Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

হামলাকারীদের বিচার হয়নি আজও

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:৩৫ পিএম

হামলাকারীদের বিচার হয়নি আজও
Swapno

 

নারায়ণগঞ্জে ২০১৮ সালের হকার ইস্যুতে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমানের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। আর এই ঘটনার আজ  ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও  ঘটনা কেন্দ্রিক মামলার এখনো কোনো বিচারকাজে তেমন কোন অগ্রগতি হয়নি। তৎকালীন ওই সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারা বাংলাদেশে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়। ঘটনার আজ ৬ বছর পেরিয়ে গেলেও নারায়ণগঞ্জে প্রায়ই এ নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শোনা যায়।

 

এছাড়াও যাদের নিয়ে এই সমস্যার উৎপত্তি সেই হকার সমস্যা এখনো বহাল রয়েছে নারায়ণগঞ্জে। নারায়ণগঞ্জে সিটি কর্পোরেশনের মধ্যে হকার উচ্ছেদের উদ্দেশ্যে মেয়র আইভী কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করলে হকার নেতারা নারায়ণগঞ্জের-৪ আসনের এমপিকে বিষয়টি অবগত করেন। ফলে দুপক্ষের মধ্যে মতবিরোধের কারণে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। নারায়ণগঞ্জের হকাররা ক্ষিপ্ত হয়ে সেদিন হামলা করে মেয়র আইভীর উপর। ইটপাটকেল, ভাংচুর, গোলাগোলির মতো সহিংসতার ঘটনায় সেদিন বঙ্গবন্ধু সড়কে আতঙ্ক ছিড়িয়ে পড়ে। তাতে ঘটনার দিন মেয়র আইভী সহ সেদিন ঘটনাস্থলে থাকা অনেক মানুষই আহত হয়।

 

আইভীকে হত্যা চেষ্টার আভিযোগের বিষয়ে ২০১৮ তে শুরু হওয়া এই ঘটনার বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান আইন বিভাগের কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের তথ্যানুসারে,  সেসময় মেয়র আইভীকে হত্যা চেষ্টার আভিযোগ এনে সিটি কর্পোরেশনের আইন বিভাগের দ্বায়িত্বরত কর্মকর্তা জিএম সাত্তার বাদী হয়ে ২২ জানুয়ারি ২০১৮ সালে নারায়ণগঞ্জ সদর থানায় মামলা দায়ের করার জন্য থানায় যায়। কিন্তু তখন থানায় এই মামলাটি নেওয়া হয়নি।

 

তার ঠিক ২ দিন পরে থানায় এটার মামলা না নিয়ে ২৪ জানুয়ারি ২০১৮ সালে এটি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি হিসেবে গ্রহণ করেন। থানায় সাধারণ ডায়রি হিসেবে বিষটি গ্রহন করেও এ নিয়ে আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি নারায়ণগঞ্জ সদর থানা। মর্মান্তিক এই ঘটনার বিরুদ্ধে দৃষ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় ১৬ এপ্রিল ২০১৯ তারিখে নারায়ণগঞ্জ সিটি কপোরেশন পুলিশ সুপার বরাবর একটি অভিযোগ জমা দেন। অভিযোগের মূল বিষয় তারা সদর থানায় অভিযোগ দায়ের করলে থানায় জিডি হিসেবে বিষটি নিলেও এ নিয়ে কোনো প্রকার পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না।

 

পুলিশ সুপার কে বিষয়টি জানানোর পড়েও এ বিষয় তাদেরও কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে দেখা যায় না। সিটি কর্পোরেশনের অভিযোগের তেমন কোনো অগ্রগতি দেখা যায়নি। ফলে ২০১৯ সালেই ১৯ জুন সরাসরি আদালতে একটি অভিযোগ করেণ তারা, যে থানায় আমাদের এই বিষটি মামলা আকারে নেয়া হচ্ছে না। তখন আদালত ও এই অভিযোগ নিয়ে তেমন একটা মাথা ঘামায়নি। তখন আইন বিভাগের কোনো কিছুতেই মামলা না নেওয়ার কারণে সিটি কর্পোরেশন এ বিষয়টি নিয়ে হাইকোর্টে একটা রিপিটেশন দায়ের করে (১০১৫৪/১৯)। হাইকোট তখন কোর্টকে ঘটনার দেড় বছর পর এই বিষয় মামলা হিসেবে গ্রহণ করার জন্য আদেশ দেয়।

 

আদেশ দিলে কোর্ট তখন এই বিষয়টিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ করে। সিআর মামলা ২৮১/২০১৯ তখন নতুন করে কোর্টে এই মামলার নম্বারটা পড়ে। আদালতে এবিষয়টি মামলা হিসেবে নেওয়ার পর থানায় এফআইআর আকারে নেয়। তারপর কোট থানায় নিদের্শ দেয় থানা তখন যে মামলা নম্বরটা করে সেটা হচ্ছে ১৪(১২/১৯)। ঘটনার ৬ বছর পার হয়ে গেলেও এই মামলা এখনো চলমান রয়েছে। এই মামলাটা চলার পরে তদন্তের জন্য তখন মামলাটি পিবিআইর কাছে দেওয়া হয়।

 

২০১৯ সালে মামলা হওয়ার পরে পিবিআই ২৩/১২/২০২২ তারিখে নারায়ণগঞ্জের মূখ্য বিচারক হাকিম আদালতে আওয়ামীলীগ নেতা সহ ১২ জনের বিরুদ্ধে মামলার চার্জশিট আদালতে জমা দেয়। অভিযোগ পত্রে তাদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, যখম, ভাংচুর, ও নাশকতার প্রমাণ পেয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তা। তবে অস্ত্র আইনের ধারা থেকে আসামিদের অব্যহতি দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ পত্রে যাদের নাম এসেছে, তাদের মধ্যে নিয়াজুল ইসলাম খান ও শাহ নিজাম এজহজারভুক্ত আসামি, বাকি আসামিরা এজাহারের বাইরে। মামলার ৯ আসামির বাকি সাত জন কে আদালতে অব্যহতির সুপারিশ করেছে পিবিআই।

 

অভিযোগপত্রে পিবিআই উল্লেখ করেছে, মামলাটি শুরুতে সদর মডেল থানা পুলিশ তদন্ত করে। পরে তারা দায়িত্ব পায়। তদন্তে যুবলীগ নেতা নিয়াজুল ইসলাম খান ও শাহ্ নিজামের হাতে ঘটনার দিন পৃথক দুটি আগ্নেয়াস্ত্র ছিলো বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। ঘটনার দিন ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করেও আসামিদের হাতে পিস্তল দেখা যায়।

 

তবে তদন্ত করতে গিয়ে জানা যায়, নিয়াজুল ইসলাম খানের পিস্তলটির লাইসেন্স রয়েছে। পিস্তলটির প্রকৃত মালিক নিয়াজুল ইসলাম হওয়ায় তাকে অস্ত্র আইনের ১৯ (ক) ধারায় তার বিরদ্ধে অপরাধ প্রমাণ করা যায়নি বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করে পিবিআই। এদিকে শাহ্ নিজামের হাতে থাকা পিস্তলটির বিষয়টি পিবিআই অভিযোগপত্রে বলছে, শাহ্ নিজামের নামে একটি বন্দুকের লাইসেন্স থাকলেও পিস্তলের লাইসেন্স নেই। ভিডিও ফুটেজে নিজামকে বিনা লাইসেন্সে অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র বহন ও পিস্তল জাতীয় আগ্নেয়াস্ত্র নিজ দখলে রাখতে দেখা গেলেও আসামি জামিনে থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে নিয়াজুলের অস্ত্রের লাইসেন্স বাতিল করেন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট।

 

তাদের দেওয়া চার্জশিটে মূল যে ঘটনা সে ঘটনা আসেই নি। এখানে বিভিন্ন প্রত্রিকায় যে অস্ত্র সস্ত্র দেখা গেছে সেগুলোর দেখার পরেও তারা অস্ত্র আইনের ধারা টা বাদ দিয়ে দেয়। আর এই কারনে তারা পিবিআই এর চার্জশিটের বিরুদ্ধে আপত্তি দেই। এই আপত্তি দেওয়ার পরে কোট তখন আপত্তি গ্রহন করে। তারা আপত্তি গ্রহন করে সিআইডি কে কোট পূর্ণ তদন্তের নির্দেশ দেয়। আর এই সিআইডির তদন্তর রির্পোট এখোনো পেন্ডিং আছে। গত ১৪/১২/২০২৩ তারিখে এটা ডেট গেছে রির্পোট দেওয়ার। তবে তারা কোনো রির্পোট দেয়নি।

 

আগামী ২৪/০১/২০২৪ আবার একটা ডেট আছে সিআডির রির্পোটের জন্য মামলাটা পেন্ডিং আছে। তাদের দেওয়া প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এই মামলার অবস্থান বলা যাবে। তারা কোনো রির্পোট না দিলেও আমরা হাজিরা দিচ্ছি। আগামী ২৪ তারিখেও হাজিরা দিব সেদিন তারা রির্পোট দিলে আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিব।

 

২০১৮ সালের ১৫ জানুয়ারি হকাররা চাষাড়া শহিদ মিনারে সমাবেশ ডাকলে সেই সমাবেশে শামীম ওসমান উপস্থিত হয়ে ঘড়ি দেখে তিনি হকার দের উদ্দেশ্যে বলেন, আগামীকাল ১৬ই জানুয়ারি বিকেল সাড়ে ৪ টা থেকে নারায়ণগঞ্জে হকার আবার বসবে। এটা কোনো অনুরোধ নয়, সুপারিশ নয়, এটা শামীম ওসমানের নির্দেশ। আগামীকাল থেকে আবার আমার হকার ভায়েরা নারায়ণগঞ্জে ব্যবসা করবে। কোনো প্রশাসন অথবা কেউ যদি আমার এ হকার ভাইবোনদের গায়ে হাত দেয় সেটি আমি শামীম ওসমান দেখবো।

 

হুঁশিয়ারি দিয়ে শামীম ওসমান বলেন, আমার কোনো হকার ভাইদের বিকল্প ব্যবস্থা না দিয়ে যদি মনে করেন নারায়ণগঞ্জে হকার উঠাইয়া দিবেন, পারবেন। অবশ্যই পারবেন। শামীম ওসমানের মৃত্যুর পর। তার আগে পারবেন না। আমি আমার নেতাকর্মী যারা আছেন ছাত্রলীগ, যুবলীগ, কৃষকলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগকে নির্দেশ দিয়ে দিলাম যদি কোনো মাস্তান, কোনো ব্যক্তি হকারদের সঙ্গে কারাপ ব্যবহার করতে আসে তাদের প্রতিরোধ করবেন। বাকিটা আমি দেখবো।

 

তিনি প্রশাসনের উদ্দেশ্যে এবং নারায়ণগঞ্জের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপদেষ্টা হিসেবে আরো বলেন, আগামীকাল (১৬ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টা থেকে আমি শহিদ মিনারে বসবো। এই হকাররা আমার ভাই, বন্ধু ও পরিবার। লাঠিতো দূরের কথা একজন পুলিশ সদস্য একটা গালিও যেন না দেয় তাদের। এটা শামীম ওসমানের নির্দেশ, কোনো আদেশ না, কোনো হুকুম না, কোনো রকমের খাতির না, জনগণকে নিয়ে রাজনীতি করি জনগণকে নিয়েই থাকবো।

 

শামীম ওসমানের এমন বক্তব্যে সেদিন ক্ষিপ্ত হয়ে মেয়র আইভী পাল্টা জবাবে গণমাধ্যমে বলেন, শামীম ওসমান নির্দেশনা দেওয়ার কে? এটা তার নির্বাচনী এলাকা না। যেহেতু এই এলাকা নারায়ণগঞ্জ ৫ আসনের মধ্যে পড়েছে সেহেতু এই আসনের এমপি একটি প্রস্তাবনা দিয়ে দেশের বাহিরে চলে গিয়েছেন সেখানে অন্য আসনের এমপি এসে হকারদের এমন উস্কানি মূলক কথা বলে ভালো করেন নি। এটার কোনো মানে হয় না।

 

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্যমতে, দু পক্ষের এমন রেশারেশির ফলে সেদিন (১৬ জানুয়ারি) সকাল থেকেই নারায়ণগঞ্জের আবহাওয়া ছিল তীক্ষè। বিকেল ৩ ঘটিকায় মেয়র আইভী নারায়ণগঞ্জের চাষায় অবস্থান করা মাত্রই হকারসহ শামীম ওসমানের সমর্থনরা মেয়র আইভীর উপরে হামলা করে। নাসিক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী ও এমপি শামীম ওসমান সমর্থকদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময়ে গুলি বর্ষণ, বৃষ্টির মতো ইটপাটকেল এবং দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয় শহরের চাষাড়া এলাকা। সংঘর্ষে নাসিক মেয়র আইভীসহ উভয় পক্ষের শতাধিক আহত হয়। আহত হন বেশ কয়েকজন সাংবাদিকও। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন