নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী ওসমান পরিবারে গৃহদাহ শুরু হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ওসমান পরিবারের তিন পুরুষ টানা রাজত্ব করে আসছেন। চতুর্থ প্রজন্মও রাজনীতির ময়দানে পা রাখতে চলেছেন বলে চাউর রয়েছে। এমতাবস্থায় হঠাৎ করেই ওসমান পরিবারে কোন্দলের সূত্রপাত অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
এ নিয়ে গত কয়েকদিন যাবৎ শহরে নানামুখি আলোচনা ও সমালোচনাসহ নানা বিতর্কের জন্ম দিচ্ছে। বিতর্কের উৎস নমপার্ক। লিংক রোডে খান সাহেব ওসমান আলী ক্রিকেট স্টেডিয়মের পূর্বপাশে এটির অবস্থান। জাতীয় পার্টির প্রয়াত সাংসদ একেএম নাসিম ওসমানের স্মৃতিকে ধরে রাখার জন্য তার নামে এ পার্কটি স্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, এই পার্কে ওসমান পরিবার বিশেষভাবে এমপি শামীম ওসমানের আশীর্বাদপুষ্ট আওয়ামী লীগের এক নেতার পৃষ্ঠপোষকতায় লাকি কুপনের আড়ালে অনৈতিক কাজ চলছে।
ওসমান পরিবারের চতুর্থ প্রজন্ম আজমেরী ওসমান প্রয়াত সাংসদ নাসিম ওসমানের পুত্র। তার কানে এ খবর পৌঁছামাত্র তিনি তার কয়েকজন অনুসারি নিয়ে নমপার্কে গিয়ে লাকী কুপন বিক্রি বন্ধ করতে অনুরোধ জানিয়ে আসেন। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তার কথায় কর্ণপাত না করে এমপি শামীম ওসমানকে অবহিত করেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
সূত্র আরো জানায়, এমপি শামীম ওসমানের নির্দেশে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আজমেরী ওসমানের ৬ অনুসারিকে গ্রেফতার করে। উপরন্তু লাকি কুপন বিক্রিও সমানে চলতে থাকে। এতে আজমেরী এবং তার অনুসারিরা ফুঁসে ওঠে। ভাতিজার ফুঁসে ওঠার খবরটি তার জেঠা নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের এমপি সেলিম ওসমানের কানে গেলে তার হস্তক্ষেপে তৎক্ষণাৎ নমপার্কে লাকি কুপন বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়।
নমপার্ককে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্ক ওসমান পরিবারে গৃহবিবাদের সূত্রপাত হয়। বিবাদের একদিকে এমপি শামীম ওসমান অন্যদিকে এমপি সেলিম ওসমান ও আজমেরী ওসমান অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে। পারিবারিক এ বিবাদের শেষ কোথায়, তা এ মুহূর্তেই বলা মুশকিল।
নারায়ণগঞ্জের বোদ্ধামহল বিষয়টিকে লুফে নিয়ে বলছেন, এখানে রাজনীতির অনেক প্যাঁচ জড়িত। এটাকে শুধুমাত্র পারিবারিক, কলহ হিসেবে দেখা যাবে না। ওসমান পরিবারের ভবিষ্যৎ রাজনীতি কোনদিকে গড়াবে, কারহাতে তুলে দেয়া হবে নেতৃত্বের চাবিকাঠি। এসবের যাবতীয় জটিল হিসেব-নিকেষ এই বিবাদের সাথে জড়িত। অতএব বলা যায়, যতোই দিন যাবে, ওসমান পরিবারের গৃহবিবাদ ততোই বাড়তে থাকবে। এস.এ/জেসি


