আমাদের আটক কারিয়ে ডাম্পিংয়ে নিয়ে যায়। যেহেতু আমাদের কার্ড রয়েছে সেহেতু আমাদের গাড়ি প্রতি কোন সময় ৫০০ বা ৬০০ টাকা দিয়ে গাড়ি ছাড়াতে হয়। এভাবেই এই হানিফ ও হাবিবুর সাধারণ চালকদের উপরে নির্যাতন করে যাচ্ছে।

 

এ নিয়ে এ ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সাধারণ মানুষ থেকে সকল চালকগণ। চালকরা অভিযোগ করে আরো বলেন, টি-আই হানিফ ও হাবিবুর চালকদের সাথে যথেষ্ট খারাপ ব্যবহার করে। মাঝে মাঝে মারমুখী হতেও দেখা যায় তাকে। তারা যেসব গাড়ি মান্থলি অথবা স্টিকার করা তাদের না ধরে যেসব গাড়ি মান্থলী বা স্টিকারহীন তাদের আটক করে। তাছাড়া মাঝে মাঝে টাকার দরকার পরলে তাদের স্টিকার লাগানো গুলো ও তারা আটক করে।

 

সরেজমিনে পরিদর্শনে গিয়ে দেখা যায়, পোশাকহীন কিছু লোক ঘুরে ঘুরে গাড়ি ধরছে। তাদের জিজ্ঞেস করলে বলে তারা হানিফ স্যার এর লোক। শুধু হানিফ ও হাবিবুর নয় একাধিক ট্রাফিক পুলিশ এমন গ্যাং নিয়ে গাড়ি আটক করে চাঁদাবাজি করছে। শহরের দুই নম্বর গেইটে হানিফ-হাবিবুর ও তার গ্যাংকে ধরলে হানিফ বলেন, এরা কমিউনিটি পুলিশিংয়ের সদস্য কিন্তু এরা কেউ তাদের সদস্য হিসেবে দাবি করতে রাজি নয়। তখনই তিনি তার গ্যাংদের উদ্দ্যেশ্যে বলেন তোমরা চলে যাও।

 

শুধু এই চাঁদাবাজি নয় প্রশ্ন উঠেছে পুলিশদের এসব সহযোগী গ্যাংদের সদস্যরা আসলে কারা। আরো জানা যায়, কিছু মাদকাশক্ত লোক নিয়ে তারা এই কর্মকান্ড চালিয়ে থাকে। তাছাড়া এদের মধ্যে বহু লোক রয়েছে তারা রাত যখন ঘনিয়ে আসে তারা শহরে ছিনতাই কর্মকান্ডে লিপ্ত হয়ে যায়। নানা ট্রাফিক কর্মকর্তারা বলছে ট্রাফিক সদস্য সংকটের কারণেই মূলত তাদের ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে এখানেও রয়েছে ভিন্ন প্রেক্ষাপট।

 

প্রশাসন কিছু কিছু মানুষদের প্রতিনিয়ত এসব কাজে ব্যবহার করার ফলে তাদের মধ্যে একপ্রকার সাহসের সঞ্চার হয়েছে। এই সাহসকে পুঁজি করে তারা রাজার মতো আচরণ করছে। প্রতি গাড়ি থেকে ১০-২০ টাকা করে হাতিয়ে নিচ্ছে। কেউ দিতে না চাইলে তার গাড়ির চাকা ফুটো করে দেয়া হচ্ছে। এক কথায় তারা যেনো শহরের রাজা আর চালকরা হচ্ছে প্রজা।

 

রাজার হাতে যেমন অস্ত্র থাকে ঠিক তেমনিভাবে এমন রাস্তার রাজাদের হাতে তুলে দেওয়া হয় ঢাকা ফুটো করার অস্ত্র। রাজা যদি প্রজাকে নিষ্পেষিত ও শোষণ না করে তবে কি রাজার মান থাকে? হানিফ ও হাবিবুরের মতো ট্রাফিক কর্মকর্তারা থাকলে অবশ্য সাধারণ মানুষও হয়ে উঠে অসাধারণ অত্যাচারী।

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (এডমিন) করিম জানান, তিনি একটু নারায়ণগঞ্জের বহিরে ছুটিতে রয়েছেন এসে বিষয়গুলো দেখবেন।

 

ট্রাফিক কর্মকর্তা হাবিবুরের কাছ থেকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আপনি আমাকে কেন কল দিয়ে এগুলো জিজ্ঞেস করছেন, আমাকে আর এ বিষয়ে কোন কল করবেন না। যা জানতে চান অফিসে গিয়ে জানবেন। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন