মেলা শুরুর সরকারী ছুটির দিনগুলোতে জমে ওঠতে শুরু করেছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮ তম আসর। কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছে মেলা। তবে হাকডাক করেও বিক্রি বাড়াতে পারছেনা ব্যবসায়ীরা। মেলার অভ্যন্তরে খাবার হোটেলের খাবারে রাখা হচ্ছে অতিমূল্য। আর নিম্নমানের খাবারে সয়লাব মেলায়। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, মেলার অভ্যন্তরীণ সার্বিক নিরাপত্তা থাকার পরও ৬ষ্ঠ দিনেও চলছে স্টল নির্মাণের কাজ।
তবে শুক্রবার বিকাল ও শনিবার সকাল থেকেই মেলায় আগমন ঘটেছে বিপুল পরিমাণ দর্শনার্থীদের। এদের অনেকেই শুধু ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কিনছেন কম। তবে স্বজন নিয়ে ঘুরতে আসা লোকজন খাবার হোটেলে ভীর করছেন। খুঁজছেন মানসম্মত খাবার। তবে দাম বেশি রাখা আর নিন্মমান নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন কেউ কেউ।
মেলায় ঘুরতে আসা গোয়ালপাড়ার বাসিন্দা ফারুক মিয়া বলেন, এবার চাহিদামতো পন্য নাই মেলায়। খাবারে মান ভালো না। তাই প্রথম দিকে যারা আসছেন কেবল ঘুরে দেখে চলে যাচ্ছেন। বাধ্য হয়ে খেতে গিয়ে মুল্য নিয়ে ঝগড়া করতে হচ্ছে।
মেলার অভ্যন্তরে রয়েছে হাজী বিরিয়ানি নামে নানা প্রতিষ্ঠান। খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এসব বিরিয়ানীর খাবার স্টলগুলোর সাইনবোর্ডে স্ব স্ব নাম ব্যবহার হলেও ভেতরের পরিচালনাকারীদের কেহই ওই প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত নয়। শুধুমাত্র হাত বদল করে এসব স্টল চালাচ্ছে সিন্ডিকেটের লোকজন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্টল কর্মকর্তা বলেন, ২০ ফুট প্রস্থ ৩০ ফুট দৈর্ঘ্যের স্টল বরাদ্দ পেতে ইপিবিতে মুল মালিকের খরচ হয়েছে মাত্র ৯ লাখ টাকা।
কিন্তু ওই স্টলটি আমরা চালাচ্ছি ১৪ লাখ টাকার চুক্তিতে। যেখানে মূল মালিক ব্যবসা না চালিয়ে হাত বদল করে ৫ লাখ মুনাফা নিয়ে গেছে। এ মুনাফা তুলতেই আমরা ভালো মানের খাবার পরিবেশন করতে পারছি না। কারন, মসলার দাম বেশি। সব পন্যের দাম বেশি। আবার কর্মচারীতো আছেই।
এতো খরচ ব্যয় করে স্বাভাবিকভাবেই দাম বেশি রাখতে হচ্ছে। এছাড়াও মেলায় দেখা গেছে দেশী বিদেশী প্রয়োজনীয় পোষাক, জুতা, আসবাব, সাজসজ্জা ও প্রসেধনি জাতীয় পন্যের সমাহার। এদিকে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা সরকারি ছুটির দিনের আশা করলেও লোকসানের আশঙ্কা করছেন অনেকে।
এসব বিষয়ে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা অঞ্চলে দায়িত্বরত নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, মেলায় খাদ্য বিষয়ক ভেজাল প্রতিরোধে ভোক্তা অধিকারসহ একাধিক টীম রয়েছে। তারা তদারকি করছেন। আমাদের লোকজনও কাজ করছেন। তবে লোকবল কম। দাম নিয়ে ভোক্তারা অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে।
সূত্রমতে, এবারের মেলায় দেশ-বিদেশের মোট ৩৩০টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন অংশ নিয়েছে । যার মধ্যে রয়েছে ১৮টি বিদেশি স্টল । এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাঁদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রির স্টল সাজাচ্ছেন। আশা করা হচ্ছে এ মেলায় এবার ৫শ কোটি টাকার রপ্তানি আদেশ পাবেন জানিয়েছেন ইপিবি।


