Logo
Logo
×

বিশেষ সংবাদ

এস.এম রানার ভাই মাসুমও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন

Icon

যুগের চিন্তা রিপোর্ট

প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৩ পিএম

এস.এম রানার ভাই মাসুমও মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলেন
Swapno

 

# সৈয়দপুর বরফকল গলি থেকে মাসুদকে দুই বস্তা ফেন্সিডিলসহ আটক করেছিল পুলিশ

 

 

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সার্ভেয়ার থেকে ৪২ লাখ টাকা কাণ্ডে বেশ কয়েকটি তদন্তকারী টিম মাঠে নেমেছে। জনৈক রানা যে নিস্তার পাচ্ছেন না তা অনেকটা অনুমিত। এই ঘটনার পর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় কি করে আঙুল ফুল কলা গাছ প্রবাদকে ছাপিয়েও সমুদ্র চুরির ঘটনা ঘটানো যায় তার প্রমাণ দিয়েছেন ওই রানা। ভূমির দালালি করে শত কোটির টাকার মালিক এস.এম রানা। যিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জ ক্লাবের সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন। এক সময় টিনসেট ঘরে বসবাস করলেও এখন তার হয়েছে গাড়ি, বাড়ি সহ বিভিন্ন জায়গা জমির মালিক।

 

জানা যায়, এস.এম রানার পিতা কমল মিয়া পেশায় ছিলেন বাস চালক। তিন ভাইয়ের মধ্যে রানা ছিলেন বাবা-মায়ের বড় ছেলে। সংসারের হাল ধরার জন্য প্রিন্টের ছাপা কারখানায় ২০০ টাকা মাসে বেতনে হেলপারি কাজ করতেন রানা। পরবর্তীতে হেলপার থেকে রংয়ের মাস্টার হন। এর পরে মাদার প্রিন্ট নামে সুলতাল গিয়াসউদ্দিন রোড় শীতলক্ষ্যা এলাকায় একটি প্রিন্টের কারখানা দেন। সেই প্রিন্টের কারখানাটি তারা তিন ভাই পরিচালনা করতে। এছাড়াও সেই প্রিন্ট কারখানার পাশাপাশি তারা মাদকেরও ব্যবসা করতেন।

 

সূত্রে জানা যায়, রানার মেঝো ভাই এস.এম মাসুদ তিনি ছিলেন মাদক ব্যবসায়ী। প্রায় পাঁচ বছর আগে নাসিক ১৮নং ওয়ার্ডের আল-আমিন নগর কড়ইতলা এলাকায় তাদের একটি বাড়ি থেকে সদর থানার পুলিশ এ.এস.আই সামসু দুই বস্তা ফেন্সিডিল সহ মাসুদকে আটক করেন। জানা যায়, সৈয়দপুর কড়ই তলায় খালেক সাহেব নামে এক জনের থেকে ক্রয়সূত্রে একটি জায়গা কিনেন এস.এম রানা। সেই জায়গায় সদর থানার পুলিশ সিভিল পোষাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রানার ভাই মাসুদকে দুই বস্তা ফেন্সিডিলসহ আটক করেন।

 

এই বিষয়ে নাসিক ১৮নং ওয়ার্ডের বরফকল গলির একজন বাসিন্দা জানান, অনেক বছর আগে রানার ভাই মাসুদকে পুলিশ ফেন্সিডিলসহ আটক করেন। পরে সেই মামলায় সে জেলেও যায়। তিনি আরও বলেন, সেই সময় পুলিশের খবর পেয়ে তারা ফেন্সিডিলের বোতল জায়গার পেছনে ঢিল মেরে ফেলে দেয়। তিনি আরও জানান, বর্তমানে রানার এই ভাই দেশের বাইরে রয়েছেন। সেখানে নাকি তাদের ব্যবসা আছে।

 

সূত্রে আরও জানা যায়, রানা ভুমির দালালির সব টাকা দেশের বাহিরে তার ভাইদের কাছে পাঠান। এদিকে দুদকের মামলার পর থেকে বিভিন্ন মহলে দৌঁড়ঝাঁপ শুরু করেছেন রানা। দুদকের মামলায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সার্ভেয়ার কাউসার গ্রেফতার হওয়ার পরপরই রানা নামের এক ব্যক্তির নাম বলেন যিনি একজন প্রভাবশালী এমপির প্রভাবশালী শ্যালকের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন।

 

স্থানীয়দের সাথে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিতাইগঞ্জ, গোগনগর ও পঞ্চবটি-মুন্সিগঞ্জ ফ্লাইওভার প্রকল্পের জমি অধিগ্রহণ এলাকায় জনে জনে এই রানা (মাদার প্রিন্টের মালিক) এই ভূমি অধিগ্রহণের জায়গা বন্দোবস্তের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। রানার অন্যতম সহযোগী অস্থায়ী নিয়োগকৃত নিতাইগঞ্জ এলাকার রনি এসব কর্মকাণ্ড রানার পক্ষ হয়ে সকল দেনদরবার করতেন। যদিও থলের বেড়াল বেরিয়ে আসায় মাদার প্রিন্টের সত্ত্বাধীকারী রানা এখন তার বিরুদ্ধে জনমুখে উঠা বিশাল অভিযোগের ফিরিস্তি অস্বীকার করছেন।

 

এতো বিরাট এলাকার মানুষের দেয়া ফিরিস্তিকে তিনি বানোয়াট  ও মিথ্যা  কল্পনাপ্রসূত বলে উড়িয়ে দিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ দিচ্ছেন। ৪২ লাখ টাকা কাণ্ডের ঘটনার পর থেকে রানার নাম আলোচনায় আসার পর থেকেই তিনি নানাভাবে নানাজনকে দিয়ে গণমাধ্যম ম্যানেজ করার চেষ্টা করেছেন। এমনকি বক্তব্যের জন্য তাকে ফোন দিলেও  তিনি এসব অভিযোগ খন্ডন না কইে বলেন, ‘আমার নামে অভিযোগ থাকলে সেটা নেন। আমি মিটিংয়ে ব্যস্ত আছি। আপনি যা করার করেন বলে ফোনকল কেটে দেন।’

 

পরবর্তীতে বেশ কয়েকদিন তার মোবাইল ফোন বন্ধ করে রাখেন। নানাদিকে দৌঁড়ঝাঁপের কয়েকদিন পর তাকে ফোন দেয়া হয়নি বলে মিথ্যা সাফাই গেয়ে মুখ লুকোনোর চেষ্টা করেছেন। তার ভাই যে দুইবস্তা ফেনসিডিলসহ গ্রেফতার হয়েছিলেন, এবং ফেনসিডিল বর্তমান ১৮নং ওয়ার্ডে নাসিকে বর্জ্যরে ডাম্পিংয়ে ফেলেছিলেন তাও এড়িয়ে গেছেন। প্রতারণা আর প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় তিনি তার ও তার পরিবারের অতীত কুকর্ম আড়াল করে ভালো সাজার চেষ্টা করছেন। যেহুতু কয়েকটি টিম তদন্তে নেমে এসেছে রানার কুকর্ম তিনি কিছুতেই ঢাকতে পারবেন না। 

 

সুত্রমতে, ঘুষ কেলেঙ্কারির ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে কার্টুনে ভর্তি ৪২ লাখ টাকা উদ্ধারের পর জেলা প্রশাসকের সার্ভেয়ার কাউসার গ্রেপ্তার, এডিসি রাজস্ব সালাউদ্দিন মঞ্জু ওএসডি এবং ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা খাদিজা বেগমকে সরানো হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনার পারদ যেখানে নিম্নমুখী তখন নতুন তথ্য দিয়ে আবারও এই ইস্যুকে আলোচনায় আনলেন সাংসদ শামীম ওসমান। ৪২ লাখ টাকার কান্ডে দুদকের দেয়া মামলার সাথে দ্বিমত পোষন করে এই ঘটনাকে নতুন মোড় দেয়ানোর জন্য মন্তব্য করেছেন সাংসদ শামীম ওসমান।

 

এমপি শামীম ওসমান বলেছেন, এমন কোন কাজ করি না যে, আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করবো। অনেকেই অনেক কিছু করেন, আমরা সব দেখি। টাকা ধরা পড়ে যাত্রাবাড়িতে আর তা উদ্ধার দেখান ফতুল্লাতে। তবে তিনি কিসের টাকার কথা বলেছেন তা উল্লেখ্য না করলেও কারো বুঝতে বাকি নেই। কেননা নারায়ণগঞ্জে সদ্য ৪২ লাখ টাকার ঘটনা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ ছাড়িয়ে ঢাকা সহ সারাদেশে তা নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়ে গেছে। সেই সাথে সচেতন মহল মনে করেন শামীম ওসমান যেই টাকার কথা নিয়ে মন্তব্য করেছেন তা দুদকের উদ্ধার করা ৪২ লাখ টাকা। এস.এ/জেসি

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher
ই-মেইল: [email protected]

অনুসরণ করুন