Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

শামীম ওসমানের আশ্বাস শুধুই ধোঁয়াশা

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:২১ পিএম

শামীম ওসমানের আশ্বাস শুধুই ধোঁয়াশা
Swapno

 

আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমান নির্বাচন আসলে এর আগে ও নির্বাচনের পরে নানা আশ্বাসের ফুলঝুঁড়ি মেলে ধরেন। কখনো বলেন মাদক নির্মূল করবো, কখনো চাঁদাবাজ, ভূমিদস্যু, সন্ত্রাসীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় না নিয়ে কঠোর হাতে নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এসব কথা শুধু আশ্বাসের সীমাবদ্ধ থাকে এর বাস্তবায়ন আর কখনোই হয়ে ওঠে না।

 

কেননা যাদের নিয়ে তিনি রাইফেল ক্লাবে মিটিং করেন, বিভিন্ন সভা-সমাবেশ করেন তার অতি ঘনিষ্টজনরাই এসব অপকর্মের সাথে জড়িত। এসব অপকর্মে জড়িতদের দিয়েই তিনি সভা-সমাবেশ ডাকেন, আবার তাদেরকে দিয়েই সেই সভা সমাবেশে লোক জড়ো করেন, তারাই আবার শামীম ওসমানের ঘনিষ্টলোক হিসেবে নানা ছবির ফোয়ারা ছোটান। আর তাই শামীম ওসমানের এসব আশ্বাস শুধুই ধোঁয়াশা বলছে রাজনৈতিক বোদ্ধারা। সদ্য সমাপ্ত দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে শামীম ওসমান আবারও আশ্বাস আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুঁড়ি দিয়েছেন।

 

গতকাল (১৫ জানুয়ারি) সোমবার রাতে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাব ভবনের সিনেমন রেস্টুরেন্টে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে গত ১৫ বছরের মতো পুরনো বুলি আর আশ্বাসই শুধু আওড়িয়েছেন। তার এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তিকে রাজনৈতিক বোদ্ধারা বলছেন চর্বিত চর্বন। তারা বলছেন, গত ১৫ বছরে তার নির্বাচনী এলাকাতেই মাদকের ছড়াছড়ি, জেলার সবচাইতে বেশি মাদকের ডিলার আর কেনা বেচা তার নির্বাচনী এলাকায়।

 

কখনো তার ঘনিষ্ট লোকেদের মাদকসংশ্লিষ্ট ফোন রেকর্ড ফাঁস হয়, আবার কখনো সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজি করতে গিয়ে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তার লালিত পালিত ব্যক্তিরাই একের পর এক অপকর্ম করে সারাদেশে কুখ্যাতি পায়। তাহলে কেন এই মিথ্যা আশ্বাস। মানুষ এই মিথ্যা আশ্বাস আর চায়না তারা চায় তিনি যা বলেছেন তার বাস্তবায়ন দেখতে। তিনি কুকর্ম বন্ধে যে ‘প্রত্যাশা’ নামক সংগঠনের কথা বলছেন তা যেন সবসময় আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ না থাকে। 

 

গতকাল সাংবাদিকদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় শামীম ওসমান বলেছেন, আমি নির্বাচনের আগে আল্লাহর ঘর শপথ করে বলেছি এবার নির্বাচিত হয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন থেকে মাদক মুক্ত করবো। এছাড়া আমি নির্বাচনে প্রচারণায় গিয়ে বলেছি মাদক, সন্ত্রাস টেরোরিজম, ইভটিজিং, ভূমি দস্যু, চাদাঁবাজি বন্ধ করবো। 

 

শামীম ওসমান বলেন, মাদক থেকে কিশোর গ্যাং, কিশ্রো গ্যাং থেকে সন্ত্রাস, সন্ত্রাস থেকে চাদাঁবাজি, চাদাঁবাজি থেকে ভূমিদস্যু তৈরী হয়। আর এই ভাবে সমাজের মাঝে অপরাধীরা ছড়িয়ে পরে। এদের সাথে রাজনীতিবিদরা জরিত রয়েছে। খুঁজলে দেখা যাবে আমার সাথে থাকা লোক জড়িত আছে। আমি শিউর হয়ে বলছি। আবার অনেক সাংবাদিক জড়িত আছে।

 

সমাজের বিভিন্ন শ্রেনীর  পেশার  হোয়াইট কালারের লোক জড়িত আছে। দেখা যাবে এই অপরাধীদের বেকআপ দেয়ার জন্য প্রশাসনের লোক জড়িত আছে। আর এই অপরাধ বন্ধ হবে না কেন? আমি কাউকে কেয়ার করি না। আমি এই সকল অপরাধের বিরুদ্ধে মাঠে নামতে চাচ্ছি। আমাকে নারায়ণগঞ্জের সিনিয়র সাংবাদিকরা কথা দিয়েছেন তারা আমার পাশে থাকবেন। আল্লাহকে খুশি করার জন্য আমি এই কাজ টি করছি।

 

শামীম ওসমান আরও বলেন, মাদক কারবারি, ভুমিদস্যু, চাদাঁবাজি, সন্ত্রাসীদের থেকে কোটি কোটি টাকা খায়। তাদের সাথে আমার লোকও হয়তো রয়েছে। এখন যদি আপনারা চাষাড়া রেললাইন যান দেখবেন আপনাকে মাদক ধরিয়ে দেয়ার জন্য ডাকছে। জিম খানা মাঠের বস্তিতে ঘড়ি নিয়ে প্রবেশ করেন, জান নিয়ে ফিরে আসতে পারবেন না। বাস টার্মিনাল থেকে নদীর পার ঘেঁষা রাস্তা দিয়ে আমাদের মেয়েরা যাক দেখবেন তারা ফিরে আসতে পারবে না। আমরা কোন সমাজে বসবাস করছি।

 

এই শহরে বাস করে আমাদের লাভটা কি? হয়ত এই কাজটি করার জন্য আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে। আমি দলমত নির্বিশেষে নারায়ণগঞ্জ বার, সকল ব্যবসায়ী সংগঠন, সামাজিক সংগঠন আলেম, শিক্ষকসহ সমাজরে ভালো মানুষদের নিয়ে মাঠে নামতে চাই। সকলকে নিয়ে আমরা একটা সংগঠন করতে চাই। আমরা এই সংগঠনের নাম দিয়েছি ‘প্রত্যাশা’।

 

এমপি শামীম ওসমান বলেন, লোকাল সাংবাদিক যারা আছেন আপনারা আপনাদের দায়িত্ব পালন করুন। রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক এবং বার এই তিন সংগঠন যদি এক সাথে মাঠে নামে তাহলে অপরাধীরা তাদের অপরাধ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হবেন। নারায়ণগঞ্জ-৫ এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের প্রতিটি ইউনিয়নের ওয়ার্ডে ওয়ার্ডে আমরা প্রত্যাশা সংগঠনের কমিটি গঠন করবো।

 

মাদকের ক্ষতি প্রসঙ্গ টেনে বলেন, একটা বাচ্চা মাদক খাওয়া মানে ওই পরিবার দোযখে পরিণত হয়ে যাওয়া। এটা দোযখের চেয়ে খারাপ। ঐশি নামের মেয়ে মাদকাসক্ত হওয়ায় পুলিশ অফিসার বাবাকে মেরে ফেলেছে। আমরা ক্লিন নারায়ণগঞ্জ গড়ে তুলতে চাই। আমার বিরুদ্ধে অনেকে যা তা লিখছে কিন্তু আমি কারোর সাথে কোন খারাপ আচরণ করি নাই। এমনকি কারো নামে অভিযোগ করি নাই। কোন সাংবাদিকের নামে মামলা দেই নাই। তাই আমি এবার যে মহৎ উদ্যোগ নিয়ে মাঠে নেমিছি সাংবাদিক ভাইয়েরা এই কাজকে সহযোগিতা করবেন বলে আশাবাদি।

 

সাংসদ শামীম ওসমান এ উদ্যোগের সাথে একমত প্রকাশ করেন সাংবাদিক নেতা রফিকুল ইসলাম জীবন সহ প্রেসক্লাবের সকল নেতৃবৃন্দ। এসং সাংবাদিক হাবিবুর রহমান বাদল অভিযোগ তুলে বলেন, পুলিশ প্রশাসনের অনেকে মাদক ব্যবসায়ীদের ধরে ছেড়ে দেন। কেননা প্রশাসন চাইলে এক মাসের সব কিছু ঠিক করতে পারে। কিন্তু এখানে তাদেরও দায়িত্ব অবহেলার পরিচয় রয়েছে।

 

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি আরিফ আলম দিপু, সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জীবন, সহ-সভাপতি বিল্লাল হোসেন রবিন, যুগ্ম সম্পাদক আহসান সাদিক শাওন, সাবেক সভাপতি হাবিবুর রহমান বাদল, রুমন রেজা, কার্যকরী সদস্য আবু সাউদ মাসুদ, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক আমির হুসেইন স্মিথ, সাবেক সাধারণ সম্পাদক আফজাল হোসেন পন্টি প্রমুখ। 

 

এরআগে শামীম ওসমান সিদ্ধিরগঞ্জে এক অনুষ্ঠানে বলেন,  ‘এক দল গিয়ে প্রিজাইডিং অফিসারকে ধমক দিয়েছে। বলে শামীম ওসমানের ভোট কাস্ট কমাতে হবে। তারা বোঝেনা শামীম ওসমান আলাদা এক চিজ হে! আমি গাড়ীতে একটা ট্রিপ দিলে ভোট ঠিকমতো হত। কিন্তু আমি বলেছি, এবারের নির্বাচন ১০০ ভাগ ফ্রি ও ফেয়ার হবে। আমরা দেখতে চেয়েছি কি হয়। রাতে হোন্ডার বাহিনী এলান করেছে ভোট কেন্দ্রে যাবি যারা, লাশ হয়ে ফিরবি তারা। ওরা ট্রাকে আগুন দিয়েছে,  ট্রেনে আগুন দিয়েছে। মানুষ পুড়িয়ে হত্যা করেছে। সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত করা হয়েছে।’ 

 

তিনি বলেন, আমি জানতাম আমার এলাকায় সর্বচ্চো কত শতাংশ ভোট পড়তে পারে। আমার হিসেব ছিল ৪১-৪২ শতাংশ ভোট পড়বে। কিন্তু ভোট পড়েছে ৩২ শতাংশ। বাকি ৯-১০ শতাংশ ভোট পড়ে নাই। পড়ে নাই, না পড়তে দেওয়া হয় নাই। এটাই এখন প্রশ্ন। একদল বলছে, মোবাইল নিয়ে ভোট দেওয়া নিষেধ। ভোটারদের যেতে দেওয়া হয় নাই। পুরুষ মানুষরা ফোন আশপাশে কোথাও রেখে ভোট দিয়েছিল। কিন্তু মহিলারা যারা ফোন নিয়ে গেছেন তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অন্তত ২টা সেন্টারে ১০০ থেকে ২০০ মহিলা ফেরত গেছে। অথচ তারা ভোট দিলে ৪১ শতাংশ ভোট কাস্ট হত। এটা পরিকল্পনা করে করা হয়েছে।

 

তিনি আরও বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের জন্য যে খরচ হয়, সংসদ নির্বাচনের জন্য আমি তার চেয়েও কম খরচ করেছি। ১০ টি ওয়ার্ডে আমার ছেলের বয়সী যারা কাজ করেছে তাদের মধ্যে কয়েকজন আমাকে টাকা ফেরত দিয়েছেন। বাকিরা চেষ্টা করেছিলেন টাকা দেওয়ার, আমি নিই নাই। ইলেকশন আসলে ‘টাকা দেন টাকা দেন’ এমন এক পরিস্থিতি তৈরী হয়। আমার তেমন কিছুই হয় নি। আমি নিজে পোস্টার-ব্যানারের কাজ করিয়েছি, আমার কর্মীরা খুশি মনে কাজ করেছে। আলহামদুলিল্লাহ, আমার আর চাওয়ার কিছু নেই। এস.এ/জেসি
 

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন