দুর্নীতির বরপুত্র আবেদের সম্পদের খোঁজে দুদক
যুগের চিন্তা রিপোর্ট
প্রকাশ: ২৫ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:৪৫ পিএম
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগে ঠিকাদারির গডফাদার হিসেবে পরিচিত ঠিকাদার আবেদ মনসুরের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে অনুসন্ধান শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুর্নীতির বরপুত্র আবেদ মনসুরের ঠিকাদারির নামে সওজ থেকে হাজার কোটি টাকা আত্মসাত ও বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য তুলে ধরে সম্প্রতি সময়ে একটি অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। বিষয়টি আমলে নিয়ে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। আবেদ মনসুরের দুর্নীতির অনুসন্ধানের বিষয়টি নিশ্চিত করে দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, ইতোমধ্যে একটি অসুন্ধান দল গঠন করা হয়েছে। আবেদ মনসুরের স্থাবর অস্থাবর সম্পদের উৎস, ব্যাংক হিসাবে লেনদেন ও বিভিন্ন অনিয়ম এবং জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। শিগগিরই তাকে কমিশনে তলব করা হবে।
অভিযোগের বিষয়ে দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই অভিযোগে বলা হয়েছে, সওজ বিভাগে ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ দিয়ে প্রায় এক হাজার কোটি টাকার টেন্ডার বাগিয়ে নিয়েছে আবেদ মনসুরের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। মাত্র ৫ বছরের ব্যবধানে হাজার হাজার কোটি টাকার কোটি টাকা উন্নয়ন কাজের নামে আত্মসাৎ করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর নেপথ্যে রয়েছেন ক্ষমতাসীন দলের এক প্রভাবশালী নেতা ও সড়ক বিভাগের উচ্চ পদস্থ কয়েকজন কর্মকর্তা। টেন্ডার ক্যাপাসিটি না থাকলেও গত ছয় বছরে প্রতিষ্ঠানটি এক হাজার ৪৫৩টি পেয়েছে। এ টেন্ডারগুলোর অর্থিক মূল্যমান ৯৮৯ কোটি টাকা। এগুলোর মধ্যে ২০২২-২৩ অর্থবছরেই রয়েছে ৮৪৯ টি প্রকল্প। কাজ না করেই ৪৫০ শতাধিক বিল তুলে নিয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। ভুয়া সনদ ব্যবহারে বিভিন্ন সময়ে তদন্ত হয় আবেদ মনসুর ও তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। এতে দোষি প্রমাণিত হলে, প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স কালো তালিকাভুক্তিরও সুপারিশ করা হয়। তবুও বন্ধ হয়নি তার এসব কার্যকলাপ। অজ্ঞাত কারণে এই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বার বার তদন্ত কমিটি গঠন করা হলেও অদৃশ্য ইশারায় থমকে যায় কার্যক্রম। সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করে এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।
এক সময় সাইনবোর্ড ব্যানারের ব্যবসা করতেন আবেদ মনসুর। সিটি করপোরেশেনের নানা পদক্ষেপে সে ব্যবসায় ভাটা পড়লে ঠিকাদারিতে নামেন আবদে মনসুর। এরপর অল্প সময়ের মধ্যেই সড়ক ও জনপথ বিভাগের গডফাদার বনে যান এই ব্যানার ব্যবসায়ী। এদিকে আওয়ামী লীগ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকা ১০ আসন থেকে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন সংগ্রহ করেছেন আবেদ মনসুর। আওয়ামী লীগের মনোনিত প্রার্থী হতে বিভিন্ন স্তরে কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করেছেন তিনি।
দুদকের অভিযোগে বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, সওজ ও সিপিটিইউর হিসেব অনুযায়ী, সর্বশেষ ২০২২-২৩ অর্থবছরে হিসাবে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের ঠিকাদারি কাজের অর্ধেক পেয়েছে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান। ২০২২-২৩ অর্থবছরে হিসাবে হারটি ৫১ শতাংশ। এরমধ্যে সব চেয়ে বেশি কাজ পেয়েছে আবেদ মনসুর। আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন পেয়েছে ১ হাজার ১৫০টি কাজ। যদিও সড়ক ও জনপথে কাজ করে প্রায় ১ হাজার ১০০ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
জানা গেছে, আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন এ পর্যন্ত শতাধিক কাজের ভুয়া কমপ্লিটেশন সার্টিফিকেট (কাজ সমাপনী সনদ) সার্টিফিকেট তৈরি করেছে। এ মধ্যে বেশ কিছু সার্টিফিকেট এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। গত ১২ জানুয়ারী এগুলো ভুয়া বলে প্রত্যয়ন করেছেন নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ। স্বাক্ষর জাল করে এসব ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ জমা দিয়ে সওজের বড় বড় প্রকল্প হাতিয়ে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। কুড়িগ্রাম ও কক্সবাজার জেলার বড় বড় প্রকল্প হাতিয়ে নিতে ব্যবহার করা হয়েছে সাতক্ষীরা ও বাগেরহাট জেলায় করা কাজের ভুয়া অভিজ্ঞতা সনদ। এ বিষয়ে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয় ১০ মাস আগে। কিন্তু এখনো কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এর কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, এই চক্রের সঙ্গে একজন প্রভাবশালী মন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ওই মন্ত্রী এবং সওজের অন্তত: আটজন নির্বাহী প্রকৌশলীর ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে উঠেছে আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন।
হিসাবনুযায়ী ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি ৫ম বছরে সর্বোচ্চ প্রায় পৌঁনে ৫ কোটি টাকা মূল্যের কাজ করতে পারে। তবে অদৃশ্য ক্ষমতাবলে পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি সড়ক বিভাগের অন্তত ৪৭১ কোটি টাকার কাজে অংশ নিয়েছে। নিয়মভঙ্গের পাশাপাশি জালিয়াতি করে করা অভিজ্ঞতা সনদ ব্যবহার করে কাজ পেলেও অদৃশ্য কারণে নীরব ভূমিকা পালন করছে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়।
পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিট (সিপিটিউ) এর তথ্য অনুযায়ী, আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৪ কোটি ৯ লাখ টাকা, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ৪৩ কোটি ৩২ লাখ টাকা, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ৯৯ কোটি ৫৭ লাখ টাকা এবং ২০২০-২১ অর্থবছরে ৬০ কোটি ২৪ লাখ টাকা মূল্যের একক ও যৌথ কাজ করেছে। ২০২১-২২ অর্থবছরের কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি প্রথম কাজ পায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে। ২০১৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর পাওয়া কাজটি ছিল ঢাকা-আরিচা ন্যাশনাল হাইওয়ে রোড এন-৫ এর ২২ কিলোমিটার পেইন্টিং রোড মিডিয়ান পেইন্ট এবং থিনার সরবরাহ করা। যার টেন্ডার নং- ১৪২৫০৬। এ কাজের মূল্য ছিল ২২ লাখ ৮৪ হাজার টাকা। আর ২০১৮-১৯ অর্থবছরে ঢাকা সড়ক বিভাগের অধীনে জাতীয় মহাসড়ক (এন-৫) এবং বসিলা ব্রিজ অ্যাপ্রোচ রোড গাবতলী ব্রিজ, সাভার বাজার এলাকা এবং ঢাকা-আরিচা নবীনগরে ফিটিংসহ স্ট্রিট লাইট স্থাপনের প্রথম কাজ পায় আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন। এ কাজের মূল্য ছিল ৪ কোটি টাকা। যার টেন্ডার নং- ২৬১৬৩১।
সওজ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হিসেবে সড়ক বিভাগে কাজ পায় আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন। শুরুর বছরে এককভাবে ৯২ লাখ টাকার কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। টেন্ডার ক্যাপাসিটি অনুযায়ী, শুরুর প্রথম পাঁচ বছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টাকার অংকে পূর্বের বছরের দেড় গুণ বড় কাজ পেতে পারে। সেই হিসেবে পরের অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা মূল্যের কাজ পেতে পারে। সেই জায়গায় প্রতিষ্ঠানটি দ্বিতীয় অর্থবছরেই এককভাবে প্রায় ২১ কোটি টাকা মূল্যের কাজ করেছে।
নথি পর্যালোচনায় জানা যায়, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সহকারী সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন ২০২২ সালের ১৮ই অক্টোবর সড়ক ও জনপথ বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীকে একটি চিঠি দেন। চিঠিতে অভিযুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ তদন্ত করে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশনা দেওয়া হয়। এর সাতদিন পর সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (প্রকিউরমেন্ট সার্কেল) মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ দেশের ১১টি সওজ জোন, তিনটি উইং, সড়ক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশলীকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেয়ার নির্দেশনা দেন। তবে সেই চিঠিতে আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশনের পুরো নাম না লিখে লিখা হয়- ‘মনুসর কনস্ট্রাকশন’। তবে ওই প্রতিবেদন আলোর মুখ দেখেনি।
এ বিষয়ে সহকারী সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন বলেন, উর্দ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই আমি অভিযোগ তদন্তের জন্য চিঠি দিয়েছিলাম। পরবর্তীতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশেই সেটি আমি এ সংক্রান্ত কাজ থেকে বিরত থাকি। পরে অন্য শাখা এ নিয়ে তদন্ত করে।
গত ২১ ডিসেম্বর সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের যুগ্মসচিব এবং তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক মাহবুবের রহমান স্বাক্ষরিত একটি আদেশ জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ‘আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন দরপত্র দাখিলের সময় যেসব কমপ্লেশন সন্নিবেশ করেছে সেগুলো ভুয়া বলে অভিযোগকারীরা জানিয়েছেন। প্রমাণক হিসেবে কাগজ-পত্রও দাখিল করা হয়েছে। এমতাবস্থায় বিষয়টি তিনদিনের মধ্যে যাচাই করে আগামি তিন কার্যদিবসের মধ্যে নিুস্বাক্ষরকারি বরারব প্রতিবেদন পাঠাতে নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’ এরপর আর অগ্রগতি জানা যায়নি।
২০২২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বাগেরহাট সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকশৌলী ফরিদ উদ্দিন ৫৬টি ভুয়া কমপ্লিটেশন সার্টিফিকেট যুক্ত করে সড়ক বিভাগে একটি প্রতিবেদন পাঠান। এতে বলা হয়, ‘ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন কর্তৃক দাখিলকৃত কমপ্লেকশন সার্টিফিকেটসমূহ সড়ক বিভাগ থেকে ইস্যু করা হয়নি। ভুয়া কমপ্লিটেশন সার্টিফিকেট দাখিল করে প্রতিষ্ঠানটি ফ্রডুলেন্স প্র্যাকটিস (প্রতারণামূলক অনুশীলন) এর সমান শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে পিপিআর-২০০৮ এর বিধি ও দরপত্রের শর্তানুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যেতে পারে।’ কিন্তু প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়নি।
গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর নওগাঁ মহাদেবপুরের জনৈক নুরুল ইসলাম সিদ্দিক সড়ক পরিবহন সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দেন। এতে উল্লেখ করা হয়, আবেদ মনসুর কনষ্ট্রাকশন কয়েক বছর ধরে ভুয়া সনদসহ অসত্য তথ্য দিয়ে সড়ক বিভাগের কাজ হাতিয়ে নিচ্ছে। সড়ক ও জনপথ বিভাগের অসাধু প্রকৌশলীদের যোগসাজসে ভুয়া বিল তৈরি করে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। জোনের বিশেষ কর্মকর্তার ভয়ে মাঠ পর্যায়ের অনেক কর্মকর্তা এ অন্যায় সহ্য করছেন।
ওই অভিযোগে বলা হয়, চলমান কাজের ভ্যালু বাদ দিলে টেন্ডার পাওয়ার কোনো ক্যাপাসিটি থাকে না আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশনের। ইতোমধ্যে ভুয়া সনদ দিয়ে ৫৬ টি কাজে টেন্ডার দাখিল করেছেন বলে বরগুনা সড়ক বিভাগের তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া ঢাকা, নড়াইল, সাতক্ষীরাসহ অনেকে বিভাগে শত শত ভুয়া কার্যসনদ দিয়ে টেন্ডার দাখিল করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। টেন্ডার ক্যাপাসিটি না থাকলেও প্রতিষ্ঠানটিকে অবৈধ লেন-দেনের মাধ্যমে কার্যাদেশ দেওয়া হচ্ছে।
ওই বছরের ৩ সেপ্টেম্বর বরিশালের অলেকান্দা বটতলা এলাকার কাশেম আলী হাওলাদার সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়েরর সচিবের কাছে একই ধরনের অভিযোগ দায়ের করেন। ওই অভিযোগে আবেদ মনসুর কনষ্ট্রাকশনের বিরুদ্ধে ৬৮ টি ভুয়া সার্টিফিকেট দিয়ে টেন্ডারে অংশ নেওয়া ও কাজ পাওয়া সংক্রান্ত তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন সড়ক ও জনপথ বিভাগে কার্যক্রম শুরু করে ২০১৭-১৮ সাল থেকে। শুরুর বছরে এককভাবে ৯২ লাখ টাকার কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। টেন্ডার ক্যাপাসিটি অনুযায়ী, শুরুর প্রথম পাঁচ বছরে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান টাকার অংকে আগের বছরের দেড় গুণ বড় কাজ পেতে পারে। সেই হিসেবে পরের অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটি সর্বোচ্চ এক কোটি ৩৮ লাখ টাকা মূল্যের কাজ পেতে পারে। কিন্তু অবেদ মনসুর দ্বিতীয় অর্থবছরেই এককভাবে প্রায় ২১ কোটি টাকা মূল্যের কাজ করে। অদৃশ্য ক্ষমতাবলে পাঁচ বছরে প্রতিষ্ঠানটি সড়ক বিভাগের অন্তত ৪৭১ কোটি টাকার কাজে অংশ নিয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, ৫০ লাখের নিচের টেন্ডারের ক্ষেত্রে লিমিটেড টেন্ডার মেথড (এলটিএম) অনুসরণ করার কথা। কিন্তু তা না করে ওপেন টেন্ডার মেথডের (ওটিএম) মাধ্যমে আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশনের নামে ওয়ার্ক অর্ডার দেওয়া হয়।
আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশনের সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়টি গত ফেব্রুয়ারিতে কুড়িগ্রাম সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকে জানান সাতক্ষীরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ। এ সংক্রান্ত চিঠিতে তিনি আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশনের করা ৩৯টি ভুয়া কমপ্লিটেশন সার্টিফিকেট যুক্ত করে দেন। এছাড়া পৃথক চিঠিতে আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশনের ১০টি ভুয়া কম্পলিশন সার্টিফিকেট যুক্ত করে কক্সবাজার সওজ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলীকেও বিষয়টি জানান নির্বাহী প্রকৌশলী।
এ বিষয়ে আবেদ মনসুরের মোবাইলে বার বার যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তবে সড়ক বিভাগ ও মহাসড়ক বিভাগের সচিব এ বি এম আমিন উল্লাহ নূরী বলেন, আবেদ মনসুর কনস্ট্রাকশন এবং সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীদের বিরুদ্ধে একটি কমিটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে। অধিকতর নিশ্চিত হতে আরো একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। দ্বিতীয় কমিটির তদন্তকাজ শেষের দিকে। তবে আমরা আরও যাচাইবাছাই করছি। এটা সরা দেশের অনেক বড় কাজ। তাই একটু সময় লাগেব। কমিটি অভিযোগের সত্যতা পেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবশ্যই যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


