প্রয়াত সাবেক সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান ছিলেন সদর-বন্দর এলাকার মানুষের প্রাণের নেতা। তাই যতবার তিনি নির্বাচন করেছেন মানুষ তার ডাকে সাড়া দিয়েছেন। অথচ সময় কত নির্মম। তার দুইভাই এমপি থাকা অবস্থাতেই তার নামে করা লিংক রোডের নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল অ্যামিউজমেন্ট পার্কে (নম পার্ক) টিকেট কাউন্টার বসিয়ে জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে লাকি কুপন বিক্রি হচ্ছে এবং অশ্লীল কর্মকাণ্ডের খবরটি বেরিয়ে আসে।
প্রয়াত সাংসদের ছেলে আজমেরী ওসমান বাবার নামে করা এহেন কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে তা বন্ধ করতে বললে উল্টো তার কর্মীদের উপরই গ্রেফতারের খড়গ নেমে আসে। পার্কের তত্ত্বাবধানকারী মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজাম শামীম ওসমানেরই আস্থাভাজন ও ঘনিষ্ঠভাজন হিসেবে পরিচিত। আজমেরী ওসমান পার্কে ওসব কর্মকাণ্ডের নিষেধাজ্ঞা দেয়ার পর তিনিই শামীম ওসমানকে ফোনে জানান। কিন্তু এই ঘটনার পর পার্কের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে কথা হচ্ছে।
সূত্র বলছে, নমপার্ক শুধু এই ঘটনায় নয়, অপরাধীদের নিরাপদ আখড়া হিসেবেই গড়ে উঠেছে উদ্বোধনের পর থেকে। এখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ড এতোটাই সহজলভ্য দিনে দুপুরে স্কুল ড্রেস পড়ে অপ্রাপ্ত বয়স্করাও ডেটিংয়ের জন্য এই পার্কে ১০০ টাকা টিকেটে প্রবেশ করছে, বাধা তো নয়ই উল্টো যেন নিরাপত্তার ব্যবস্থা। আগে পার্কে প্রবেশ মূল্য ছিল মাত্র ৫০ টাকা।
নম পার্কে কুকর্মের কথা ফাঁস হওয়ায় অনেকে আবার জেলা পুলিশের তালিকাভুক্ত জুয়ার আসর থেকে উঠে আসা কুখ্যাত জুয়ারী বড় শাহজাহানের কথাও বলছেন। বড় শাহজাহান শহরের বিভিন্নস্থানে জুয়া ও মেলা বসিয়ে এমনকি ফ্ল্যাট বাসা ভাড়া নিয়েও জুয়ার ব্যবস্থা করতো। সূত্র জানিয়েছে, বড় শাহজাহানের জুয়ার আসরের চাইতে কম ছিল না নম পার্কের জুয়া। তবে এখানে ধনাঢ্য ব্যবসায়ীদের জুয়ার আখড়া ছিল।
সূত্র বলছে, ইয়ার্ন মার্চেন্ট এসোসিয়েশন ভবনে কয়েকবছর আগে জুয়ার আড্ডায় অভিযান পরিচালনা করে প্রশাসন। সেই জুয়ার আড্ডার অনেক বড় অংশ জুয়ায় বিভোর হতেন নম পার্কে। শাহজাহানের জুয়ার আড্ডা বাস টার্মিনাল থেকে স্থানান্তরিত হয়ে ইয়ার্ন মার্চেন্ট ভবনে গেলে সেখানে অভিযান চলার পর নম পার্কেও বসে একই রকম জুয়া।
সুত্র জানিয়েছে, অনেক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী, ভূমিদস্যূ, চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের নিয়মিত চলাচল ছিল নমপার্কে। এক চেয়ারম্যানের সখ্যতায় মাদক ব্যবসায়ীদের একটা বড় অংশও নানা ধরণের দেন দরবার, বিচার সালিশ, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের দেনদরবার, টাকা-পয়সা ভাগ বাটোয়ারা, এলাকাভিত্তিক সন্ত্রাসীদের নানা আখড়ার সমস্যা নিয়ে সমাধানের জন্য হাজির হতেন নমপার্কে। তাদের এই আসা যাওয়ার মধ্যেই বিনোদনের জন্য জুয়া, অশ্লীল কর্মকাণ্ডসহ নানা ধরণের পানীয়ের ব্যবস্থা থাকতো পার্কে।
অনেকে বলছেন, মূলত বেহাতে তত্ত্বাবধানের জন্যই প্রয়াত নাসিম ওসমানের নামে করা পার্কের এই বদনাম জুটেছে। সূত্র বলছে, এখান থেকে ঝুটব্যবসা, জমিদখল, কিশোরগ্যাং লিডারদের নিয়ন্ত্রণ, পাওনা টাকা উদ্ধারসহ সব ধরণের কার্যক্রমের লেনদের সেন্ট্রাল ঘাঁটিতে পরিণত হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কুখ্যাত আরেক জুয়ারী আলী হায়দার ওরফে পিজা শামীমকেও এই পার্কে তার কুকর্মের জন্য পেটান নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। তখন এই বিষয়টি পুরো শহরে চাঞ্চল্য তৈরি করেছিলো।
সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ জেলা জুড়ে রাজনৈতিক মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের মাঝে আলোচনা শুরু হয়েছে শাহ নিজামের নম পার্কের ভিতরে রেস্টুরেন্ট এর ৩ তলার অফিস ও পার্কের পিছনের তার গোপন অফিস নিয়ে, যেখানে তার পারমিশন ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে পারে না। এবং সে কক্ষ তার বন্ধু ও বিভিন্ন ব্যবসায়দের নিয়ে ঘন্টার পর ঘন্টা সময় কাটান ও আড্ডা দেন শাহ নিজাম। তবে বেশির ভাগ লোকের কাছে দেখা মিলে একটি করে ব্যাগ নিয়ে প্রবেশ করতে।
তাই নিয়ে সাধারণ নেতাকর্মী থেকে শুরু করে চলছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা। তবে বর্তমানে নম পার্ক টিকে আর পার্ক বলা চলে না কারণ সেখানে পার্কের সকল সরঞ্জাম নষ্ট ও খুলে ফেলা হয়েছে এখন শুধুই রেষ্টুরেন্ট ও রাজনৈতিক কার্যালয়ে পরিণত হয়েছে। কিন্তু প্রথম থেকেই পার্কটিতে সাধারণ মানুষের চলাচল ছিলো খুব কম। কারণ পার্কটিতে সাধারণ মানুষের থেকে বেশি চলাফেরা ছিলো রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের, সেখানে পরিবার পরিজন নিয়ে অনেকটা কম আসতো সাধারণ মানুষ।
তবে নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল ইকো পার্ক (নম পার্ক) নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের এমপি শামীম ওসমান এর সকল রাজনৈতিক কর্মকান্ড পরিচালনা করেন। এখানে যত রাজনৈতিক সভা ও সমাবেশ সকল কিছুই হয় এ পার্কে। পার্কের ভিতরে রয়েছে একটি ৩ তলা বিশিষ্ট রেস্টুরেন্ট। যেটাতে শাহ নিজামের একটি অফিস রয়েছে সেটা তার সকল অনুসারীদের আড্ডাস্থল হিসাবে পরিচিত। পার্কের অফিসেই বসে সকল কিছু পরিচালনা করেন শাহ নিজাম সেখানে প্রতিদিন বিকাল থেকেই নেতাকর্মীদের আনাগোনা শুরু হয়।
সূত্রে জানা যায়, ওসমান পরিবার যে পরিবারের দেশ জুড়ে রয়েছে নানা সুনাম। সে পরিবারের বড় ছেলে একেএম নাসিম ওসমানের নামে করা নারায়ণগঞ্জে প্রথম স্থাপনা নম পার্ক। নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের চারবারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য তিনি হঠাৎ করেই ২০১৪ সালের ১৮ এপ্রিল চিকিৎসার জন্য নাসিম ওসমানকে ভারতের দিল্লিতে চিকিৎসা নেওয়ার পর তিনি দেরাদুন যান। সেখানে একটি আবাসিক হোটেলে অবস্থানকালে আকস্মিক হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২০১৪ সালের ৩০ এপ্রিল মৃত্যু বরন করেন।
তার পরেই নাসিম ওসমানের নামে ২০১৬ সালের ১৫ ডিসেম্বর ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার কুতুবপুর এলাকায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও নারায়ণগঞ্জ চার আসনের এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর হিসাবে পরিচিত শাহ নিজামের মালিকার্ধীন নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল অ্যামিউজমেন্ট পার্ক (নম পার্ক) যেটি নানা আয়োজনের মাধ্যমে ঢাকডোল পিটিয়ে সারা শহরের মানুষকে দাওয়াত দিয়ে পার্কটি উদ্বোধন করা হয়।
নম পার্কে জুয়ার আসরসহ বিভিন্ন ক্যাটাগরীতে লাকি কুপন বিক্রি হচ্ছে এবং অশ্লীল কর্মকাণ্ডের ঘটনায় আজমেরী ওসমানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান। তিনি অবিলম্বে নমপার্কের অশ্লীল কমকাণ্ড বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন।
অথচ ২৫ জানুয়ারি নম পার্কে গিয়ে সাংসদ শামীম ওসমানের অনুসারী পার্কের তত্ত্বাবধায়ক মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহনিজামকে তা বন্ধ করার কথা বলে আসার ঘন্টাখানের মধ্যেই এমপির ফোনে আজমেরী ওসমানের ৬ সমর্থককে শহর ও শহরতলির বিভিন্ন জায়গা থেকে ৫৪ ধারায় গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তারা আদালত থেকে জামিন নেন। অথচ ঘটনারদিনই ভাতিজা আজমেরী ওসমানের পক্ষে অবস্থান নিতে পারতেন শামীম ওসমান।
কিন্তু শামীম ওসমান না পারলেও আজমেরী ওসমানের পক্ষে অবস্থান নিয়ে সেলিম ওসমান নমপার্কের কুকর্ম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন। নম পার্ক নিয়ে গত কয়েকদিনের সমালোচনার মধ্যেই গতকাল বিকেএমইএ ভবনে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় সভায় সেলিম ওসমান বলেন, যদি আজকের (২৯ জানুয়ারি) মধ্যে জুয়া বন্ধ না করা হয় তাহলে আগামীকাল আমি সংসদ শেষ করে, সেলিম ওসমানের নেতৃত্বে আমি পার্কসহ সকল কিছু উচ্ছেদ করবো।
যদি কোন বাপের বেটা থাকে তাহলে আটকাবে। চিলড্রেন পার্ক হিসাবে সেটাকে পার্ক বানানো হয়েছে, তার সাথে একটি রেষ্টুরেন্ট বানানো হয়েছে। সেখানে জুয়া চলবে, সেটা তো হতে পারে না। আজকে রাতে যেন কোন জুয়া না চলে, আমি আইনশৃংখলা বাহিনীর কাছে অনুরোধ করাবো আপনারা সেটা বন্ধ করুন। সেলিম ওসমান আরো বলেন, তিনি যত বড় নেতা হননা কেনো সেই এ কাজটা করতে পারবে না। নাসিম ওসমানের নামে করা নম পার্ক, দরকার হলে চুরি করবো; ডাকাতি করবো; মাইক বাজিয়ে লটারি করবো নারায়ণগঞ্জে।
নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের চার বারের নির্বাচিত সংসদ সদস্য নাসিম ওসমান, তার নামে পার্কে কে বলেছে এখানে জুয়া বসাতে? আমি চাই আজকের থেকে জুয়ার বোর্ড যাতে বন্ধ হয়। কারণ এখানে তো টিকেট এর মাধ্যমে তারা প্রবেশ করে, আমি আজকে সকালে সেখান গিয়ে ছিলাম, সেখানে গিয়ে দেখি কেউ নাই। আমার আগে নম পার্কের জুয়া নাসিম ওসমানের সন্তান আজমীর ওসমান বন্ধ করার জন্য চেষ্টা করেছে, আমি তাকে ধন্যবাদ জানাই।
যদিও সোমবার বিকালে নম পার্ক নিয়ে সেলিম ওসমানের বক্তব্যের পরপরেই সন্ধ্যায় নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক ও এমপি শামীম ওসমানের ঘনিষ্ঠ সহচর ও নাসিম মেমোরিয়াল অ্যামিউজমেন্ট পার্কে (নম পার্ক) এর তত্বাবধায়ক শাহ নিজারম তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোষ্টে বলেন, ‘সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, ইদানিং নম পার্ক নিয়ে কিছু বিভ্রান্তিমুলক তথ্য আমাকে কিছু জিজ্ঞেস না করেই প্রচার করা হচ্ছে।
বিগত ৯ বছর যাবৎ এই পার্কটি চলছে। এ পর্যন্ত এমন কোন কাজ করা হয়নি যা পার্কের নামকরণের বিন্দুমাত্র সম্মানহানিকর। শুরু থেকেই এই পার্ক লোকসানে আছে। কিন্তু অনেক কষ্ট হলেও পার্কটি বন্ধ করিনি। গত কিছু দিন আগে আমি যখন নারায়ণগঞ্জের একটি সামাজিক সংগঠনের প্রোগ্রাম নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম তখন আমার পার্কের কর্তৃপক্ষের লোকের সাথে একটি ইভেন্টের সাথে চুক্তি হয় মেলা করার, যাতে পরিষ্কারভাবে লিখা আছে, এখানে কোন জুয়া, অশ্লীল ও অসামাজিক কাজ করা যাবে না।
ব্যস্ততার কারণে আমি পরিপূর্ণ খেয়াল রাখতে পারিনি, যার সুযোগে কিছু লোক আমার বক্তব্য ছাড়াই নিজেদের ইচ্ছে মতো সংবাদ পরিবেশন করেছেন, যা আমি মনে করি এটা সাংবাদিকতার নিয়মের বাইরে। আমি যখন ভালোভাবে জানতে পারলাম তখনি পার্ক কর্তৃপক্ষকে এই মেলা বন্ধের নির্দেশ প্রদান করি। আমার রাজনীতির দীর্ঘ ৩৮/৩৯ বছর বয়সে নারায়ণগঞ্জে এমন কোন কাজ নিজ স্বার্থে করিনি, যাতে মানুষ খারাপ বলবে।
আমি আমার নিজের স্বার্থের প্রয়োজনে, এমন কোন কাজ করিনি যে কাজের জন্য আমার নেতা শামীম ওসমানের সম্মান ক্ষুন্ন হবে। ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট চুক্তির বাইরে কাজ করার কারণে চুক্তি পত্র বাতিল করে মেলা বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আমি রাজনীতি করি আদর্শের, কোন ধান্দার রাজনীতি করি না, এটাই আমার সাহস এটাই আমার সততা।’
যে মেলা নিয়ে নমপার্কের নানা কুকর্ম বেরিয়ে আসে তাতে দেখা যায়, গ্রামীণ বা চরাঞ্চলে দেখা মেলে ‘লাকি কুপন বা লটারি’ বিক্রির কার্যক্রম। নানা প্রলোভনে এইসব লাকি কুপন বিক্রির ফাঁদে পড়ে নিঃস্ব হতে দেখা যায় দিনমজুর, রিকশাচালকদের মতো নিম্নআয়ের মানুষদের। গত বেশ কয়েকদিন ধরে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় নাসিম ওসমান মেমোরিয়াল পার্কেও চলছে একই কার্যক্রম। অভিযোগ রয়েছে, পার্কটির পরিচালনার দায়িত্বে থাকা মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক শাহ নিজামের তত্ত্বাবধানেই চলছে এই লটারি বা লাকি কুপন বিক্রি। যদিও এই বিষয়ে অবগতছিলেন না বলে দাবি স্থানীয় প্রশাসনের।
স্থানীয়রা জানান, প্রতিদিন পার্কটির আশেপাশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাটারিচালিত রিকশায় ঘুরে ঘুরে মাইকিং করে ‘লাকি কুপন’ বিক্রি করা হয়। এইসব কুপন বিক্রির সময় ‘গাড়ি, অটোরিকশা, মোটরসাইকেল, টিভি’ জেতার প্রলোভন দেখানো হয়। আর এই প্রলোভনের ফাঁদে পা দিয়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন খেটে খাওয়া নিম্নআয়ের মানুষজন। প্রতি কুপনের মূল্য ২০ টাকা। অনেকে আকর্ষনীয় পণ্য পাওয়ার আশায় একাধিক কুপনও কিনছেন। দিনশেষে রাতের বেলা ‘র্যাফেল ড্র’ এর মধ্য দিয়ে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। বিজয়ীদের নাম ঘোষণায় ‘দেশ জনতা টিভি’ ও ‘ক্যাবল চ্যানেল’ ব্যবহার করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘লাকি কুপন’ বিক্রির নামে প্রতারণার ফাঁদ তৈরি করা হয়েছে। এদের প্রধান টার্গেট রিকাশাচালক, ভ্যানচালক, দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষজন। অনেকেই তাদের দৈনিক উপার্জন করা টাকা দিয়ে পরিবারের জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় চাল, ডাল, তেল না কিনে ‘ভাগ্য পরীক্ষায়’ কিনছেন ‘লাকি কুপন’। কিন্তু দিনশেষে অধিকাংশ ব্যক্তি প্রতারিত হচ্ছেন এবং খোয়াচ্ছেন তাঁর দৈনিক উপার্জন।
‘লাকি কুপন’ কেনা একাধিক ব্যক্তির সাথে কথা হলে নাম প্রকাশ না করার শর্তে তারা বলেন, ‘র্যাফেল ড্র’তে বিজয়ী কুপনের সাথে কেনা কূপনের নম্বর মিললেই তবে পাওয়া যাবে মোটরসাইকেল, টিভি, ফ্রিজের মতো দামি পণ্য। তারা দামি পণ্য লাভের আশায় প্রতিদিনই কুপন কিনছেন। কেউ কেউ দৈনিক ১০-১২টা করেও কুপন কিনছেন। দেখা যায় এতে দৈনিক উপার্জনের টাকা নিয়ে আর বাড়ি ফেরা হয়। পরে চাল, ডাল কিনতে টাকা ধার করতে হয়।
এ বিষয়টি নজরে এলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দেদারুল ইসলাম ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মৌসুমী বাইন হীরা ব্যবস্থা নেয়া আশ্বাস দেন। প্রয়াত জনপ্রিয় সংসদ সদস্য নাসিম ওসমানের নামে গড়ে তোলা পার্কটিতে তার দুই ভাই সেলিম ওসমান ও শামীম ওসমান এমপি থাকাবস্থায় এমন কর্মকাণ্ড ঘটতে পারে তা কেউ ক্ষুনাক্ষরে চিন্তাও করতে পারতো না। তবে আজমেরী ওসমান যেভাবে নিজেই পার্কে গিয়ে এসবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে এসেছেন তাতে তিনি শহরবাসীর বাহবা ও প্রশংসা পেয়েছেন।
তবে আজমেরী ওসমানের এই প্রতিবাদের পর কেনই বা তার কর্মীদের ধরতে সারারাত ধরে পুলিশের অভিযান পরিচালনা করা হল, কার ফোনেই বা প্রশাসন এতোটা তৎপরতা দেখালো তা নিয়ে নানা ধুম্রজাল এবং মুখরোচক আলোচনা তৈরি হয়েছে শহর জুড়ে। এস.এ/জেসি


