ফতুল্লায় কম্পিউটারের দোকানে থানা পুলিশের অফিস
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০৯:২৫ পিএম
# পাঁচ দোকানের তিনটিই গোপন কক্ষ যা কর্তাবাবুদের আড্ডা স্থল
পুলিশ আসামী ধরবে, সাধারণ মানুষ পুলিশের কাছে সেবা বা পরামর্শ নিতে আসবে এটা স্বাভাবিক। কিন্তু ফতুল্লা মডেল থানার গেট সংলগ্ন কম্পিউটার এর দোকান গুলোতে চলে থানা পুলিশের আসামী বাণিজ্যসহ নানা ধরনের কর্মকাণ্ড। কম্পিউটার দোকানগুলো বর্তমানে থানা পুলিশের এসআইদের ব্যক্তিগত অফিস রুম। ফতুল্লা থানা এলাকার বিভিন্ন স্থান থেকে আসামী ধরে আনে আর কম্পিউটার এর দোকানগুলোতে বসে কত টাকায় ছাড়া হবে সে বিষয়ে চলে নানান দেনদরবার।
কিন্তু ফতুল্লা থানার মধ্যে এসআই ও এএসআই দের জন্য রয়েছে অফিসার কক্ষ সেখানে ব্যবহার করা হয়েছে সিসি টিভি ক্যামেরা যাতে দায়িত্বে থাকা কর্তা বাবুরা কি করে সে বিষয়ে থানার ভারপ্রপ্ত কর্মকতা (ওসি) সাহেব নজর রাখতে পারে। তাই কর্তাবাবুরা সকলে থানার বাহিরে কম্পিউটার দোকানগুলোতে তৈরি করেছেন নিজেদের ব্যক্তিগত অফিস। ফতুল্লা থানার গেট সংলগ্ন ১/ আঃ কাদির কম্পিউটার এক ২/ শহিদ কম্পিউটার ৩/ সীমা কম্পিউটার ৪/ আঃ কাদির কম্পিউটার দুই ৫/ আশা কম্পিউটার যাদের মধ্যে সকলের রয়েছে একটি গোপন কক্ষ যা দখল নিয়েছে থানা কর্তবাবুরা।
তবে কম্পিউটার এর দোকার দিনে খোলা থাকার কথা থাকলের খোলা থাকে রাত দিন ২৪ ঘন্টা আর রাতের বেলা দিনে থেকে বেশি ভীড় থাকে দোকানগুলোতে। কারণ সেখানে সকল আসামীদের গাড়িতে রেখে পরিবার এর লোকদের সাথে গোপন কক্ষে চলে নানা হিসাব নিকাশ। আর সে সময় হিসাব নিকাশ এর সাথে জড়িয়ে আছে বিশেষ পেশা বেশ কিছু লোকজন।
নাম প্রকাশ করা না শর্তে গত সোমবার পুলিশের আটক করে আনা এক আসামীর বাবা বলেন, পুলিশ থানা না বসে তারা কম্পিটার এর দোকানে বসে তারা আমাদের আসতে বলেছেন। আমরা থানায় যাবো কেনো কম্পিউটার এর দোকানে যাবো? সারারাত এ দোকানগুলো খোলা থাকে। থানার সামনে একটি কম্পিউটার এর দোকান সারারাত কি জন্য খোলা রাখা হয় সেটা সাধারণ মানুষের বুঝতে হবে।
সরেজমিনে দেখা যায়, ফতুল্লা থানা গেট সংলগ্ন মোট পাঁচটি কম্পিউটার এর দোকান রয়েছে। যাদের মধ্যে তিনটি দোকানের ভিতরে গোপন কক্ষ রয়েছে। যেখানে থানা পুলিশের এসআই ও এএসআইদের বসার স্থান যা ফতুল্লার আশে পাশের বিশেষ পেশার লোকেরা পুলিশের সাথে আড্ডা দেন ও আসামীদের বিষয়ে আলোচনা করেন। সে কক্ষ গুলা দোকানের ভিতরে থাই গ্লাস দিয়ে পার্টিশন দিয়ে একটি বা দুইটি চেয়ার এর জায়গা করেছে ও সামনে থাইগ্লাস দিয়ে দরজা বানানো হয়েছে। যা দিনের বেলা থেকে রাতের বেলার বেশি জমজমাট থাকে। যা দেখার মত কেউ নেই। এস.এ/জেসি


