# শামীম ওসমানের মন্তব্যে অপরাধীদের আস্কারা
দুর্নীতির অপরাধে সরকারি কিংবা বেসরকারি যখনি কেউ দুদকের জালে গ্রেপ্তার হন তখনি তা তা নিয়ে সারাদেশে হৈ চৈ শুরু হয়ে যায়। দেশের আর্থিক খাতে ব্যক্তি পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য জালিয়াতির ঘটনা ঘটানো এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার তথা পিকে হালদারকে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় আর্থিক খাত থেকে প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকা লোপাটের দায়ে ২২ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।তারমত নারায়ণগঞ্জে একাধিক জনপ্রতিনিধিও দুদকের মালায় অভিযুক্ত হয়ে রয়েছে।
তার মাঝে নাসিক ৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মতিউর রহমান মতি অবৈধভাবে সম্পদের মালিক দুদকের দেয়া মামলায় চার্জশীট ভুক্ত আসামি। যদিও তিনি ওই মামলায় জামিনে রয়েছেন। তবে এবার নারায়ণগঞ্জে ৪২ লাখ টাকা নিয়ে জেলা প্রশাসকরে সার্ভেয়ার কাউসার গ্রেপ্তার হওয়ার পর এই ঘটনা নিয়ে ব্যাপকভাবে না হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে। এই ঘটনার সাথে নারায়ণগঞ্জের প্রভাবশালী মহলের জড়িত থাকার নাম উঠে এসেছে। যদিও তারা ধরা ছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন। অভিযোগ রয়েছে তারা পিছনে ভিলেনের মত থেকে কাজ করে যান। যা অনেক সময় ছবির ভিলেনদের করতে দেখা যায়।
এদিকে ঘুষ কেলেংকারীর ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কার্টুনে ভর্তি ৪২ লাখ টাকা উদ্ধারের পর সার্ভেয়ার কাউসার গ্রেপ্তার, এডিসি রাজস্ব সালাউদ্দিন মঞ্জু ওএসডি এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা খাদিজা বেগমকে সরানো নিয়ে আলোচনার পারদ যেখানে নিম্নমুখী তখন নতুন তথ্য দিয়ে আবারও এই ইস্যুকে আলোচনায় আনলেন সাংসদ শামীম ওসমান। ৪২ লাখ টাকার কাণ্ডে দুদকের দেয়া মামলার সাথে দ্বিমত পোষন করে এই ঘটনাকে নতুন মোড় দেয়ানোর জন্য মন্তব্য করেছেন সাংসদ শামীম ওসমান। তাছাড়া এই জনপ্রতিনিধির মন্তের পর অপরাধীদের আস্কারা দেয়া হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেছেন সচেতন মহল।
জানা যায়, ২৭ জানুয়ারি শনিবার বিকেলে ওসমানী পৌর স্টেডিয়ামে এমপি শামীম ওসমান বলেন, মাথা নোয়াবার মানুষ আমি না। কথা বলতে চাই নাই আমি। এমন কোন কাজ করি না যে, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবো। অনেকেই অনেক কিছু করেন, আমরা সব দেখি। টাকা ধরা পড়ে যাত্রাবাড়িতে আর তা উদ্ধার দেখান ফতুল্লাতে। আমাদের কাছে অনেক খবরই আছে। তবে তিনি কিসের টাকার কথা বলেছেন তা উল্লেখ্য না করলেও কারো বুঝতে বাকি নেই।
কেননা সদ্য ৪২ লাখ টাকার ঘটনা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ছাড়িয়ে ঢাকাসহ সারাদেশে তা নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে। সেই সাথে সচেতন মহল মনে করেন শামীম ওসমান যেই টাকার কথা নিয়ে মন্তব্য করেছেন তা দুদকের ঘটনার টাকা। সচেতন নাগরিক মহল প্রশ্ন তুলেন শামীম ওসমান একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে এই ধরনের মন্তব্য করে অপরাধীদের আস্কারা দিচ্ছে।
অপরদিকে দুদকের দেয়া মামলার এজহার সুত্রে জানা যায়, গত ১০ জানুয়ারি সন্ধ্যার পরে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে থেকে সিদ্ধিরগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের প্রাক্তন আউটসোর্সিং কর্মচারী জাহিদুল ইসলাম সুমনকে (২৮) একটি কার্টনসহ নিরাপত্তা কর্মীদের হাতে আটক হন। জেলা প্রশাসকের নির্দেশে ওই কার্টন খুলে টাকা গুনে ৪২ লাখ টাকা পাওয়া যায়। জব্দ করা ৪২ লাখ টাকার সাথে দুর্নীতির সম্পৃক্ততা আছে ধারণা করে গত ১৪ জানুয়ারি জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক দুর্নীতি দমন কমিশনে চিঠি দেন।
পরে ১৬ জানুয়ারি দুদক তাদের জেলা কার্যালয়ে মানি লন্ডারিং, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন ও দন্ডবিধির কয়েকটি ধারায় দুদকের জেলা সমন্বিত কার্যালয়ের সহাকরি পরিচালক ওমর ফারুক বাদী হয়ে মামলা করেন। যার মামলা নং ২ (১)২৪। মামলাটি তদন্ত করছেন দুদকের উপপরিচালক মো. ইসমাইল হোসেন। ওই মামলায় জেলা প্রশাসকের সাভেয়ার কাওসার আহমেদকে গ্রেপ্তার করে জাহিদুল ইসলাম সুমন ও আসামি করা হয়। কিন্তু এই ঘটনায় ব্যবসায়ী এস রানার নাম উঠে আসলেও তাদেরকে আসামী করা হয় নাই।
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর ফ্লাইওভার প্রকল্পে একোয়ার করা জায়গায় অনিয়ম করে বেশি বিল তৈরী করে টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে রানার বিরুদ্ধে। জেলা প্রশাসনের সরকারি কিছু অসাধু কর্মচারির সাথে যোগসাজস করে তিনি এই অপকর্ম করেছে বলে অভিযোগ উঠে। তাছাড়া এই রানার উপর জেলার প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকের আশীর্বাদ রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। তাদের আশীর্বাদে রানা হেল্পার থেকে শত কোটি টাকার মালিক বনে যান। নারায়ণগঞ্জে বলাবলি হচ্ছে যারাই প্রভাবশালীদের আশীর্বাদ পান তারাই কোটিপতি বনে যান।
একোয়ার হওয়া ভূমি মালিকরা বলছে, এই ঘটনার সাথে রানাকে কেন ছাড় দেয়া হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে জোর করে জায়গা দখলের অভিযোগ উঠেছে। যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ইয়াদ আলী নামের এক ব্যত্তির ৬২ শতাংশ জায়গা জাল দলিলের মাধ্যমে দখল করে নিয়েছে এই ভুমি দস্যু রানা। এছাড়া একোয়ার হওয়া ভুমিক মালিকদের তাদের মাধ্যমে বিল উত্তোলন করতে বাধ্য করে তাদের থেকে কমিশন নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
সেই সাথে নাল জায়গা বাণিজ্যিক দেখিয়ে বেশি বিল তৈরী করার মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। তার সাথে যে ভূমি অফিস, এসিল্যান্ড অফিস সহ জেলা প্রশাসকের যারা জড়িত রয়েছে তাদের কেন আইনের আওতায় আনা হচ্ছে না তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন সচেতন মহল। ৪২ লাখ টাকার ঘটনায় যারা জড়িত রয়েছেন তাদেরকে গ্রেপ্তারের দাবী জানান ভুমি মালিকরা। কেননা তাদের কারণে ভুমি মালিকরা নিজেদের অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়েছে বলে অভিযোগ উঠে।
এই বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহমুদুল হক গণমাধ্যমকে জানান, ‘প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের সময় ওই কার্টনভর্তি টাকা অন্য এক ব্যবসায়ীর বলে দাবি করে জাহিদুল ইসলাম সুমন। পরে ওই ব্যবসায়ীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এই টাকা তার নয়। সার্ভেয়ার কাওসার ওই ব্যবসায়ীকে অনুরোধ করেছিলেন ওই টাকা যেন তিনি নিজের বলে দাবি করেন। সামগ্রিক বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হলে আমি দুদকে চিঠি দেই। দুদকও তড়িৎ ব্যবস্থা নিয়েছে।
সচেতন মহল বলছে সাংসদ শামীম ওসমানের মন্তব্যের পর এই ঘটনা নিয়ে আবার হৈ চৈ শুরু হয়েছে। সপ্তাহ খানিক পরে কেন তিনি এই ঘটনা নিয়ে মন্তব্য করলেন। তাও আবার এই টাকা নাকি যাত্রাবাড়ি থেকে উদ্ধার হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন। যেখানে স্পষ্টভাবে দুদক সহ জেলা প্রশাসক বর্ণনা দিয়েছে ৪২ লাখ টাকা কিভাবে উদ্ধার করা হয়েছে। তিনি প্রশাসনকে কেন হুঁশিয়ারি দিলেন। কাকে উদ্ধার করার জন্য তার এই হুঙ্কার। তা নিয়ে এখন সারা শহর জুড়ে আলোচনা বইছে।
তবে সবশেষে দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে সচেতন মহল পিকে হালধারের মতই শাস্তির দাবী জানান। সেই সাথে এই সিন্ডিকেট চক্রের সাথে জড়িত তাদের আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান ভুমি মালিকরা। তবে তারা আদৌ আইনের আওতায় আসবে কি না তা নিয়ে এখন ধোঁয়াশা তৈরী হয়েছে। এস.এ/জেসি


